Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

বিরলে ভুল চিকিৎসার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা

ইউএনও’র মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা ও জড়িত হাসপাতাল কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবী

বিরল (দিনাজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩ এপ্রিল, ২০১৯, ২:৪৬ পিএম | আপডেট : ২:৫০ পিএম, ৩ এপ্রিল, ২০১৯

দিনাজপুরের বিরলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (হাসপাতাল) এ ভুল চিকিৎসার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মামলার ঘটনায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাহার ও বদলী এবং ন্যায় বিচারের দাবীতে ইউএনও’র মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনসহ এলাকাবাসী।
৩ এপ্রিল বুধবার সকালে ২ শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম রওশন কবীর এর পক্ষে তাঁর কার্যালয়ের অফিস সুপার অনুকূল মহন্ত গ্রহণ করেন। এসময় ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসীসহ বিরল থানা কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং রাজ-১৩৪৩) এর সভাপতি আরমান আলী কালু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ভোলা, বাংলাদেশ অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি বিরল উপজেলা শাখা’র সাধারণ সম্পাদক আবু কালাম, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা গছে, গত ২১ জানুয়ারি/২০১৯ সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বিরল কলেজ পাড়া এলাকার শ্রমিক ওয়াকুল ইসলামের স্ত্রী ইসমত আরা (৩৫) বিষপান করলে বিরল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ওয়াশ করে রেজিস্ট্রেশন নং ১০১/৪ বেড নং ম-২৬ ভর্তি করানো হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ১১ টায় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। পরদিন মঙ্গলবার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর ভুল চিকিৎসার কারণে সমস্যা হয়েছে বলে রোগীর স্বজনদের জানান।
ফলে বিষয়টির ব্যবস্থা চেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবরে ৩১ জানুয়ারি ওয়াকুল ইসলাম একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ২ ফেব্রুয়ারি বিরল হাসপাতালের উঃস্বাঃকমঃ/বিরল/দিনাজপুর/১৯/১২৩ নং স্মারকে চিকিৎসাপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হলে ৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াকুল ইসলাম ১৬ পাতা কাগজপত্র দাখিল করেন। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা হতে ১০ টা পর্যন্ত বিরল হাসপাতাল থেকে ০১৭১০৮৬৭৬৮৬ নম্বর হতে ওয়াকুল ইসলামের ব্যবহৃত ০১৭৭৪১৬২১১০ নম্বরে একাধিকবার ফোন দিয়ে বলে “বেটা হাসপাতালে অভিযোগ করেছিস, তোর স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে তাড়াতাড়ি আয়। ওয়াকুল ইসলাম সাক্ষীদের নিয়ে হাসপাতালে পৌছলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়। এসময় ওয়াকুল তাঁর স্ত্রীকে ডাকার কারণ জানতে চাইলে, অভিযোগ তুলে নেন, না হলে আপনাদের বিরুদ্ধে অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলে এবং ঘরে আটকিয়ে রাখার হুমকি দেন,কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সেই সময় ওয়াকুল ভয়ে সাক্ষীদের নিয়ে তাড়াহুড়ো করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা করে পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে ওয়াকুল ইসলাম ঘটনার বিষয় উল্লেখ করে বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আবেদন করেন।
এরপর ঐ দিনই বিকালে বিরল থানা পুলিশ রোগীর আত্মীয় কামরুজ্জামান ভোলাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে ওয়াকুল ইসলাম জানতে পারেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্বাস্থ্য পরিদর্শক নজরুল বাদী হয়ে বিরল থানায় একটি সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নং ৫ দায়ের করছেন।
স্মারকলিপি প্রদান কালে ভুক্তভোগীর লোকজন এবং এলাকাবাসী অবিলম্বে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রত্যাহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিরল

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন