Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

সরকার দেশকে বিক্রি করে দাসে পরিণত হয়েছে

গণঅনশনে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

বর্তমান সরকার দেশকে পরাশক্তির কাছে বিক্রি করে দাসে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই সরকার (আওয়ামী লীগ) জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে, বন্দুক-পিস্তল ব্যবহার করে, বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। তারা বাংলাদেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে এবং ইতোমধ্যে অনেকাংশে করেও ফেলেছে। বাংলাদেশ এখন একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- দেশকে নতজানু ও পরনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। গতকাল (শনিবার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতীক গণঅনশনে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে শতাধিক নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সম্বলিত নানা প্ল্যাকার্ড বহন করে। তিন ঘণ্টার অনশন কর্মসূচি শেষে পানি পান করিয়ে বিএনপি মহাসচিব অনশন ভঙ্গ করান।
এসময় বর্তমান সরকারকে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে তুলনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকারের (আওয়ামী লীগ) সঙ্গে পাক হানাদার বাহিনীর কোনো পার্থক্য আমি খুঁজে পাই না। কী ভয়ংকর কথা- যে মহিলাকে নোয়াখালীর সূবর্ণচরে যে ব্যক্তির নির্দেশে গণধর্ষণ করা হলো সেই নির্দেশকারী আওয়ামী লীগ নেতাকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন দেয়া হয়েছে এক বছরের জন্যে। অথচ আমাদের এখানে শত শত হাজারো নেতাকর্মী আছেন যাদের বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে আটক করে রাখা হয়েছে তাদেরকে জামিন দেয়া হয় না। অন্যদিকে দুর্নীতির দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহীউদ্দিন খান আলমগীরসহ আওয়ামী লীগের নেতারা জামিন পান।
সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো আইন নেই, কোথাও কোনো বিচার নেই, এখানে আইনের শাসন নেই, প্রশাসন চলে না। সড়কের কী অবস্থা হয়েছে? প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। আজকে দেখছেন ক্রাইম বেড়েছে, কোথাও কোনো বিচার নেই্। কোথায় গেলে বিচার পাওয়া যাবে? কারণ দেশে কোনো সরকার নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য, জনগণকে রক্ষা করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। কারণ তিনি হচ্ছেন আমাদের প্রতীক, সংগ্রামের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আসুন আমরা সবাই সেই উদ্দেশ্যে সাহস নিয়ে আসি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করি, দেশনেত্রীকে মুক্ত করি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আশফাক খন্দকারের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, রফিক হাওলাদারসহ নবাবগঞ্জ, দোহারের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এরআগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সমগ্র দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। মানুষের অধিকারকে তারা কেড়ে নিচ্ছে, আজকে কবিকে তারা কারাগারে পাঠায়, সাহিত্যিককে তারা কারাগারে পাঠায়, শিল্পীকে কারাগারে পাঠায় এবং সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠায়। কেউ এতোটুকু ভিন্নমত পোষণ করলে তার ওপর নির্যাতন নেমে আসে। কিছুদিন আগে দেখেছেন যে, ভারতের অরুন্ধতী রায় যিনি বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন তার লেখার মধ্য দিয়ে, ভিন্নমতের লেখক। তিনি ঢাকায় এসছিলেন একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে। সেই ভ্যানু বন্ধ করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কিছুটা ভয় পেয়ে পরে বক্তব্য রাখতে দিয়েছে। আমার প্রশ্নটা সেই জায়গায় আজকে যারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না, যাদের মধ্যে নূন্যতম সহনশীলতাটুকু নেই তারা গণতন্ত্রের কথা বলতে কেনো? তাদের সরাসরি নর্থ কোরিয়ার কিমের মতো বলা উচিত যে, আমি একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি, আমি যেটা বলব সেটাই আইন। একটা ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, প্রতারণা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালানো হচ্ছে।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর উদ্যোগে কবি আল মাহমুদের স্মরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কবির বর্ণাঢ্য জীবন ও তার সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আল মাহমুদ সাহেবকে শহীদ মিনারে নিয়ে সম্মান দেখানো হয়নি। এরা সম্মান দেখাবে কোত্থেকে। আমার সন্দেহ হয় যে, তারা (আওয়ামী লীগ) কী সেই একুশের চেতনা বিশ্বাস করে? করে না। তারা কী একাত্তরের চেতনাতে বিশ্বাস করে। করে না। যে স্বাধীনতার কথা তারা মূহুর্মূহু বলতে থাকে তার কতটুকু তারা বিশ্বাস করে? তিনি বলেন, আল মাহমুদকে আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুব শ্রদ্ধা করতেন। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডিন্ট জিয়াউর রহমানের সাথেও তার অনেক ঘনিষ্টতা ছিলো। এই ঘনিষ্টা ব্যক্তিগত নয়, এই ঘনিষ্টতা চেতনার ঘনিষ্টতা, আদর্শের ঘনিষ্টতা, এই ঘনিষ্টতা হচ্ছে রাজনীতির ঘনিষ্টতা অর্থাৎ যে রাজনীতি মানুষ বিশ্বাস করে, জনগণ বিশ্বাস করে তার ঘনিষ্টতা।
সংগঠনের সহ-সভাপতি বাবুল আহমেদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সাংবাদিক আলমগীর মহিউদ্দিন, কবি আবদুল হাই শিকদার, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। #



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ