Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

‘ওপরওয়ালা না বাঁচালে হাবুডুবু খাব’

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৪ পিএম

ভরা বর্ষা ও বর্ষা-পূর্ব বর্ষণের সময় আসন্ন। বৃষ্টির সঙ্গে সামুদ্রিক প্রবল জোয়ার মিলে চট্টগ্রাম মহানগরে পানিবদ্ধতার কারণে কী দুঃসহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন লাখো নগরবাসী। নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদীরাও এ নিয়ে চিন্তিত।

সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা মেগাপ্রকল্প নেয়া হলেও চট্টগ্রাম নগরীর পানিবদ্ধতা নিরসনে গত এক বছরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনটি অভিযোগ উঠে এসেছে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-চট্টগ্রাম আয়োজিত এক সভায়। এ কারণে আসছে বর্ষায় আবারও বন্দরনগরীতে পানিবদ্ধতার আশঙ্কা করে বাপা'র বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, ওপরওয়ালা না বাঁচালে এবারের বর্ষায়ও আমরা পানিবদ্ধতায় হাবুডুবু খাব।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে ‘চট্টগ্রাম শহরের পানিবদ্ধতা: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যে বাপা-চট্টগ্রামের সভাপতি ও প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ সিকান্দার খান বলেন, চট্টগ্রামের পানিবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে অনেক সমন্বয় দরকার। বেশি টাকা দিলেই ভালো সমাধান হবে এমনটা সবসময় আশা করা যায় না।

সিকান্দার খান বলেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে যেভাবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা দরকার তার কোনোটাই হয়নি। তাই এগুলোর সুফল আসে না।
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, মেগাপ্রকল্প নিয়ে কি করা হচ্ছে তা জনগণকে জানাতে হবে। না হলে পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ করে দুই বছর পরও আগের অবস্থা হবে। চলমান মেগা প্রকল্পের কোনো যথাযথ ডিজাইন নেই। খাল পরিষ্কারের কোনো মেথডলজি নেই। পরিকল্পনা বা ডিজাইন কিছু করা হয়েছে? সেটা কী জনগণ জানে?

চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার মজুমদার বলেন, মেগা প্রকল্পে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি এক বছরে নেই। রাখঢাক করে কাজ চলছে। রাখঢাকের নেপথ্যে কোনো সদিচ্ছা থাকে না। ওপরওয়ালা না বাঁচালে এবারও আমরা পানিবদ্ধতায় হাবুডুবু খাব। একটাই আবেদন প্রধানমন্ত্রীর যে সদিচ্ছা তা অপচয় যেন আমরা না করি।

জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম শহরের খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার তাগিদে দেন পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, বর্ষায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হিসাব করে মূল ও বড় খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। পানির গতিপথ বাধাহীন করা দরকার। না হলে হাজার কোটি টাকা খরচ করেও সুফল আসবে না।

স্থপতি জেরিনা হোসাইন বলেন, সিটি করপোরেশন, সিডিএ বা ওয়াসা যে-ই হোক প্রকল্প নেয়ার আগে নাগরিক মহলের সাথে আলোচনা করতে হবে। নাগরিকের মতামতহীন প্রকল্পের ভিত্তিতে কোনো বাসযোগ্য নগরী গড়া সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম শহরের খালগুলো কারা দখল করেছে? আপনি আমি মিলেই তো দখল করেছি। যেখানে খালি পেয়েছি ভবন তুলেছি।

সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী অধ্যাপক এম আলী আশরাফ এবং অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান। # ০৭/০৪/১৯ইং



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আবহাওয়া


আরও
আরও পড়ুন