Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

প্রশ্ন: তাবলীগ-এর প্রয়োজনীয়তা কি?
উত্তর : মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বাণী অনুযায়ী যেহেতু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী-রাসূল আসবেন না; অথচ তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ‘সর্বশেষ ধমর্’ এবং এই ধর্মের যাবতীয় বিধি-বিধান সম্বলিত সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ ‘আল-কুরআন’ কিয়ামত পর্যন্ত আগত তামাম বিশ্ববাসীর হিদায়েত প্রাপ্তির সর্বশেষ মূল উৎস। তাই এ ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থের বাণী,তার আহবান বিশ্ব মানবতার দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়া এবং এর প্রচার-প্রসার একমাত্র ‘দাও‘য়াত ও তাবলীগ’ এর মাধ্যমেই সম্ভব। এ থেকে, দা‘ওয়াত ও তাবলীগের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য সহজেই অনুমেয়।
তাবলীগ ও আল-হাদীস:(১) হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (স)-কে বলতে শুনেছি,“তোমাদের মধ্যে কেউ মন্দ/অসৎকাজ দেখলে, তা যেন সে নিজ হাতে প্রতিরোধ করে। যদি তেমন শক্তি-সামর্থ না থাকে, তা হলে সে যেন তার মুখ দিয়ে তা প্রতিহত করে। যদি তা-ও না পারে তা হলে সে যেন তার অন্তর দিয়ে তা প্রতিরোধ/ প্রত্যাখ্যান/ঘৃণা করে। আর এটি হচ্ছে নিম্নতম ঈমানের স্তর।”(মুসলিম শরীফ)
‘অন্তর দিয়ে প্রতিরোধ’: “অন্তর দ্বারা অসৎকাজ প্রতিরোধ মানে হচ্ছে, অন্তরে এমন প্রতিজ্ঞা থাকা যে, এ মুহূর্তে যদিও অন্যায় কাজটি প্রতিরোধ করতে পারছি না; তবে ভবিষ্যতে যখনই তেমন সুযোগ পাবো তা প্রতিরোধ করবো। কেবল ‘মনে মনে অপকর্মটিকে ঘৃণা করা’- হাদীসটির এমন তরজমা সঠিক নয়। তার কারণ,(যদি হাত দ্বারাও মিটানোর ক্ষমতা না রাখে,তা হলে অন্তর দিয়ে মিটিয়ে দেবে)হাদীসটির মূল মতন এর দিকে লক্ষ করলে, বোঝা যাবে ‘ হাত দ্বারা প্রতিরোধ/মিটানো.. মুখ দ্বারা প্রতিরোধ.....অন্তর দ্বারা প্রতিরোধ/মিটানো(অন্তর দিয়ে মিটায় বা শেষ করে দেয় বা প্রতিহত করে)-এর মূলভাব ও ব্যাখ্যা ‘ঘৃণা’ শব্দে আদায় হয় না। মন দিয়ে ঘৃণা করা তো সহজ ব্যাপার। এতদসংক্রান্ত অপরাপর কঠোর বাণী ও আযাব-গযব সম্বলিত যেসব হাদীস বিদ্যমান তার নিরীখে, কেবল মনে মনে ঘৃণা দ্বারাই দায়িত্বমুক্তি ও শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। সুতরাং শরীয়তের আলোকে কেবল সৎকাজে আদেশের আংশিক দায়িত্ব পালন করে এবং অসৎ-অন্যায় কাজে শুধু ঘৃণা করে ইসলামের পরিপূর্ণ ‘দা‘য়ী ও ‘মুবাল্লিগ’ হওয়া যাবে না। এটি মনে রাখতে হবে যে, ‘নাহী ‘আনেল-মুনকার’ তথা অসৎকাজে নিষেধও অন্যতম একটি ফরয আমল,দায়িত্ব”। (আহসান:খ-৯,পৃ-৯৯)
‘শক্তি-সামর্থ’: তাফসীর ও ফাতওয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে,‘শক্তি-সামথর্’ মানে দৈহিক সামর্থ নয়, উদ্দেশ্য হচ্ছে যাকে অসৎ কাজে নিষেধ করা হবে,তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা থাকা এবং সে কোন ক্ষতি করবে না বলে প্রবল ধারণা হওয়া-তা হলে, ‘অসৎকাজে নিষেধ’-এর ‘তাবলীগ’ করাও ওয়াজিব বলে গন্য হবে। যদি তেমন প্রত্যাশা না থাকে এবং হিতে বিপরীতের সম্ভাবনা দেখা দেয়; তা হলে ওয়াজিব নয়।(প্রাগুক্ত: পৃ-৫১২)
(২) হযরত ইবন মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেন,“বনী-ইসরাঈল জাতির অধঃপতন বা ধংসের সূচনা হয়েছিল এভাবে যে, তারা যখন একে-অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হত তখন মন্দকাজ দেখে বলতো, হে অমুক! আল্লাহকে ভয় করো এবং যা করছো তা ছেড়ে দাও; তা তোমার জন্য বৈধ নয়। তারপর আবার পরেরদিন তার সঙ্গে তার অপকর্মরত অবস্থায় মিশতো এবং তাকে নিষেধ করতো না;অথচ একইসঙ্গে পানাহার, উঠাবসা করতে থাকতো। এক পর্যায়ে তাদের ভালো-মন্দ অন্তর পরস্পর সমান হয়ে গেল..........অতপর নবীজী (স) শপথ করে জোর তাকিদসহ বললেন, অবশ্য অবশ্য তোমরা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ কাজে নিষেধ করবে এবং অবশ্যই তোমরা জালেমকে প্রতিহত করবে এবং তাকে সত্য ও ন্যায়ের ওপর উঠতে বাধ্য করবে।”(আবূ দাঊদ,তিরমিযী) অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ অব্যাহত না রাখায় এক সময় তারা ধংস হয়ে গেল।
(৩) হযরত জারীর ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি,“কোন সম্প্রদায় বা জাতির মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন পাপকাজ করতে থাকে। আর ওই জাতির লোকজনের লোকটিকে প্রতিরোধ-প্রতিহত করার সামর্থ থাকে;অথচ তারপরও তাকে প্রতিহত করে না (নিষেধ করে না,বাধা দেয় না,পাপকর্ম বন্ধ করতে সচেষ্ট হয় না)। তা হলে মৃত্যুর পূর্বে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের ওপর আল্লাহ্র আযাব নাযিল হবে!”(আবূ দাউদ,ইবনে মাজা,ইবনে হিব্বান,তারগীব ইত্যাদি)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন