Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

রডের বদলে কাঠ, খসে পড়ছে পলেস্তারা

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর থেকে | প্রকাশের সময় : ১২ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

বিদ্যালয় ভবনের ছাদ খসে পড়ছে। কারন রডের বদলে কাঠ দিয়ে ছাদ ঢালাই করা। ১৯৯৬ সালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮৩ নং টঙ্গিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন তৈরী হয়। মাত্র ২৩ বছর পর চিত্র এমনই।
গত ১০ এপ্রিল সকালে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর আগেই ভবনের দুটি কক্ষের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে। এতে ভেসে উঠে রডের পাশাপাশি কাঠ দিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের দৃশ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানি ছাদে জমে আছে, আর ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে পানি পড়ছে ক্লাসে। পানির সাথে ছাদের নিচের অংশে ফাটল। শুরু হয়েছে আস্তর খসে পড়া। আতংকে বিদ্যালয়ের ২শ’ ৭২ জন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম বলেন, ২০১৩ সাল থেকে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের চাহিদা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন ভবন হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের দুইটি ভবন। ২০০৯-১০ সালে নির্মিত ভবন দু’কক্ষ বিশিষ্ট। নাম মেঘনা ভবন। ১৯৯৬ সালে নির্মিত ভবনের নাম ডাকাতিয়া ভবন। এ ভবনে চারটি কক্ষ। এখানে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাস হয়। কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিপ‚র্ণ এ ভবনে ক্লাস নিতে হয়। এবার আর ক্লাস নেয়া সম্ভব না।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অহিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু নতুন ভবন বরাদ্দ হচ্ছে না। খোলা আকাশের নিচে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। সারাদেশে এখন প্রাকৃতিক দুযোর্গ চলছে। যেকোন মূর্হুতে এ বিদ্যালয়ে বিপর্যয় হতে পারে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাফসিকুর, সাব্বির হোসেন ও তানজিম হায়দার বলেন, বৃষ্টির পানি বইতে পড়ে। সকালে এসে দেখি ছাদের আস্তর ভেঙ্গে পড়েছে। ভবনে ক্লাস করতে আমাদের ভয় লাগে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন বলেন, ওই ভবনে ক্লাস বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তারপরও প্রধান শিক্ষক কক্ষ না থাকায় ওই ভবনে ক্লাস নিচ্ছেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৮টি ঝুঁকিপ‚র্ণ ভবনের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। শিগগির নতুন ভবন বরাদ্দ হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
তিনি কাঠের ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৯৬ সালে নির্মিত সবকটি ভবনই অনিয়ম হয়েছে। ওই সনে নির্মিত সবগুলো ভবন প্রায় পরিত্যক্ত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন