Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

ল্যাটিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্র্র

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প ছড়িয়ে পড়েছে ল্যাটিন আমেরিকাতেও। সেখানে তাদের বন্দর এবং অন্যান্য বাণিজ্য সংক্রান্ত সুবিধা নির্মাণ করা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন। কারণ, ১৯ শতকের পর থেকেই এই এলাকায় আধিপত্য ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীন যদিও এই অঞ্চলে সবেমাত্র প্রবেশ করেছে কিন্তু বর্তমানে তারা দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার দিকে। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখ হলেও এর অর্ন্তগত খাল আটলান্টিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক নৌ পথ এটি। এজন্য কৌশলগতভাবে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের কাছেই এটি খুবই গুরুত্বপ‚র্ণ।
পানামার সাথে চীনের বন্ধুত্বে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পানামার প্রেসিডেন্ট হুয়ান কার্লোস ভরেলা গত সপ্তাহে হংকং সফরকালে বলেন, ‘আমরা এশিয়া ও আমেরিকাকে পানামাতে সংযুক্ত করার একটি বড় সুযোগ দেখতে পাচ্ছি।’ চীনের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য ‘বেল্ট এবং রোড’ ফোরামে অন্যান্য বিদেশী নেতাদের সঙ্গে তিনিও অংশ নেবেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই উদ্যোগ ‘বেল্ট এবং রোড’ প্রকল্প প্রায় ১২টি দেশে রেলওয়ে, বন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য প্রকল্প নির্মাণ করছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, ভারতের মতো দেশগুরি মনে করে যে, বেইজিং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব অর্জন করছে এ ব্যায় করছে। বেইজিংয়ের কার্নেগী-সিংহুয়া সেন্টারের চীন-ল্যাটিন আমেরিকা সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ম্যাট ফেরচেন বলেন, ‘এটি নিশ্চিত প্রকাশ্যে অথবা পরোক্ষ যে ভাবেই হোক খুব দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র কঠিন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে।
পানামার নেতারা চীনকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের উৎস হিসাবে দেখলেও ওয়াশিংটনের সাথে দ্ব›দ্ব এড়াতে চান। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে পানামর প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘এটি আমাদের কৌশলগত অংশীদারের সাথে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না।’
ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির মধ্যে চীনের কাছ থেকে ভেনিজুয়েলা ৬২০০ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে। ব্রাজিল ৪২০০ কোটি, আর্জেন্টিনা ১৮০০ কোটি ও ইকুয়েডর ১৭০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে। সম্প্রতি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজও বলেছেন, তিনি ‘বেল্ট এন্ড রোডে’ যোগদান করার কথা বিবেচনা করছেন। এমন হলে চীন মার্কিন সীমান্তেও পৌঁছে যাবে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, চীনের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও গত বছরের অক্টোবরে পানামা সফরে যেয়ে ভরেলার সাথে সাক্ষাত করেন। পরে তিনি পানামার সাংবাদিকদের বলেন, চীনা বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের চোখ খোলা রাখা উচিত। ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর সংগঠন জি-২০ টি বৈঠকে পম্পেও বলেন, ‘চীন দেশগুলিতে যেভাবে প্রবেশ করছে সে বিষয়ে আমরা চিন্তিত।’ তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্প সবসময় ‘ভাল উদ্দেশ্য’ দ্বারা চালিত হয় না।’
২০১৭ সালের জুন মাসে পানামা তাইওয়ানকে চীনের অংশ বলে ক‚টনৈতিক স্বীকৃতি দেয়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির কারনে এই অঞ্চলগুলো যুক্তরাষ্ট্র বিমুখ হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের পর পানামা খালের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবহারকারী চীন। তাদের দুইটি কোম্পানি পানামা খালে চতুর্থ সেতু নির্মাণের জন্য দেশটির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।



 

Show all comments
  • Yasin ১০ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৪৫ এএম says : 0
    যুক্তরাষ্ট্র্র তাদের আধিপত্য হারাতে শুরু করেছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Tasnim Khan ১০ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৪৬ এএম says : 0
    অনেক তো মাতুব্বারি করেছেন। এবার চীন করবে।
    Total Reply(0) Reply
  • zafar iqbal ১০ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:৪৬ এএম says : 0
    শঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চীন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ