Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

আল্লাহতায়ালা অত্যন্ত মেহেরবান ও পরম করুণাময়

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

গত ক’টি নিবন্ধে আমরা আল্লাহতায়ালার মেহেরবানি, ক্ষমাশীলতা, করুণাময়তা ও দয়ার আলোচনা করছিলাম। কোরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত থেকে আমরা আল্লাহপাকের এসব গুণের পরিচয় পেয়ে থাকি। পার্থিব জীবনে আল্লাহর সেসব গুণের সরাসরি প্রয়োগ পেয়েও আমরা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ে সচেষ্ট থাকি না। নিশ্চয়ই সে লোক বড়ই হতভাগ্য, যে এহেন রহমত ও করুণাময় পরওয়ারদেগারের রহমত ও করুণা থেকেও বঞ্চিত থাকে, যিনি তার রহমতে আলম নবী সা.-এর মুখে নিজের অপরাধী ও গোনাহগার বান্দাদের সালামের পর রহমতের এ পয়গাম দেন যে, ‘নিজেদের পরওয়ারদেগারের প্রতি নিরাশ হবে না, পালাবে না। তিনি যে নিজের জন্য রহমতকে অবধারিত করে নিয়েছেন, যদি নিজের অজান্তে তোমাদের দ্বারা পাপ সংঘটিত হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে এখন তওবা করে নাও। নিজের অবস্থার সংশোধন করে নাও। আমি অত্যন্ত মেহেরবান ও ক্ষমাশীল।’
বস্তুত সূরা শূরার এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘এসো, তিনিই আল্লাহ যার মহিমা হলো এই যে, তিনি নিজের (পাপী-তাপী) বান্দাদের তওবা কবুল করেন। তাদের ভুলত্রæটি ক্ষমা করেন এবং তোমরা যা কিছু করো সেসব পুরোপুরি জানেন।’ (সূরা শূরা : আয়াত ২৫)।
সূরা নিসায় ব্যভিচারের ঘৃণ্য ও জঘন্য পাপে লিপ্ত অপরাধী বান্দাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের মধ্যে যারা অপকর্মে লিপ্ত হয়, তাদের শাস্তি দাও। তারপর যদি সে সেই হারাম কর্ম থেকে তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তাহলে আর তার পেছনে লেগে থেকো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অত্যন্ত তওবা কবুলকারী পরম করুণাময়।’ (সূরা নিসা : আয়াত ১৬)।
অর্থাৎ যেসব লোকের ব্যাপারে এ কথা প্রমাণিত হয়ে যায় যে, তারা এ ধরনের হারাম ও গর্হিত কর্মে লিপ্ত হয়েছে, তাহলে তাদের আইনানুগ শাস্তি তো দিতেই হবে। কিন্তু অতঃপর যদি সে তওবা করে নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে তাকে কিছু বলবে না। কারণ, আসলে সে তার যে মালিকের কাছে পাপ করেছে, তিনি নিজে তওবাকারী অপরাধীদের সানন্দে ক্ষমাকারী এবং অতঃপর তাদের প্রতি রহমত ও করুণা বর্ষণকারী।
আলোচ্য সূরা নিসারই অন্যত্র সবরকম পাপী-তাপী ও অপরাধীকে সুসংবাদ শোনানোর লক্ষ্যে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে কেউ কোনো রকম পাপ করে এবং আল্লাহর নাফরমানি করার মাধ্যমে নিজের প্রতি জুলুম করার পর সে (অনুতপ্ত হয়ে) আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে সে আল্লাহকে পাবে তওবা কবুলকারী, দয়াশীল ও করুণাময়।’ (সূরা নিসা : আয়াত ১১০)।
আর সূরা যুমারে নিজেকে ধ্বংসকারী অপরাধী বান্দাদেরই উদ্দেশে যা কিছু বলা হয়েছে এবং যে মমতা ও প্রীতির ভঙ্গিতে তাদের আহবান করা হয়েছে, তাও তো আল্লাহতায়ালার করুণাগুলোর এমনি আবেদন, যাতে বিরাট থেকে বিরাটতর অপকর্মে লিপ্ত এবং সারা জীবন ধরে পাপকার্যে নিমজ্জিত ব্যক্তিও যদি তা নিজের অন্তরে কান লাগিয়ে শুনে নিতে পারে, তাহলে সতত আল্লাহপাকের রহমতের দুয়ারের দিকে ধাবিত হবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তার রহমতের নবী সা.-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমার অপরাধী ও পাপী বান্দাদেরকে আমার পক্ষ থেকে এ পয়গাম পৌঁছে দিন।
‘হে আমার সেসব বান্দা, যারা পাপ করে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ (এবং নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংস ও বিনাশ করেছ), তোমরা আল্লাহতায়ালার রহমত থেকে নিরাশ হইও না। আল্লাহর মহিমা হলো এই যে, তিনি সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন। বস্তুতই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং বিরাট করুণাময়।
এখনও ফিরে এসো; নিজের ক্ষমাশীল ও করুণাময় পরওয়ারদেগারের দিকে গতি ঘুরিয়ে নাও, তার হুকুমের অনুসরণ করতে শুরু করো, তোমাদের পাপের পরিণতি ও আজাব তোমাদের পাকড়াও করার আগে। অন্যথায় কেউ তোমাদের সাহায্য করতে পারবে না, কেউ তোমাদের বাঁচাতে পারবে না।’ (সূরা যুমার : আয়াত ৬৩-৫৪)।



 

Show all comments
  • Nasir Uddin ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৩০ এএম says : 0
    মুমিন জীবনের প্রতিটি আমল বা কাজের পেছনে আল্লাহর সন্তোষ অর্জনই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কেননা আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁরই ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য। তাই বান্দার প্রতিটি মুহূর্ত এবং সময় অতিবাহিত করা উচিত আল্লাহর বিধান অনুযায়ী।
    Total Reply(0) Reply
  • Jahed Islam ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৩৫ এএম says : 0
    আল্লাহ করুণাময়, বান্দাহর প্রতি অত্যধিক দয়ালু ও গভীর শুভাকাক্সী। কিন্তু যখন কাউকে পাকড়াও করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তখন তার পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন হয়ে থাকে
    Total Reply(0) Reply
  • Habib Ahamed ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:২৮ এএম says : 0
    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর স্নেহ ও মায়া-মমতার উপলব্ধি করে তাঁর অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক সঠিক জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • Muhammad Jalal Ahmed ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:২৯ এএম says : 0
    আমাদের উচিত আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতা লাভ করতে তাঁর নাজিলকৃত সব বিধি-বিধান যথাযথ পালন করা। তাঁর অবাধ্য না হওয়া। ইসলামের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা।
    Total Reply(0) Reply
  • Bashir Ahmed ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৩১ এএম says : 0
    আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ ও প্রিয় সৃষ্টি হলো মানুষ। আর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা বেশি থাকাই স্বাভাবিক। সাধারণত যে জিনিস বেশি দরদ দিয়ে তৈরি হয়, সে জিনিসের প্রতি ভালোবাসাও বেশি থাকে।
    Total Reply(0) Reply
  • Howladar Nayem Islam ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৩৫ এএম says : 0
    আল্লাহ মহান করুণাময়, বান্দাহর প্রতি অত্যধিক দয়ালু ও গভীর শুভাকাক্সী। আল্লাহর ৯৯টি সিফাতি নামের বেশির ভাগই করুণাময় দয়ার স্মারক। তাই বলে এই বিশাল করুণার সুযোগ গ্রহণ করে বেপরোয়া ভাব প্রকাশ করার কোনো অবকাশ নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • Billal Khan ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৩৬ এএম says : 0
    আল্লাহতায়ালা অতিশয় ক্ষমাশীল, মহাক্ষমাশীল। বান্দা জেনে অথবা না জেনে যত বড় অপরাধই করুক না কেন আল্লাহ গাফুরুর রাহিমের কাছে ফিরে এলে তিনি ক্ষমা করে দেন। তিনি বান্দাদের ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখেন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন