Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

পরিবেশ দূষণে বিপর্যস্ত সাভার

মতবিনিময় সভায় বক্তারা

সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ এপ্রিল, ২০১৯, ৭:০১ পিএম

‘পরিবেশ দূষণে বিপর্যস্ত সাভার, উত্তরনের উপায়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা বুধবার সাভার গলফ ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর মেয়র, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সাভার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আমিনবাজার ডাম্পিং স্টেশন, চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি, কর্ণপাড়া খাল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাভারে বিপর্যস্ত পরিবেশ নিয়ে একটি ডকুমেনটরীও দেখানো হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), নিজেরা করি, এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ, রেজাউল করিম বাবলু, এম.পি ও খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এম.পি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশ বিপর্যয়ে ভুক্তভোগীরা তাদের কষ্ঠ ও দু:খের কথা তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগী একেএম শহিদুল ইসলাম খান বলেন, সাভারের বিলবাঘিল খালটি সিএস পর্চায় থাকলেও এখন সেটি দখলের পথে। এই খালে পাকিজার ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পড়ে মারাত্মক দূষণের কবলে পরেছে।


ঝাউচর এলাকার শাহনাজ বেগম বলেন, টেনারী সাভারের আসার পর বুড়িগঙ্গা থেকে ধলেশ্বরী নদী বেশী খারাপ হইছে। ট্যানারীর বর্জের কারনে ঝাউচর এলাকাবাসী দূগন্ধের কারনে টিউবওয়েল থেকে পানি খেতে পারে না। ট্যানারী সাভারে আসায় এলাকাবাসীর আরও কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কর্ণপাড়া এলাকার জেসমিন আক্তার বলেন, জেকে, এইচআর, প্রাইড, দোয়েল ও আল-মুসলিম গামের্ন্টস কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে কারনে কর্ণপাড়া খালটি মারাত্মক দূর্ষনের কবলে পরেছে। এথেকে এলাকাবাসী পরিত্রান দাবী করেন।
সাভার পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে পৌর মেয়র বলেন, পৌর সভার আওতাধীন সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার ব্যবসস্থা করা হবে। তবে মিল-কারখানার বর্জ্য নদীতে কিংবা খালে বিলে ফেলার বিষয়ে ব্যবসস্থা নেয়ার এখতিয়ার পৌরসভার নেই। নদী দখলমুক্ত করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগীতারও আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে তিনটি ইটভাটা রয়েছে যেটা াার কা নয়, কিন্তু আমি বন্ধ করতে পারছি না। এছাড়া বড় বড় শিল্পপতিরা খাল দখল করে আছে সেটাও আমার এখতিয়ারের বাহিরে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান বলেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দপ্তরের মাধ্যমে হয়। সেসব বিষয়ে কাজ চলছে।
বেপজার সুপারেনটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো: হাসানুজ্জামান বলেন, তাদের ডিইপিজেডের কোন বর্জ্য ধলাইবিলে যাচ্ছে নাই। বাহিরের কারখানার বর্জ্য পড়ছে ধলাই বিলে। তখন স্থানীয়দের তোপের মুখে পরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বক্তরা বলেন, ঢাকা ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্প কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য কেন্দ্রিয়ভাবে শোধনাগারের ব্যবস্থা করার কথা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। ফলে ইপিজেডের সকল বর্জ্য ধলাই বিল হয়ে বংশী নদীতে ফেলায় বিলের ফসলহানি এবং বংশী নদির পানি দুষিত হচ্ছে। এছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনের সর্দি, কাশি, হাপানিসহ বিভিন্ন ধরনে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বলিয়াপুরে ডাম্পিং স্টেশন ও চামড়া শিল্প নগরীর (ট্যানারী) সিইটিপি এখনও কার্যকর হয়নি। এছাড়া বেআইনিভাবে খাল-বিল, জলাশয় ভরাট এবং দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কের পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাটসহ নতুন নতুন ইটভাটা নির্মিত হওয়ায় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ট্যানারীর ঝাঝালো গন্ধে বাড়ির টিন ফুটা হয়ে যাচ্ছে, তাহলে মানুষের অবস্থা কি হচ্ছে। তিনি বলেন, এনিয়ে কিছু চিকিৎসক কাজ করছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, টেকশই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশের উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। গভর্নেন্স বা সুশাসনের কোন বিকল্প নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যদি অন্ধভাবে শুধু উন্নয়ন করি এবং গভনেন্স এবং পরিবেশের বিষয়টি এড়িয়ে যাই তাহলে এ উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে পারবো না।
তিনি আরও বলেন, দলখদার ও পরিবেশ দুষনকারী শিল্পপতিরা যত ক্ষমতাশালীই হোক আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যদি আপোষ না করি এবং জনগন ও তাদের প্রতিনিধিরা আপোষ না করে, প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা যদি সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে যতবড় ক্ষমতাশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরফলে সাভার নিয়ে আর কোন হতাশা থাকবে না। আমরা সাভারকে আগামী দিনে বাংলাদেশে মডেল হিসেবে দাড় করাতে পারবো। এ বছরের শেষে আরও একটি সেমিনারের মাধ্যমে আমাদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, আমার ঘুরে দেখেছি বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য খালে, নদীতে ফেলা হচ্ছে। আমরা ওইসব কারখানা কর্তৃপক্ষকে ডেকে ব্যবসা নিব।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবেশ দূষণ

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯
৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ