Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

পূর্ব পাকিস্তানের পতাকা কোথাও ওড়েনি

হোসেন মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

আজ ২৩ মার্চ। স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত জনগণ কোনোক্ষেত্রেই আর পাকিস্তানের রক্তচক্ষু প্রদর্শন, অন্যায় আদেশ, তর্জন-গর্জন মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। তার প্রকাশ ঘটে পাকিস্তান টেলিভিশন সার্ভিসের ঢাকা কেন্দ্রের একটি ঘটনায়।
এদিন রাতে সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের একজন কর্তাব্যক্তি টেলিভিশন অফিসে কর্মরত কর্তৃপক্ষকে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য বলেন। কিন্তু টিভি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে। সামরিক কর্মকর্তার উপর্যুপরি চাপ সৃষ্টির প্রেক্ষিতে পরে রাত ১২টা এক মিনিটের সময় তারা পাকিস্তানের পতাকা প্রদর্শন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। কিন্তু তারা পরদিন (২৪ মার্চ) ধর্মঘট করেন।
এদিন ন্যাপ প্রধান মওলানা আবুুল হামিদ খান ভাসানীর আহ্বানে ‘স্বাধীন পূর্ব বাংলা দিবস’ উপলক্ষে বিকেলে পল্টন ময়দানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঘোষণা করা হয়, স্বাধীনতার স্লোগানের আর কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। এখন এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালাতে হবে।
সভায় অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতিতে প্রেরিত এক বিবৃতিতে মওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের নিকট স্বাধীন ও সার্বভৌম পূর্ব বাংলাকে সর্বান্তকরণে স্বীকার করার আকুল আবেদন জানান। তিনি বলেন, তাতে উভয় অঞ্চলের বন্ধুত্ব অক্ষুন্ন থাকবে। স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আজ প্রতিরোধ দিবস পালন করে।
এদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের জয় বাংলা বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ সেই ভাল সিপাহশালার যে অল্প রক্ত খরচে সাফল্য অর্জন করতে পারে।’ শেখ মুজিব পুনরায় ঘোষণা করেন যে, দাবি আদায়ের প্রশ্নে কোন আপোস নেই।
তিনি বলেন, আমি দাবি আদায়ের জন্য যে পদক্ষেপই গ্রহণ করি তা বাঙালির মুক্তির জন্যই হবে এবং কর্মপন্থা নির্ধারণের দায়িত্ব আমার ওপরই ছেড়ে দিন।’ জয় বাংলা বাহিনীর তরুণদের উদ্দেশ্য করে শেখ মুজিব বলেন, ‘আপনারা আরো ট্রেনিং গ্রহণ করুন এবং আরো ভালোভাবে প্রস্তুত হোন। ৭ কোটি বাঙালির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।’
এদিন পাকিস্তান দিবসে পূর্ব পাকিস্তানে ক্যান্টনমেন্ট, প্রেসিডেন্ট হাউস ও গবর্নর হাউস ছাড়া কোথাও পাকিস্তানের পতাকা ওড়েনি, ওড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা। এমনকি বৃটিশ ও রুশ দূতাবাসে পর্যন্ত স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ে। এদিন শেষ বিকালে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে পশ্চিম পাকিস্তানের ৪টি রাজনৈতিক দলের ৬ জন নেতা আসেন। তারা ৯০ মিনিট স্থায়ী এক বৈঠকে মিলিত হন।
নেতারা ছিলেন কাউন্সিল মুসলিম লীগের মিয়া মমতাজ দৌলতানা ও সর্দার শওকত হায়াত খান, ওয়ালী ন্যাপের খান আবদুল ওয়ালী খান ও গাউস বক্স বেজেঞ্জো, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মুফতী মাহমুদ এবং জমিয়তে ওলামায়ে পাকিস্তানের মাওলানা নূরানী। বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোমতাজ দৌলতানা বলেন যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা সাধারণভাবে আলোচনা করেছেন।
এদিন ছাত্র, মহিলা, শ্রমিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহু সংখ্যক মিছিল শেখ সাহেবের বাসায় আগমন করে। শেখ সাহেব প্রত্যেকের উদ্দেশে ভাষণ দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বাধীনতা


আরও
আরও পড়ুন