Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান, গৃহবন্দি প্রেসিডেন্ট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম


গত ৩০ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় থাকা সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বাশিরকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। গতকাল বৃহষ্পতিবার এই অভ্যুত্থানের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা দেন, দেশ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ৩০ বছর ধরে চলা শাসনের অবসান ঘটেছে।
সুদানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আওয়াদ মোহাম্মদ আহমেদ ইবনে আউফ বলেন, আল-বশিরকে সেনা হেফাজতে নেয়া হয়েছে ও তার সরকার ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং সংবিধান স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দায়িত্বে থেকে আগামী দুই বছরের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সেখানে স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ওমর আল-বশিরকে গৃহবন্দি করার পাশাপাশি তার ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির শতাধিক নেতাকর্মীকেও আটক করেছে সেনাগোয়েন্দা সংস্থা। এদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদেল রহিম মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলী ওসমান ত্বহা এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রধান আহমেদ হারুনের মতো নেতারাও রয়েছেন। যদিও দেশটির একটি সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে পরে বশির বাদে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সুদানের রাষ্ট্রীয় টিভি ভবনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ওমদুরমানে ওই ভবনটির ভেতরেও প্রবেশ করেছেন অনেক সৈন্য। খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইটের উড্ডয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে, অবতরণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। রাষ্ট্রীয় টিভি ও রেডিওতে দেশাত্মকবোধক গান প্রচার করা হচ্ছে, যেমনটি গণবিক্ষোভের পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিলে করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও রাজধানীর গুরুত্বপ‚র্ণ সড়ক এবং সেতুতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে স্বাধীন হওয়ার পরে সুদানে সবচেয়ে বেশী সময় ধরে ক্ষমতাসীন ছিলেন ৭৫ বছর বয়সী আল-বশির। তিনি পশ্চিমাদের কাছে ‘প্যারিয়াহ’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন এবং দারফুরে সংঘাতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক গণহত্যার অভিযোগে দোষী সাবাস্ত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে একটি ইসলামী ও সামরিক-সমর্থিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক জেনারেল আল-বাশির ক্ষমতায় আসেন। তিনি নিয়ন্ত্রণ আরো দৃঢ় করতে নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী এবং মিলিশিয়া গঠন করেছিলেন।
এর আগে, বিক্ষোভকারীরা আল-বাশিরের উৎখাতের দাবিতে রাজধানীর খার্তুমে সেনা সদর দপ্তরে বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। তারা রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে ¯েøাগান দেয়, ‘আপনি ৩০ বছর ধরে নাচছেন। এখন আমাদের পালা।’
সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভের শুরু মূলত ডিসেম্বরে জ্বালানি ও রুটির দাম বৃদ্ধির এক সরকারি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘোষণায় রুটির দাম ২ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ৬ সেন্ট করা হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাও ক্ষুব্ধ করে জনগণকে। ফলে রাজপথে নেমে আসেন তারা। বিক্ষোভ ভিন্ন দিকে মোড় নেয় গত মঙ্গলবার। এদিন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে অন্তত ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ছয় সদস্যও রয়েছেন। পুলিশের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ও এ বিক্ষোভ ও প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে। গত বুধবার সেনা সদরদফতরের সামনে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান আরও বাড়ে। সেখানে তারা টানা পঞ্চম দিনের মতো ওমর আল-বশিদের পদত্যাগ দাবিতে ¯েøাগান দিতে থাকেন।
আল-বাশিরের তিন দশক ধরে শাসন দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধের জন্য চিহ্নিত হয়েছে। ২০১১ সালে দেশ ভাগ হয়ে একটি নতুন জাতি, দক্ষিণ সুদান, স্বাধীনতা লাভ করে। সুদানের উত্তর-পশ্চিমের প্রতিবেশী দক্ষিণ সুদান ও লিবিয়াও এখন সশস্ত্র সংঘাত ও ব্যাপক আঞ্চলিক অস্থিরতার শিকার। এজন্য সুদানেও অচিরেই গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ অঞ্চলের আরেক নেতা ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেল আজিজ বুতফ্লিকা বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সুদান


আরও
আরও পড়ুন