Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০১৯, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৭ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

মাদক বিষে নীল কুমিল্লার তারুণ্য

চিকিৎসায় সুস্থ জীবনে ফিরতে অনীহা আসক্তদের

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে | প্রকাশের সময় : ৩০ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

সমতটের প্রাচীন জেলা কুমিল্লায় ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। প্রত্মতত্ত¡ নিদর্শনে সমৃদ্ধ আর খাদি, কুটিরশিল্প, মৃৎশিল্প, রসমালাই ও শিক্ষা-সংস্কৃতির পাদপীঠ খ্যাত বর্ণিল কুমিল্লা মাদকের বিষে নীল হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানের মধ্যেও মাদকের বিষাক্ত ছোবল কুমিল্লার অন্তত ত্রিশ হাজার তরুণ-যুবকের জীবন তছনছ করে দিচ্ছে।
কুমিল্লায় বর্তমানে মাদক নির্ভরতাদের মধ্যে বেশিরভাগই ইয়াবা ও ফেনসিডিলসেবি। গন্ধবিহীন সিরাপ ফেনসিডিলের পাশাপাশি ইয়াবা নামের গোলাপি রংয়ের গোলাকার ছোট ট্যাবলেট এখন সমাজের উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত পর্যায়ের তরুণ, যুবক ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছেও প্রিয় নেশা। ইয়াবাসেবিদের কাছে এটি এখন ‘বাবা’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূনর্বাসনের মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ৮/৯টি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেন্টার রয়েছে। এসব সেন্টারে মাদকাসক্তদের বেশিরভাগই চিকিৎসা নিতে অনীহা দেখায়। জেলায় মাদকের নেশায় বুদ হয়ে থাকা প্রায় ত্রিশ হাজার তরুণ-যুবকের মধ্যে সেন্টারগুলোতে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ শতাধিক মাদকাসক্ত। কুমিল্লার মাদকাসক্তি চিকিৎসা সেন্টারগুলোতে কেবল কুমিল্লারই নয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল ও কক্সবাজারের মাদকাসক্ত ব্যক্তি রয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলা কুমিল্লায় মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে দিন দিন নেশাখোরদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে তরুণ-যুবকরা দিন দিন দূরে ছিটকে পড়ছে। অভিভাবকদের নজরদারিও কমছে সন্তানদের ওপর থেকে। এতে করে ছেলেরা পারিবারিক শাসনের বাইরে থেকে উচ্ছৃংখল হয়ে উঠছে। আর সঙ্গদোষে নেশার পথে পা বাড়িয়ে পারিবারিক জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, খুনোখুনি পর্যন্ত ঘটছে মাদককে ঘিরে। কেবল তরুণ-যুবকরাই নয়, কুমিল্লার অনেক অভিজাত পরিবারের মেয়েরাও গোপনে ফেনসিডিল, বিয়ার, ইয়াবা নেশা গ্রহণ করে থাকে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদকাসক্ত ছেলে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বা শখের বশে এসব মেয়ে মাদকের নেশা গিলে থাকে। কুমিল্লায় মাদকাসক্ত মেয়েদের সুস্থ হওয়ার জন্য কোন রিহাব সেন্টার না থাকায় অনেক অভিভাবক তাদের নেশাগ্রস্ত মেয়েকে নিয়েও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মানজুরুল ইসলাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণায় জোর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছোবলে আমাদের সন্তানের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে অন্ধকারে হারিয়ে যেতে দিতে পারিনা। মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর সারাদেশে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে। মাদকবিরোধী আন্দোলনে দলমতের উর্ধ্বে থেকে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো, কুমিল্লা শহর ও শহরতলীতে যে ক’টি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেন্টার রয়েছে এগুলোর ব্যাপারে আমরা সবসময় খোঁজ খবর রাখি, পরামর্শ, নির্দেশনা দিয়ে থাকি। এসব সেন্টারে গিয়ে যাতে আসক্তরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এজন্য আমরা বিভিন্ন সভা সেমিনারে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে এটা সত্যি যে, কুমিল্লার এসব সেন্টারে বিভিন্ন ধরণের মাদকের নেশায় আসক্তদের যারা চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের সংখ্যা অনেক কম। আসক্তরা যাতে এধরণের সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে এজন্য আসক্ত ব্যক্তির পরিবারকে ভূমিকা রাখতে হবে।
কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের দর্পণ মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পূনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক গোলাম মহিউদ্দিন জীবন জানান, কুমিল্লায় যে পরিমাণ যুবক, তরুণ নানা প্রকার মাদকদ্রব্যের নেশায় ডুবে রয়েছে। সে তুলনায় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য এখানকার মাদকাসক্তি চিকিৎসা সেন্টারগুলোতে আসক্তের সংখ্যা কম। সর্বোপরি পরিবারের অভিভাবক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে মাদকাসক্ত সন্তানের সুস্থতার বিষয়টি আগে ভাবতে হবে। অভিভাবকরা উদ্যোগি হলেই আসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা সেন্টারে ভর্তি করিয়ে সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চিকিৎসা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ