Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

নামাজে একত্ববাদের বিধান

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী

| প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

(পূর্বে প্রকাশিতের পর)


আমরা নামাজ আদায়ের সময় আল্লাহ পাকের বারগাহে বিনীতভাবে দন্ডায়মান হই। আল-কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, “নামাজসমূহ হেফাজত কর। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজ, এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দন্ডায়মান হও।” (সূরা বাকারাহ, রুকু-৩১)
আর আল্লাহর নাম স্মরণ করেই নামাজের প্রারম্ভ হয়। এরশাদ হচ্ছে, “এবং স্বীয় প্রতিপালকের নাম স্মরণ করেছে এবং নামাজ আদায় করেছে।” (সূরা আলা : রুকু-১) অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে, “এবং স্বীয় প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর।” (সূরা মুদ্দাসসির : রুকু-১) আর আল্লাহু আকবার শব্দটি নামাজে বার বার যে উচ্চারণ করা হয়, তা মূলত : এই নির্দেশেরই প্রতিফলন মাত্র।
তারপর আমরা আল্লাহ পাকের হামদ ও সানা পাঠ করি, এবং তাঁরই সকাশে স্বীয় গোনাহের মাগফেরাত কামনা করি। এরশাদ হচ্ছে, “যখন তুমি দাঁড়াবে তখন স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসাসুলভ তাসবীহ পাঠ কর।” (সূরা তুর : রুকু-২) তারপর আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি। “আল-কুরআনের যতটুকু সম্ভব পাঠ কর।” (সূরা মুযযাম্মিল : রুকু-২) কিরাআতুল কুরআনে আমরা আল্লাহ পাকের আসমা ও সিফাতের উল্লেখ করি এবং সুনির্দিষ্টভাবে আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করি যার দ্বারা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব (তাকবীর) প্রকাশ পায়। এরশাদ হচ্ছে, “তোমরা আল্লাহ অথবা রাহমান বলে, যে নামেই ডাক না কেন, সকল উত্তম নামসমূহই তাঁর। অধিক উচ্চে:স্বরে অথবা অধিক নিম্নস্বরে নামাজ আদায় করো না, বরং মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বনকর এবং বল যে, সকল প্রশংসা ঐ আল্লাহর যিনি কোন ছেলে গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাম্রাজ্যে কাহারো অংশীদারিত্ব নেই এবং দারিদ্র্যতার কারণে তার কোন সাহায্যকারীরও প্রয়োজন হয় না এং তোমরা তাঁর যথার্থ শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর।” (সূরা বনী ইসরাঈল : রুকু-১২)
আল্লাহ পাকের হামদ সূরা ফাতিহাতে পরিপূর্ণভাবে বিধৃত আছে। এ কারণে প্রত্যেক নামাজের সকল রাকায়াতের শুরুতে এই সূরাটি পাঠ করা হয়। তারপর সঙ্গতি অনুসারে কুরআনুল কারীমের যে কোন আয়াত বা সূরা পাঠ করা হয়। তারপর আদবসহ আল্লাহ পাকের সামনে অবনত হতে হয় (রুকু)। তারপর মাটিতে কপাল স্থাপন করে সেজদাহ আদায় করা হয়। আল-কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, “হে ঈমানদারগণ! রুকু কর এবং সেজদাহ কর এবং স্বীয় প্রতিপালকের ইবাদত কর এবং নেক আমল কর, হয়ত তোমরা সফলকাম হবে।” (সূরা হজ্জ :রুকু-১০) আর বান্দাহ রুকু এবং সেজদায় আল্লাহ পাকের তাসবীহ ও তাহমীদ পাঠ করে। এরশাদ হচ্ছে, “সুতরাং তোমরা সর্ব মহান স্রষ্টার নামে তাসবীহ পাঠ কর।” (সূরা : ওয়াকিয়া) অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে, “স্বীয় সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ কর।” (সূরা আ’লা) রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর ঐশী তালীম মোতাবেক প্রথম হুকুম রুকুতে এবং দ্বিতীয় হুকুম সেজদাতে আদায় করা হয়। (ইবনু মাজাহ। কিতাবুস সালাত)
কিয়াম, রুকু ও সেজদার এই তরতীব সূরা হজ্জ (৪-ইবরাহীম (আ:) প্রসঙ্গ) এবং আলে ইমরান (৫-মারইয়াম প্রসঙ্গ)-এ বিধৃত আছে এবং সেজদাহর মাধ্যমে এক রাকায়াত পূর্ণ হয়ে যায়। সূরা নিসা : ১৫-ভয়ের নামাজ প্রসঙ্গ) মোটকথা আরকানে সালাতের এই তরতীব সম্পূর্ণরূপে ঐশী বিধান কর্তৃক নির্ধারিত এবং প্রজ্ঞাভিত্তিক। প্রথমে দাঁড়ানো, তারপর রুকু করা, তারপর সেজদাহ করা, এর মাঝে সহজাত তরতীব সংযুক্ত রয়েছে। সম্মান প্রদর্শনের অধিক অনুষ্ঠিত সূরত এই যে, মানুষ প্রথমে দাঁড়িয়ে যায়, তারপর যখন অবস্থা ও অনুপ্রেরণার মাঝে গভীরভাবে এসে যায়, তখন সে ঝুঁকে যায় এবং যখন আমিত্ববোধ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন স্বীয় দেহের সম্মানিত স্থানকে (কপাল) দয়ালু ও অনুগ্রহকারীর পায়ের উপর ন্যস্ত করে। এ কারণেই সেজদাহ হচ্ছে নামাজের চূড়ান্ত পর্যায়। আল-কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, “তোমরা সেজদাহ কর এবং নৈকট্য অর্জন কর।” (সূরা আলাক) সুতরাং আল্লাহর নৈকট্যের চূড়ান্ত পর্যায় হচ্ছে সেজদাহ। এ কারণেই প্রত্যেক রাকায়াতে বার বার সেজদাহ করা হয়ে থাকে।
শারীরিক এবাদতের সমষ্টি হচ্ছে নামাজ :
কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার শারীরিক, রসনাভিত্তিক এবং আন্তরিক এবাদতের হুকুম দেয়া হয়েছে। আমাদেরকে আদবের সাথে দাঁড় করানো, তারপর ঝুঁকানো এবং মস্তক অবনত করার হুকুম দেয়া হয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন দোয়া পাঠেরও হুকুম করা হয়েছে। আল্লাহর তাসবীহ ও তাহলীলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দোয়া এস্তেগফারের হুকুম করা হয়েছে। অন্তরের নিবিষ্টতার ও একাগ্রেতার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর উপর দরূদ পাঠ করার হুকুম করা হয়েছে। এ জন্য নামাজের আঙ্গিক কাঠামোকে এভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যে, একই এবাদতের মাঝে কুরআনুল কারীমে বর্ণিত সকল শারীরিক, ভাষাভিত্তিক এবং আত্মিক এবাদতের আহকাম সন্নিবেশিত হয়েছে। তাই দেখা যায়, দৈহিক, আত্মিক ও ভাষাভিত্তিক যাবতীয় এবাদতের নির্দেশাবলী আল-কুরআনে বিধৃত রয়েছে, তার সমষ্টি হচ্ছে নামাজ। অন্য কথায় বলা যায় যে, কুরআনুনে বিধৃত রয়েছে, তার সমষ্টি হচ্ছে নামাজ। অন্য কথায় বলা যায় যে, কুরআনুল কারীমে মুসলমানদেরকে কিয়াম, রুকু, সেজদাহ, তাহলীল, তাসবীহ, তাকবীর, কেরাআত, যিকরে ইলাহী এবং দরূদ পাঠ করার যে হুকুম দেয়া হয়েছে, এগুলোর সমষ্টিগত প্রতিপালনের নামই হচ্ছে নামাজ। যার মাঝে যাবতীয় হুকুম-আহকাম সামগ্রিকভাবে আঞ্জাম দেয়া হয়। অপরদিকে এ সকল আহকাম আদায় করার তরবীবও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু যদি এমনটি না হত, এ সকল আহকামকে মানুষের ইচ্ছা-আকাঙ্খার উপর ছেড়ে দেয়া হয়, যে চার রুকু করত এবং যে চায় সেজদাহ করত, যে চায় দাঁড়িয়ে থাকত, যে চায় কুরআন পাঠ করত, কিংবা কেউ নিশ্চুপ পাঠ করত, যে চায় দাঁড়িয়ে থাকত, যে চায় কুরআন পাঠ করত, কিংবা কেউ নিশ্চুপ পাঠ করত, কেউ সশব্দে পাঠ করত, তাহলে ফারায়েজে ইলাহীর তরতীব পালিত হত না এবং পর্যায়ক্রমেও প্রতিষ্ঠিত হত না। এতে করে বহু লোকের ফরজ তরক হয়ে যেত কিংবা কোনও ফরজ আদায় করার সুযোগ মিলত না। তাছাড়া কাহারো অসাবধানতা দরুন কিংবা দুর্বলতার দরুন সম্পূর্ণ আহকাম আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা দিত। মোদ্দা কথা হচ্ছে এই যে, এতে করে সকল মুসলমানের এবাদতের একই বিন্যস্তরূপ পরিগ্রহ করত না। না জামায়াত কায়েম হত, না নামাজকে একই মাযহাবের এবাদত বলঅ যেত। এমন কি একই পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যভিত্তিক নমুনা মুসলমানদের মাঝে প্রতিভাত হত না এবং তারা একই দলভুক্ত বলেও বিবেচিত হত না।
আল্লাহ পাক ফেরেশতার মাধ্যমে স্বীয় প্রেরিত পুরুষকে এই এবাদতের ব্যবহারিক কার্যক্রম শিক্ষা দিয়েছেন। (মোয়াত্তা ইমাম মালেক ও সহীহ বুখারী কিতাবুস সালাত) এবং রাসূল (সা:) এই পদ্ধতি উম্মতদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং উম্মতগণ বংশ পরস্পরায় একে অন্যকে শিক্ষা দিয়েছেন। এ কারণে সম্পূর্ণ অবিচ্ছিন্নভাবে এই নামাজ আদায়ের পদ্ধতি অবিকৃত ও সন্দেহাতীতভাবে উম্মতের মাঝে আজো প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
নামাজের দোয়া :
নামাজের বিভিন্ন অবস্থার উপযোগী বিভিন্ন দোয়া পাঠ করা হয় বা পাঠ করা যায়। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা:) হতেও নামাজের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দোয়া পাঠ করার বর্ণনা পাওয়া যায়। এবং প্রত্যেক মুসলমান এগুলো থেকে যে কোন একটি পাঠ করতে পারেন। কিন্তুু নামাজের মূল দোয়া যার দ্বারা কুরআন শরীফ আরম্ভ করা হয়েছে, তা পাঠ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা:) তাকিদ করেছেন। যে দোয়াটি তিনি সারাজীবন প্রত্যেক নামাজে পাঠ করেছেন। এই দোয়াটি প্রত্যেক মুসলমান আজো একইভাবে পাঠ করে আসছেন। তা হলো সুরায়ে ফাহিতা। যা নামাজের প্রতিটি অংশের সাথে সম্পৃক্ত ও পরিবেষ্টিত। এ কারণে ইসলাম এই দোয়াটিকে নামাজের মূল দোয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই দোয়াটি আল্লাহর ভাষায় প্রত্যেক বান্দাহ নিজ মুখে উচ্চারিত করে। এরশাদ হচ্ছে, “সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য; যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু; কর্মফল দিবসের মালিক; আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি; আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, তাদের পথ যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, যারা ক্রোধে নিপতিত নয়, পথভ্রষ্টও নয়।” (সূরা ফাতেহা) এই দোয়া শেষ করে আমীন বলে। অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি তা’ কবুল কর।
তা’ এমন একটি দোয়া, যা প্রত্যেক মুসলমান সকল নামাজেই বার বার পাঠ করে। যা ব্যতীত নামাজ অসম্পূর্ণ ও দুর্বল থেকে যায়। (জামে তিরমিজী : কিরাআতে ফাতেহা) এই দোয়াটি ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষার নির্যাস ও সারমর্মস্বরূপ। এর মাঝে আল্লাহর হামদ ও সানা, তাওহীদ, কর্মফলের শাস্তি ও পুরস্কার লাভের বিশ্বাস, একান্তভাবে ইবাদত আদায়ের স্বীকৃতি তাওফীক ও হেদায়েতের প্রত্যাশা, উত্তম লোকদের অনুসরণ করার একাগ্রতা এবং মন্দ লোকদের সংস্পর্শ হতে বেঁচে থাকার আকাঙ্খা বিধৃত আছে।
এই দোয়া পাঠের প্রাক্কালে বান্দাহ যখন স্বীয় জবানে, “সকল বিশ্বের প্রতিপালক” কথাটি উচ্চারণ করে তখন আল্লাহর যাবতীয় কুদরত ও নেয়ামত যা যমীন ও আসমানসমূহে বিস্তৃত আছে, তা’ চোখের সামনে হাজির হয়, সৃষ্টি কুলের বিশেষত্ব অবলোকন করে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশালত্বের কল্পনা জেগে উঠে, একই প্রতিপালক কর্র্তৃক বিশ্বভূবন প্রতিপালনের ধারণা বদ্ধমূল হয়, একই সাথে মানুষ হোক চাই পশু, ভূচর হোক চাই খেচর, আমীর হোক চাই গরীব, মাখদুম হোক চাই খাদেম, বাদশাহ হোক চাই ভিখারী, কালো হোক চাই ধলো, আরব হোক চাই আজম, সারা মাখলুকাতকে সৃষ্টিসুলভ ভ্রাতৃত্বের নিরিখে একই বলে মনে হয়। আর আল্লাহকে ‘রহমান ও রহীম’ বলে ডাকার মাঝে তাঁর সীমাহীন রহমত ও সীমাহীন মায়া ও স্নেহ, অগণিত বখশীশ এবং অসংখ্য প্রকার মহব্বতের সমুদ্রে বান ডেকে যায়, হিন্দোল দোয়াল। তাছাড়া ‘বিচার দিবসের মালিক’-এর খেয়াল আমাদেরকে নিজ নিজ কাজ-কর্মের জিম্মাদারী এবং প্রতিফল সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এমনকি আল্লাহর শাস্তি ও অভিসম্পাৎ হতে বেঁচে থাকার ভয় উৎপাদন করে। আর ‘আমরা তোমারই ইবাদত করি’ বলে আমরা স্বীয় অন্তর হতে যাবতীয় শেরক ও অংশীবাদের গোড়া-শিকড় উৎপাটন করি। আর ‘আমরা তোমারই কাছে প্রার্থনা করি’ বলে আমরা দুনিয়ার যাবতীয় উপকরণ ও অবলম্বনগুলোকে নিরর্থক বিবেচনা করি এবং শুধুমাত্র আল্লাহর আশ্রয় কামনা করি। এমনকি সবকিছু হতে বিমুক্ত হয়ে অথবা একই আল্লাহর আশ্রয় কামনা করি। এমনকি সবকিছু হতে বিমুক্ত হয়ে আমরা একই আল্লাহর কাছে নি:শর্ত আত্মসমর্পণ করি। পরিশেষে আমরা আল্লাহ কাছে সোজা পথে চলার তাওফীক চাই। এই সোজা পথ (সিরাতে মোস্তাকীম) কি? শরীয়তের আহকামই হচ্ছে সোজা পথ। আল-কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, “বলুন এস, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ করেছেন তোমাদেরকে তা’ পড়ে শোনাই। তা’ এই : তোমরা তাঁর কোন শরীক করবে না, পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে, দারিদ্র্যের জন্য তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না, আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে জীবকা দিয়ে থাকি। প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন হোক অশ্লীল আচরণের নিকটেও যেয়োনা, আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করোনা, তোমাদেরকে তিনি এই নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা অনুধাবন কর। এতীম বয়:প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্য ছাড়া তার সম্পতির নিকটবর্তী হয়োনা, এবং পরিমাণ ও ওজন ন্যায্যভাবে পুরোপুরী দেবে, আমি কাকেও তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না, যখন তোমরা কথা বলবে, তখন নায্য বলবে, স্বজনের সম্পর্কে হলেও এবং আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। এবং এই পথই আমার সরল পথ, সুতরাং এরই অনুসরণ করবে, এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।” (সূরা আনয়াম : রুকু-১৯)
এই আয়াতসমূহের দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ‘অহীয়ে মোহাম্মদী’-এর ব্যবহারিক অর্থে সোজা পথ কি? অর্থাৎ শেরেক না করা, মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করা, সন্তান-সন্ততির সাথে স্নেহ-বাৎসল্য প্রদর্শন করা, বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ যাবতীয় মন্দ কাজ পরিহার করা, মাসুম ও নিরপরাধ লোকদেরকে সম্মান করা, নাহক হত্যা কাজ বর্জন করা, এতীমদের সাথে সদয় ব্যবহার করা, ওজন ও মাপে ঈমানদারী বজায় রাখা, সকল অবস্থায় সত্য কথা বলা, অঙ্গীকার পুরা করা ইত্যাদি এমন সব উৎকৃষ্ট গুণাবলী যাকে সংক্ষিপ্তভাবে সিরাতে মোস্তাকীম বলা যায় এবং যার ক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রতিনিয়তই আমরা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি। বস্তুুত: এগুলোই হচ্ছে সচ্চরিত্রতার অমূল্য সম্পদ এবং প্রত্যেক পুণ্য কর্মের প্রাণশক্তি। এই সকল উত্তম গুণাবলীর সাথে আল্লাহর প্রিয় বান্দাহগণ সম্পৃক্ত ছিলেন। যার দরুন তাদের প্রতি বর্ষিত হয়েছে আল্লাহর অজস্র ফজল ও পুরষ্কার। এখন কথা হচ্ছে এই যে, আল্লাহর খাস বান্দাহ কারা? আল-কুরআনে এ প্রশ্নের সুষ্ঠু মীমাংসাও করা হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে, “কেউ আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করলে সে নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সৎ কর্মপরায়ণ যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, তাদের সঙ্গী হবে এবং তারা কত উত্তম সঙ্গী।” (সূরা নিসা : রুকু-৯)
(চলবে)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন