Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

সিনেমা মহরতের নামে একটি শ্রেণীর প্রতারণা

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৯ এএম

অনেক দিন ধরেই চলচ্চিত্রের নামে ভুয়া মহরত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঘটা করে সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই সিনেমা আর আলোর মুখ দেখে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, মহরতের নামে যেসব সিনেমা ও নায়ক-নায়িকার নাম ঘোষণা করা হয়, তার পেছনে রয়েছে অসৎ উদ্দেশ। এর মাধ্যমে অবাঞ্চিত মেয়েদের নায়িকার তকমা লাগিয়ে দিয়ে ডিমান্ড বাড়ানো হয়। যাদের নায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় তারা কথিত প্রযোজক ও পরিচালকের দ্বারা প্রতারণার শিকার হন। অর্থের বিনিময়ে তাদের নায়ক বানিয়ে দেয়ার লোভ দেখানো। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজারে কিছু রেকর্ডিং স্টুডিওতে অপেশাদার লোকজন প্রতারণার মাধ্যমে সিনেমার মহরত করে। এর সঙ্গে এফডিসির কয়েকজন অসাধু লোকও জড়িত বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ স¤পাদক জায়েদ খান বলেন, ফেসবুকে এত এত নায়ক-নায়িকা দেখি, অথচ এদের কাউকে চিনি না। দুদিন পরপর দেখি অডিও স্টুডিওগুলোতে ছবির মহরত হচ্ছে। যেসব নায়ক-নায়িকাকে দেখি, তারা তো নিজের দিকেই তাকিয়ে দেখে না। একটা কেক কাটে, পেছনে ব্যানারে লেখা থাকে মহরত। তিন-চারটা নায়িকা নিয়ে মহরত হয়ে যায়। এসব আসলে এক ধরনের প্রতারণা। প্রযোজ নামধারীরা অসৎ উদ্দেশ্যে মেয়েগুলোকে ব্যবহার করছে মহরতের নামে। আর যাদের নায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় তারা দুই-তিন লাখ টাকা করে দেয়। আর যেসব মেয়েদের নায়িকা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় তারা একজন ব্যবসায়ীকে ফুঁসলিয়ে চলচ্চিত্রে এনে অসৎ কাজে লিপ্ত হয়। তাদের সিনেমা কোনো দিনই আলোর মুখ দেখে না। অসৎ উদ্দেশ নিয়ে সিনেমাকে ব্যবহার করছে। আমি মনে করি, এইসব কথিত সিনেমার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি দেয়া উচিত। এগুলো অপরাধ, যা প্রকাশ্যে করা হচ্ছে। এসব নায়ক-নায়িকার জন্য আমাদের শিল্পীদের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে, চলচ্চিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, এসব কথিত সিনেমার মূল কারণ নায়িকা। নিজের সামাজিক ও অসামাজিক দাম বাড়াতে নিজেদের নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। চলচ্চিত্রের বাইরের মানুষগুলো তো আর জানেন না, এরা কোন শ্রেণীর নামধারী নায়িকা। আমি মনে করি, এসব সিনেমার নামে প্রহসন আমাদের চলচ্চিত্রের ইমেজ নষ্ট করছে। কারণ অনেকেই এসব নায়ক-নায়িকাকে দেখেই চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করছে। তিনি বলেন, আমাদের এফডিসির সব মানুষ ভালো তা নয়, আমাদের মধ্যেই কিছু ঠকবাজ, অসাধু মানুষ রয়েছেন, যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত। এই মানুষগুলোকেও চিহ্নিত করা উচিত। পরিচালক গাজী মাহাবুব বলেন, গণতন্ত্রের যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি খারাপ দিকও আছে। এখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাইলে কাউকে জিজ্ঞেস করতে হয় না। স্বাধীনভাবে যার ইচ্ছা সেই সিনেমা নির্মাণ করতে পারে। এতে করে যেমন ভালো কিছু হচ্ছে, তেমনি মগবাজারের মহরতের সিনেমার মতো খারাপ সিনেমা বা প্রতারণাও হচ্ছে। আমার মনে হয়, এখনই এসব প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল বলেন, এটা শুরু হয়েছে চলচ্চিত্র ডিজিটাল হওয়ার পর থেকে। এর আগে যখন ৩৫ মিলিমিটারে চলচ্চিত্র নির্মাণ হতো, তখন এমনটা হতো না। কারণ তখন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাইলে এফডিসির সরকারি খাতায় নাম লেখাতে হতো। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য জমা দিতে হতো। শূটিংয়ের তারিখ, লোকেশনসহ প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী সমিতিতে, শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের নাম জমা দিতে হতো। এখন তো মগবাজারে একটি স্টুডিও দুই হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়ে মহরত করে সিনেমা ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছে। যদিও বেশির ভাগ সিনেমা আলোর মুখ দেখে না, তবে যে দু-একটা সিনেমা মুক্তি পায়, সেগুলো আমাদের অবস্থান নষ্ট করে। আমি মনে করি, এই বিষয়টি সেন্সর বোর্ডের নজরে আনা প্রয়োজন। সেন্সর বোর্ডের সদস্য প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, এই সিনেমাগুলোর বেশির ভাগই সেন্সর বোর্ড পর্যন্ত আসে না। কোনো সিনেমা হলে মুক্তিও পায় না। স্থানীয়ভাবে ডিশ চ্যানেলে প্রচার করে। আবার অনেকে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে চালিয়ে দেয়। আমি মনে করি, এই বিষয়গুলোও নজরদারির মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ