Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আইএইচটি বন্ধ ঘোষনা

কঙ্কাল বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১০ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:৪৩ এএম | আপডেট : ১১:১৮ এএম, ১০ এপ্রিল, ২০১৯

কঙ্কাল বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় রাজশাহী ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত অবস্থায় এগারোজন শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‘পরবর্তী অবস্থা আরও অবনতি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিপ্লোমা কোর্স জানুয়ারি-২০১৯–এর অবশিষ্ট মৌখিক পরীক্ষাসমূহ এবং বিএসসিসহ ডিপ্লোমা কোর্সের সকল বর্ষের ক্লাসসমূহ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্ররা মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) রাত ৮টার মধ্যে ছাত্রাবাস ছেড়েছেন। ছাত্রীরা আজ হোস্টেল খালি করেছে। আইএইচটিটির একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আইএইচটি’র শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তৃতীয় বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের দুই নম্বর গ্যালারিতে কঙ্কাল বিক্রি জন্য প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এই তিনজন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামানের অনুসারী।
সেখানে সভাপতির অনুসারী প্রথম বর্ষের ছাত্র সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ওই তিন শিক্ষার্থীর কথা–কাটাকাটি হয়। তিন শিক্ষার্থী বেরিয়ে চলে আসেন। তাঁরা সভাপতির কাছে মীমাংসার জন্য যান। সেখানেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ছাত্রলীগের আহত কর্মীদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এঁদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের পাঁচজন ও সভাপতির পক্ষের একজন।
সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের পাঁচজন হচ্ছেন ছাত্রলীগ কর্মী ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম, ডেন্টাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসমাউল হোসেন, রেডিওলোজী অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি সরকার, একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আল আমীন ও ফিজিও থেরাপি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জ্যোতি সিদ্দিক।
এরমধ্যে নাফিউল ইসলাম ও আসমাউল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসমাউলের মাথায় ২৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এঁরা সবাই ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক। সভাপতির পক্ষের আহত হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা।
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান বাদী হয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় সভাপতিসহ আটজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া আহত শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলামের মা শরীফা বানু বাদী হয়ে একই ঘটনায় অপর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পরে শুনেছেন, সভাপতির সমর্থকেরা তাঁর উপস্থিতিতেই শামীম ছাত্রাবাসে ঢুকে তাঁর (সাধারণ সম্পাদকের) নিজের এবং সমর্থকদের তিনটি কক্ষ ও মসজিদের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন।
সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, ‘সভাপতির অনুসারীরা তাঁর কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা ও ৩১০ নম্বর কক্ষ থেকে ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যান। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’
আইএইচটি শাখার সভাপতি আসলাম সরকার বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের কর্মী–সমর্থকেরাই আহত হয়েছেন। তবে যাঁদের কক্ষ ভাঙচুর করার অভিযোগ করা হচ্ছে, তাঁরা নিজেরাই তাঁদের কক্ষ ভাঙচুর করে সাংবাদিকদের খবর দিয়েছেন।
নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেখান থেকে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত পূর্বক এ ব্যাপারে মামলা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ফলে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর একইভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেসময় ছাত্রলীগের ওই কমিটি বাতিল করা হয়েছিল এবং ছাত্রলীগের চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাজশাহী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ