Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০১৯, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৭ রমজান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

পাহাড় কেটে ও ফসলি জমিতে ইটভাটাে

লাহাগাড়া (চট্টগ্রাম) থেকে তাজ উদ্দীন | প্রকাশের সময় : ১০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম কলাউজান বাংলাবাজারের দক্ষিণে মালিপাড়া ও বাহাদুরপাড়া এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাগালের ভেতরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন ফসলী জমিতে ও পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে ইটভাটা। এই ইটভাটা নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার স্থানীয় জনসাধারন। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। বিগত ১/২ মাস হতে অধ্যাবধি এই কার্যক্রম বন্ধের জন্য লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে পৃথক পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আসছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন সাময়িক কাজ বন্ধ করে, কিন্তু কয়েকদিন পর অজ্ঞাত কারণে আবারো ব্যাপকভাবে ওই অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম চলতে দেখা গেলে পশ্চিম কলাউজান শাহ্ মজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খদিজাতুল কুবরা (রা.) মহিলা মাদরাসা, পশ্চিম কলাউজান খতীবিয়া দাখিল মাদরাসা, পশ্চিম কলাউজান শাহ্ মজিদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানা, পশ্চিম কলাউজান শাহ্ মজিদিয়া শিশু একাডেমি ও কলাউজান খালাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলাবাজার উন্নয়ন কমিটি ও স্থানীয় এলাকার ভুক্তভোগী দুই শতাধিক কৃষক ও সচেতন মহল স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বরাবরে ফের ঐ ইটভাটার নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধের আবেদন করেন। এরপর কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখলেও পুনরায় পুরোদমে ইটভাটা নির্মাণকাজ চলতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রিসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে গত ২৫ মার্চ নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধের আবেদন করেন এলাকার স্থানীয় জনসাধারন। তবে অদ্যাবধি অবৈধ ইটভাটা নির্মাণকাজ অব্যাহত আছে।
অভিযোগে প্রকাশ এলাকার প্রভাবশালী মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদের ও জামাল উদ্দীনসহ আরো কয়েকজন প্রভাব খাটিয়ে এলাকার অসহায় কৃষকের জমির উপর পাহাড় কেটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান, লোকালয় ও অভয়ারন্যের মাঝখানে অবৈধভাবে নতুন ইটভাটা গড়ে তুলছে। উক্ত এলাকায় ওপরে উল্লিখিত একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতি রয়েছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখা ও যাতায়াতে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। এছাড়াও ইটভাটার চারপাশে লোকালয়ে মানুষের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এলাকার পরিবেশ, গাছপালা, ক্ষেতখামার, ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হবে। নতুন এই ইটভাটা নির্মিত হলে ইট পরিবহনের ফলে পুরো এলাকা ধুলোময় হয়ে যাবে। যার ফলে এলাকার মানুষ, সর্দি, কাশি, এলার্জি, শাসকষ্ট জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হবে। তাই অত্র এলাকায় নতুন ইটভাটা নির্মাণ বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি সচেতন মহলের প্রশ্ন? অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম বন্ধে এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভূক্তভোগী হাজার হাজার মানুষের পক্ষে প্রতিনিধিত্ত¡ করে এমন দুই শতাধিক কৃষক স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র বিভিন্ন অফিসে প্রেরণ করার পরেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিভাবে এই অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম চলছে এই রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি আজোও।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পশ্চিম কলাউজানে পরিবেশ বিনষ্ট করে একটি নতুন ইট ভাটা বন্ধের অভিযোগ দায়ের করেছে এলাকাবাসী। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ পেয়ে পরিবেশ বিনষ্ট ও ক্ষতি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে জেনে নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরে তারা আবার নতুনভাবে কাজ আরম্ভ করছে। উল্লেখ করে উপরোল্লিখিত ভুক্তভোগীরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম এবং শেষে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রিসহ সংশ্লিষ্ট অফিস বরাবরে ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধের আবেদনের ব্যাপারে জানিনা। আমি অভিযোগ পেলে আবারো অভিযান চালিয়ে নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন