Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

মিরাজের দ্বিতীয় পর্ব সপ্তাকাশ ভ্রমণ

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ২৬ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু যর রা. হতে বর্ণিত আছে, বায়তুল মাকাদিসের নামাজের ইমামত সমাপ্তির পর নবী মুহাম্মাদ সা. বোরাকে আরোহন করলেন। যখন তিনি প্রথম আকাশে উপস্থিত হলেন, তখন জিব্রাঈল আ. আকাশের দারোগাকে বললেন, দরজা খোল?
জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি উত্তরে দিলেন, আমি জিব্রাঈল আমীন। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সাথে কি কেউ আছে? বললেন হ্যাঁ, আমার সাথে ইমামুল মুরসালিন মুহাম্মাদ সা. আছেন। আবারো জিজ্ঞেস করা হল- তাকে কি আহ্বান করা হয়েছে? তিনি বললেন হ্যাঁ। একথা শুনে দ্বাররক্ষী ফিরিশতা আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ বলে দরজা খুলে দিলেন। সাইয়্যেদুল মুরসালিন প্রথম আকাশে আরোহন করলেন। সেখানে তিনি একজন বৃদ্ধ লোককে বসে থাকতে দেখতে পেলেন। তার ডানদিকে ও বামদিকে অনেকগুলো রূহ বা প্রাণশক্তি উপস্থিত ছিল। যখন তিনি ডানে তাকাতেন, তখন হাসতেন এবং যখন বামে তাকাতেন, তখন কাঁদতেন। পিয়ারা নবী মুহাম্মাদ সা. কে দেখে তিনি বলে উঠলেন, হে পুণ্যবান সন্তান, মর্যাদাবান নবী, মারহাবা। রাসূলুল্লাহ সা. জিব্রাঈল ফিরিশতাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই জিব্রাঈল, তিনি কে? হযরত জিব্রাঈল আ. উত্তর দিলেন, তিনি আপনার পিতৃপুরুষ হযরত আদম আ. এবং তার ডানদিকের প্রাণশক্তিগুলো হচ্ছে জান্নাতী এবং বামদিকেরগুলো হচ্ছে দোযখী।
এজন্য তিনি ডানদিকে তাকালে হাসেন এবং বামদিকে তাকালে কাঁদেন। এই আকাশে তিনি সম্মুখভাগে দু’টি নদী দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলে হযরত জিব্রাঈল আ. বললেন, এ দু’টি হচ্ছে নীল ও ফোরাতের প্রবাহ। তারপর প্রবাহিত অন্য একটি নদী তার নজরে পড়ল। যার মাঝে মতি ও জররুদ পাথরের নির্মিত একটি মহল ছিল এবং এর অঙ্গন ছিল মেশক দ্বারা পরিপূর্ণ। জিব্রাঈল আ. বললেন, ‘ইহা নাহরে কাউসার। যা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহপাক আপনার জন্য রেখেছেন।’
তারপর জিব্রাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সা. কে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলেন। দ্বিতীয় আকাশের দ্বাররক্ষী ফিরিশতাগণ একইরকম প্রশ্নাবলী জিব্রাঈল আ. কে করলেন। তিনি প্রশ্নাবলীর উত্তর পূর্ববৎ প্রদান করলে দ্বার খুলে দেয়া হল। রাসূলুল্লাহ সা. দ্বিতীয় আকাশে পদার্পণ করলেন। সেখানে হযরত ইয়াহইয়া আ. ও হযরত ঈসা আ. এর সাথে মোলাকাত হল। তারা ছিলেন উভয়ে খালাত ভাই। এখানে পরিচয় ও সালাম সম্ভাষণের পর তৃতীয় আকাশের দিকে রওয়ানা হলেন।
তৃতীয় আকাশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছার পর দ্বাররক্ষী ফিরিশতাগণ জিব্রাঈল আ. কে একই রকম প্রশ্নাবলী জিজ্ঞেস করলেন। তিনিও একই রকম পূর্ববৎ উত্তর প্রদান করলে সালাম সম্ভাষণসহ ফিরিশতাগণ দ্বার খুলে দিলে রাসূলুল্লাহ সা. তৃতীয় আকাশে উঠলেন। সেখানে হযরত ইউসুফ আ. এর সাথে তার সাক্ষাত হল। হযরত ইউসুফকে আল্লাহপাক সৌন্দর্যের একটি অংশ প্রদান করেছিলেন। এখানে সালাম-সম্ভাষণ ও কথোপকথনের পর রওয়ানা হলেন চতুর্থ আকাশের দিকে।
হযরত জিব্রাঈল আ. চতুর্থ আকাশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছার পর দ্বাররক্ষী ফিরিশতাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হলেন। তিনি যথাযথ উত্তর দিলেন। দ্বার খুলে দেয়া হল। রাসূলুল্লাহ সা. চতুর্থ আকাশে পদার্পণ করলেন। সেখানে হযরত ইদ্রিস আ.-এর সাথে মোলাকাত হল। যার সম্পর্কে কোরআনুল কারীমে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘এবং আমি তাঁকে একটি বুলন্দ মাকামে নিয়েছি।’ তারপর বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. পঞ্চম আকাশের দিকে রওয়ানা করলেন।
পঞ্চম আকাশের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হওয়ার পরও দ্বাররক্ষীদের প্রশ্নাবলীর উত্তর দিতে হয় এবং তারা দ্বার খুলে দিলে রাসূলুল্লাহ সা. পঞ্চম আকাশে পদার্পণ করেন এবং সেখানে হযরত হারুন আ.-এর সাথে তার সাক্ষাত হয় এবং সকলেই তাকে পুণ্যবান পয়গাম্বর এবং পুণ্যবান ভ্রাতা বলে অভ্যর্থনা জানালেন। তারপর আকাশের দিকে রওয়ানা করলেন। পূর্ববৎ প্রশ্নের উত্তর প্রদান করার পর ষষ্ঠ আকাশের দ্বার খোলা হয় এবং রাসূলুল্লাহ সা. ষষ্ঠ আকাশে পদার্পণ করলেন। সেখানে হযরত মুসা আ. এর সাথে তার মোলাকাত হয়। মারহাবা হে পুণ্যবান পয়গাম্বর এবং পুণ্যবান ভ্রাতা বলে তিনি তাকে সম্ভাষণ জানালেন। (অসমাপ্ত)।

 



 

Show all comments
  • Bodiul Alam Khokon ২৬ মার্চ, ২০১৯, ২:৪৯ এএম says : 0
    আল্লাহপাক মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প দিতে পারেন তিনি মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত নব-মণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। এমনকি তিনি মুহূর্তের মধ্যে তাঁর এক বান্দার মাধ্যমে সারা জগৎ ভ্রমণ করিয়ে আনতে পারেন এতে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই। কেউ যদি সন্দেহ করে সে তার ইমান হারাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আমজাদ হোসাইন হেলালী ২৬ মার্চ, ২০১৯, ২:৫০ এএম says : 0
    সূরা বনি-ইসরাইলের ১নং আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন— পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দা মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখানোর জন্য রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন। মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি-যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল। আলোচ্য আয়াতে ইসরা ও মিরাজের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। মিরাজের রজনিতে রসুল (সা.)-এর সমগ্র সফর যে শুধু আত্মিক ছিল না বরং মানুষের সফরের মতো দৈহিক ছিল, একথা পবিত্র কোরআন ওই বক্তব্য ও অনেক মুতাওয়াতির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
    Total Reply(0) Reply
  • সাজিদ উদ্দিন ২৬ মার্চ, ২০১৯, ২:৪৭ এএম says : 0
    মিরাজ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ(সা) এর জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর, অলৌকিক ও শিক্ষামূলক ঘটনা।
    Total Reply(0) Reply
  • Aman Khan ২৬ মার্চ, ২০১৯, ২:৪৮ এএম says : 0
    মিরাজের রজনিতে রসুল (সা.)-এর সমগ্র সফর যে শুধু আত্মিক ছিল না বরং মানুষের সফরের মতো দৈহিক ছিল, একথা পবিত্র কোরআন ওই বক্তব্য ও অনেক মুতাওয়াতির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
    Total Reply(0) Reply
  • মনজুর হোসেন খান ২৬ মার্চ, ২০১৯, ২:৫১ এএম says : 0
    আখেরী নবী মুহাম্মদ (স.) কে আল্লাহ তা’আলা অন্যান্য নবীদের তুলনায় অনেকগুলো বিষয়ে অতিরিক্ত মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইসরা ও মি’রাজ।
    Total Reply(0) Reply
  • Delowar Hossen ২৬ মার্চ, ২০১৯, ২:৫৫ এএম says : 0
    ধারাবাহিকভাবে পবিত্র শবে মিরাজ নিয়ে লেখার জন্য এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শীকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি।
    Total Reply(0) Reply
  • Enayt Ullah ২৬ মার্চ, ২০১৯, ২:৫৬ এএম says : 0
    মিরাজের মাধ্যমে হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে এই পার্থিব জীবনে মানবেতিহাসের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েছে। যে সম্মান এর আগে ও পরে অন্য কাউকেই দেয়া হয়নি। কিয়ামতের ময়দানে শাফায়াতের সুযোগদানের মাধ্যমে তাকে আবার সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করা হবে। কোনো নবী-রাসূল বা নিকটতর ফেরেশতাই যে উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি, মিরাজে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে ছিলেন। আল্লাহতায়ালার দিদার লাভ করেছিলেন।
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফুল ইসলাম ২৬ মার্চ, ২০১৯, ১০:২২ এএম says : 0
    মিরাজুন্নবী (সাঃ) অনেকে বলেন মোজেজা, কেউ বলেন শিক্ষনীয় কেউ বলে কি আমি বলি, যে যা বলছ ঠিক আছে সবিই, কিন্তু আসলে মেরাজুন্নবী ( সাঃ) হল "ওয়ারাফানা লাকা জিক রাক" (আপনার জন্যে আপনার সন্মান বৃদ্ধী করে দিয়েছি) এর তাফসির। আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের সকলকে প্রিয় নবী (সাঃ) কে সেভাবে ভালোবাসার ও অনুসরন করার তৌফিক দান করুন, যেমনটা করা আমাদের উপর তাঁর হক্ক। লেখক সাহেব ও ইনকিলাব সংশ্লিষ্ট কে অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ্‌ আপনাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান প্রধান করুন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন