Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

খুলনায় শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষে আহত ২০

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:৩০ পিএম | আপডেট : ১২:৪৬ পিএম, ৪ এপ্রিল, ২০১৯

৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ও অবরোধ কর্মসূচির শেষ দিনে খুলনা পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকরা নতুন রাস্তা মোড়ে পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে।
গত দু'দিনের মতো বৃহস্পতিবারও সকালে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তারা দৌলতপুরের নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নেয়। সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থিত পুলিশ বক্সে হামলা চালায়। পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ধাওয়া দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ সদস্য বিজিবি হেডকোয়ার্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শ্রমিকরা বাধা দেয়। পরে শ্রমিকরা মাইকে সবাইকে একত্রিত করে পাবলা পুলিশ বক্সে হামলা চালায়। এসময় বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাংচুর করে তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সরদার রকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, আহত পুলিশদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। কোনো উত্তেজনা এখন নেই। তবে ঘটনাস্থানেই রয়েছি।
এদিকে অনেকে বলছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বৃহস্পতিবার খুলনায় আসছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় পাটকল হওয়ায় শ্রমিকরা এ হামলা চালিয়েছেন।
শ্রমিকরা নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নিয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক, নতুন রাস্তা মোড় থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সড়ক, বিআইডিসি সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে রেখেছে। এছাড়া তারা বিক্ষোভ মিছিল, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। শ্রমিকদের সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কারণে নতুন রাস্তা মোড় দিয়ে যানবাহন ও খুলনার সঙ্গে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ নয় দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা এ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন।
শ্রমিকরা জানান, মঙ্গলবার রাতে খুলনা অঞ্চলের সকল পাটকল শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা বলেন, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ. গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বিমার বকেয়া টাকা প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ীকরণ, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ নয় দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলো। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা রাজপথে আবার নামতে বাধ্য হয়েছি।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট আজ শেষ হবে। এরপর ৭ এপ্রিল আগামী রোববার ঢাকায় বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সবগুলো পাটকলের শ্রমিক নেতারা বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন