Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

দখলে ম্লান শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে | প্রকাশের সময় : ১ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুইপাশে গড়ে ওঠেছে শত শত স্থাপনা। এগুলো দেখলে মনে হয় বাপ-দাদার সূত্রে প্রাপ্ত অথবা ক্রয় করা সম্পদ। কেননা বিভিন্ন সময় সরকারি নির্দেশে উচ্ছেদ হলেও ঘুরে ফিরে ওরাই খুঁটি ফেলে সড়কের জায়গায়।
এ বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সারা দেশের ২১ হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে শৃঙ্খলা সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে দুই পাশে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ১০৪ কিলোমিটার এলাকার দুইপাশের বিভিন্ন স্পটে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, স্ট্যান্ড অপসারণ হয়নি। এসব দখল মহাসড়কের সৌন্দর্য ম্লান করে দিচ্ছে এবং সড়ক শৃঙ্খলা বাধাগ্রস্ত করে তুলছে।
দেশের ইকোনমিক লাইফ লাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। ফোরলেনের মিডিয়ান ডিভাইডারের মাঝখানে সবুজ ঘাস আর নানা প্রজাতির সারি সারি বাহারি ফুলের গাছ। মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের এক মহাসড়ক। ২০১৬ সালের শেষের দিকে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রামের সিটিগেট পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার ফোরলেন অংশের মধ্যে প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার এলাকায় সবুজ ঘাস ও ফুলের গাছ রোপন করা হয়। এরমধ্যে এ প্রকল্পে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ময়নামতি হয়ে চৌদ্দগ্রামের বাতিশা পর্যন্ত দুইটি প্যাকেজে ফুল গাছ রোপন করা হয়েছিল। দিন মাস বছর গড়িয়ে ডিভাইডারে সবুজ ঘাসের সমারোহ এবং বকুল, হৈমন্তী, কুরচি, সোনালু রাধাচূড়া, কেছিয়া, গুলমেহের (কৃষ্ণচূড়া), কাঞ্চন, করবী, জারুল, কদম, পলাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে উঠে মহাসড়কে চলাচলকারি যাত্রীরা। কিন্তু এ নান্দনিক সৌন্দর্য মহাসড়কের দুইপাশের অবৈধ স্থাপনা, অবৈধ বাসস্ট্যান্ড ও অবৈধ হাটবাজার ম্লান করে দিচ্ছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের শেষ সীমানা মোহাম্মদ আলী এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দুইপাশের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। থেমে নেই মহাসড়কের দুইপাশে জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরির প্রতিযোগিতা। প্রভাবশালীরা জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মান শেষে বরাদ্দ ও ভাড়া দেয়া ঘিরে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরিপুর, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, কোরপাই, কাবিলা, আলেখারচর, ঝাগুরঝুলি, পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজী, মিয়ারবাজার ও চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ৭-৮টি অবৈধ বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। মহাসড়কের ওপর বাজার বসানো হয়েছে ৪-৫টি স্পটে। আর যাত্রী সমাগম স্থানে রয়েছে অসংখ্য অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়কের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে টং দোকান, যানবাহন হাওয়ার দোকান ও মেরামতের স্থাপনা। ওইসব অবৈধ স্থাপনার কারণে যানবাহন ও যাত্রীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক প্রভাবশালীরা সড়কের জায়গা দখল করে লাখ টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয়পক্ষকে বুঝিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেক প্রভাবশালী নিজেরাই স্থাপনা নির্মান করে ভাড়া দিচ্ছেন। আর সাধারণ শ্রেণির অনেকেই নিজের উদ্যোগে দখল নিয়ে স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসায় বসলেও দৈনিক বা সপ্তাহহারে চাঁদা নিচ্ছেন প্রভাবশালীদের লোকজন।
এদিকে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় যারা বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা বাণিজ্য করছে এসব অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে জেলা প্রশাসনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তারপর ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ নিয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২৯ আগস্ট, ২০১৯
২৮ আগস্ট, ২০১৯
২২ আগস্ট, ২০১৯
২০ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ