Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ভোটের মুখে শাড়ির লড়াই মোদি-প্রিয়াঙ্কার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ মার্চ, ২০১৯, ৮:১১ পিএম

ভারতের জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসও বাকি নেই। তার আগে নরেন্দ্র মোদির এলাকাতেই তাকে জোর টক্করে ফেলেছেন সম্প্রতি সক্রিয় রাজনীতিতে আসা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তবে, ভোট প্রচারে নয়। শাড়ি-পোশাকে। প্রচারের তাপমাত্রা যত বাড়ছে, নারী-পুরুষের পরিধেয় শাড়ি-জ্যাকেটে ততই জাঁকিয়ে বসছে মোদি-প্রিয়াঙ্কা-পুলওয়ামা-উরি সব প্রতিকৃতি।

দেশের সবচেয়ে বড় শাড়ি তৈরির ক্ষেত্র গুজরাটের সুরাতে এখন দেদার বিক্রি হচ্ছে ‘প্রিয়াঙ্কা শাড়ি’। ‘মোদি-শাড়ি’র বিক্রি বাড়ছে মুম্বাইয়ে। সেই তুলনায়, অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ‘মোদি-জ্যাকেট’-এর বিক্রি। অবশ্য, এটা শীতকাল নয়। তাই, জ্যাকেট বিক্রিও কম। সেই জায়গায় নতুন আমদানি উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার বিভিন্ন ছবি ছাপা শাড়ি। যা পরোক্ষে মোদির সরকারেরই প্রচারের হাতিয়ার হচ্ছে।

পাঁচ বছর আগে ভোটযুদ্ধে নরেন্দ্র মোদির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল ‘মোদি-শাড়ি’। যেখানে ডিজিটাল প্রিন্টিং এর সাহায্যে গেরুয়া-সবুজ রঙের প্রেক্ষাপটে ছাপা ছিল নরেন্দ্র মোদির বিশালাকার মুখাবয়ব। বিরোধীদের কল্পনায় তখনও ভোটপ্রচারের এই ‘অস্ত্র’ ঠাঁই না পাওয়ায় সুরাটেরই কারিগরদের তৈরি ‘মোদি-শাড়ি’ বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়ে ছেয়ে গিয়েছিল সারা দেশে। এ বার ছবিটা অবশ্য বদলে গিয়েছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সক্রিয় রাজনীতিতে নামায় এবং গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ভালো ফল করায়। সুরাট এবং মুম্বাইতে আগের নির্বাচনের মতোই ‘মোদি-শাড়ি’ বিক্রি বহাল থাকলেও সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে খুব একটা পিছিয়ে নেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বা তার ভাই রাহুলের প্রতিকৃতি ছাপা শাড়ি।

সুরাতের অন্যতম শাড়ি বিক্রেতা গৌরব শ্রীমালি নিজে কংগ্রেস সমর্থক। ফলে গত নির্বাচনে ‘মোদি-শাড়ি’র সাফল্য দেখে এ বার প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল গান্ধীর প্রতিকৃতি দেওয়া শাড়ি বাজারে এনেছিলেন নিজের উদ্যোগেই। শ্রীমালিকে সঙ্গ দেন তারই কিছু পরিচিত কংগ্রেস মনোভাবাপন্ন শাড়িবিক্রেতা। বাজারে আসার পরেই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘প্রিয়াঙ্কা শাড়ি’।

অন্য দিকে, মুম্বাই শহরে দোকানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ‘মোদি-শাড়ি’। শহরের এক শাড়ির দোকানের কর্ণধার বিনোদ গাদার কথায়, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই এই শাড়ি বাজারে এনেছিলেন তারা। প্রথম দিকে বিক্রি তেমন গতি না পেলেও গত ১ বছরে ২,২০০-এর বেশি শাড়ি বিক্রি করেছেন তারা। সামনে ভোট এসে যাওয়ায় মাত্র ১,৭৫০ টাকা দামের এই শাড়ি বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বিক্রি অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

'মোদি-শাড়ি'র জোয়ারের মাঝে অনেকটাই ভাটার টান এখন ‘মোদি-জ্যাকেট’-এর বিক্রিতে। পিনস্ট্রাইপড মোদি জ্যাকেট বিক্রি করে বছরে ৭ কোটি টাকারও বেশি লাভ করেছিল মোদি জ্যাকেট-মোদি কুর্তার জনক আমদাবাদের সংস্থা ‘জেড ব্লু’। এই সংস্থা থেকে নরেন্দ্র মোদি তার কুর্তা-জ্যাকেট বানানো শুরু করেছিলেন তিন দশক আগে, ১৯৮৯ সালে, যখন তিনি আরএসএস এর প্রচারক ছিলেন। ২০১৪-১৭, মোদি জমানার প্রথম ৩ বছরে এর বিক্রি গড়ে বেড়েছিল ১৩ শতাংশ হারে। গত বছর থেকে ভাটার টান দেখা গিয়েছে মোদি-জ্যাকেট বিক্রিতে। ঔরঙ্গাবাদের দোকানে-দোকানে একসময় হট-কেক এর মতো বিক্রি হত মোদি-জ্যাকেট। সেই হাওয়া এখন নেই। স্থানীয় এক বিপণির মালিকের দাবি, গত কয়েক বছরে দিনে গড়ে ৩০-৩৫ করে মোদি-জ্যাকেট বিক্রি করলেও এখন তা দিনে ১-২টিতে নেমে এসেছে, তাও মাসের সবদিন তা বিক্রি হয় না। অন্যদের কারও কাছে জমে আছে বিপুল পরিমাণ স্টক অথচ ক্রেতা নেই। আবার কারও কাছে থাকা এই জ্যাকেট তৈরিতে বিশেষজ্ঞ কারিগরকে চাহিদা না থাকার জন্য অন্য কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, অন্যান্য রাজ্যেও মোদি-জ্যাকেটের বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। গত বছর খোদ রাজধানীতে কনট প্লেসে অবস্থিত তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর মোদি-জ্যাকেট বিক্রি করা শুরু করেছিল খাদি ইন্ডিয়া। শুধু এই স্টোরেই অক্টোবর মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, তারপর থেকে সেই অঙ্ক ক্রমশ নিম্নগামী। কর্তৃপক্ষের আশা, ফের নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এলে মোদি-জ্যাকেটের বিক্রি প্রাণ পাবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ