Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

মার্ক ফিল্ডের উক্তি এবং আমাদের গণতন্ত্র

মহিউদ্দিন খান মোহন | প্রকাশের সময় : ১৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড আমাদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে যে মন্তব্য করে গেছেন, তা রাজনৈতিক সচেতন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার ওই মন্তব্যকে যথাযথ এবং বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করেছেন। মার্ক ফিল্ড বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কাছের বন্ধু হিসেবে বৃটেন স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থাকা এক প্রত্যয়ী বাংলাদেশ দেখতে চায়। বন্ধু হিসেবে আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবারও বলছি, এখানে ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয়েছে, তা গণতন্ত্রের মানদন্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই নির্বাচনের যত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার পূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহŸান জানাচ্ছি।’ মার্ক ফিল্ড আরো বলেছেন, ‘তার দেশ দেখতে চায় উদীয়মান গণতান্ত্রিক ভ‚মি বাংলাদেশ অবাধ ও স্পন্দনশীল গণমাধ্যমের দ্বারা জবাবদিহির আওতায় থাকবে।’
গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত সেমিনারে বৃটিশ প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে যে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রত্যাশার কথাই অনুরণিত হয়েছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। কেননা, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সেটাকে স্থায়ী রূপ দেয়ার জন্য অবাধ গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা এদেশের মানুষের চিরকালের চাওয়া। তাদের সে প্রত্যাশা যে আজ অবধি পূরণ হয়নি সে কথা বলাই বাহুল্য। গণতন্ত্রের সূর্য এদেশের আকাশে পূর্ণ অবয়বে উদিত হয়ে কখনোই তার আলো বিতরণ করতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে সে সূর্য অনাকাক্সিক্ষত মেঘে ঢাকা পড়েছে, কখনো বা ঝড়ো হাওয়া দিয়েছে সব ওলট পালট করে। তবে, নব্বইয়ের গণঅভ‚্যত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের আবমুক্ত হওয়ার পর যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা এবং সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে সে সম্ভাবনা হোঁচট খেয়েছে বারবার। সে পুরনো কাসুন্দি এখানে নাহয় নাই বা ঘাটলাম। কেননা, যারা রাজনীতির খোঁজ-খবর রাখেন, তারা সেসব কথা ভালোভাবেই জানেন।
মার্ক ফিল্ড যে নির্বাচনের কথা বলেছেন, সে নির্বাচন যে দেশ-বিদেশে কারো কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হয়নি, তা নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন সম্বন্ধে কথা উঠলে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা এই বলে সাফাই গান যে, বিএনপি নির্বাচনে না আসায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারেণেই ওইরকম একটি নির্বাচন করতে তারা বাধ্য হয়েছিলেন। কৈফিয়ৎ হিসেবে একেবারে ফেলে দেয়ার মতো নয়। কেননা, একটি পক্ষ যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তার জন্য নির্বাচন তো বসে থাকতে পারে না। কিন্তু এবার বিএনপিসহ সবগুলো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নেয়ার পরও কী সে নির্বাচন অর্থবহ এবং গ্রহণযোগ্য হয়েছে? সেটা একেবারেই হয়নি। কেননা, নির্বাচেনে সরকারি দল এবং প্রশাসনের ক্ষমতা ও শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি ছিল একেবারেই প্রকাশ্য। নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সরকারি দলের কর্মী-ক্যাডারের মতো আচরণ করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের তারা নির্বাচনী মাঠে দাঁড়াতেই দেয়নি। এমন কি মামলার ভয় দেখিয়ে তাদেরকে এলাকাছাড়া করার মতো অগণতান্ত্রিক তৎপরতায়ও তারা নিয়োজিত ছিল। কোথাও কোথাও তাদের আগ্রহ-উদ্দীপনার কাছে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরাও হার মেনেছে।
এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, দল হিসেবে বিএনপি এখন অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে আছে। দলের প্রধান নেতা কারাগারে, দ্বিতীয় নেতাও আদালতের দন্ড মাথায় নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ দু’জন ছাড়া নেতাকর্মীদের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা বিএনপিতে নেই। যদিও বলা হয়েছে, তারা যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দল চালাচ্ছেন, তবে কার্যত তার প্রতিফলন ঘটছেনা। বরং এলোমেলো কায়কারবার দলটির নেতাকর্মীদের হতাশই করেছে। তারপরও জনপ্রিয়তায় আওয়ামী লীগের খুব কাছাকাছি থাকা বিএনপি এমন পরাজয় বরণ করবে তা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। নির্বাচনে জিতে তারা এবার সরকারে যাবে- এমন আশা সম্ভবত কেউ-ই করেননি। তবে, আসন সংখ্যার বিচারে একটি সম্মানজনক অবস্থানে দলটি থাকবে-এমনটি ভেবেছিলেন সবাই; যেটাকে মানসম্মত পরাজয় বলা যায়। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল যা বেরোলো, তাতে হতভম্ব না হয়ে উপায় ছিলনা। আর এ রকম বিস্ময়কর ফলাফলের পেছনের কারণটিও আর কারও অজানা থাকেনি। বিএনপিসহ পরাজিত দলগুলোর পক্ষ থেকে রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখাসহ যেসব অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার অধিকাংশই পরবর্তীতে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়েছে। এমন কি ‘ইভিএম চালু হলে রাতে ব্যালট বাক্স ভরার আর সুযোগ থাকবে না’-প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ মন্তব্য সরকারবিরোধী পক্ষের অভিযোগকে অনেকাংশেই সত্য বলে প্রমাণ করেছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডের মন্তব্যের যথার্থতা নিয়ে কোনো সংশয় থাকার কথা নয়। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন গণতন্ত্রের মানদন্ড পূরণে যে ব্যর্থ হয়েছে তা তো খালি চোখেই দেখা যায়। ওপরে যেসব ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো কী গণতন্ত্রের মানদন্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য? গণতন্ত্রের অন্যতম অনুষঙ্গ ও সৌন্দর্য হলো অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। গণতন্ত্র অর্থই হলো রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ। আর সেটা করা হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ তাদের পছন্দের দলকে ম্যান্ডেট দেয় সরকার গঠনের। দল সরকার গঠন করে রাষ্ট্রকে পরিচালনা করে। কিন্তু যে নির্বচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার অনুপস্থিত থাকে, ভোট দিতে যায় না বা যেতে পারে না, সে নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে কী জনরায় প্রতিফলিত হতে পারে?
রাজনীতি, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র, সরকার- সবকিছু জনগণকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ যে ধীরে ধীরে এসব বিষয় বা প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তা কী স্বীকার্য নয়? পর পর দু’টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হতচ্ছিরি দশা জনগণকে নির্বাচন বিমুখ করে তুলেছে, সে কথা অস্বীকার করা যাবে না। জনগণ যে এখন রাজনীতি নির্বাচন নিয়ে মোটেই আগ্রহী নয় তা বলা নিষ্প্রেযোজন। ভোটের প্রতি জনগণের এ নিস্পৃহ মনোভাবের প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি ৩০ ডিসেম্বর পরবর্তী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও চলমান উপজেলা নির্বাচনগুলোতে। ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছে না। কেন এ নেতিবাচক মনোভাব? এ প্রশ্নে উত্তর সবারই জানা। নির্বাচন যদি অবাধও প্রতিযোগিতামূলক না হয়, তাহলে সে নির্বাচনের প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো আগ্রহ থাকে না, থাকার কথাও নয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মানোনীত মেয়র প্রার্থী শাফিন আহমেদ নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ‘নির্বাচন থেকে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে’। কিন্তু আমাদের দেশের নির্বাচনী ইতিহাস তো সে কথা বলে না। এদেশের মানুষ নির্বাচনকে এক ধরণের উৎসব হিসেবেই গ্রহণ করে থাকে। কী জাতীয় নির্বাচন, কী স্থানীয় নির্বাচন, সবটাতেই তাদের অংশগ্রহণ হয় স্বতঃস্ফ‚র্ত। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে তারা ভোট দিতে চলে যায় দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে । অথচ এবার আমরা কী দেখলাম? ঘরের পাশে ভোটকেন্দ্র, অথচ ভোটাররা কেউ সেদিকের পথ মাড়াচ্ছে না! বলাই বাহুল্য, নির্বাচনের প্রতি সাধারণ মানুষের এ বিমুখতা বা নিস্পৃহতা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।
বাংলাদেশ আজ অর্ধ শতাব্দীর দ্বার প্রান্তে। ইতোমধ্যে আমরা আটচল্লিশ বছর অতিক্রম করেছি। মাত্র দুই বছর পর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। এই সময়ের মধ্যে আমাদের অর্জন কিন্তু কম নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন-অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সে কথাও বলেছেন। আমাদের উন্নয়ন অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, প্রশংসা করেছেন। কিন্তু একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে উপাদানটি, সেক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে পড়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আর পিছিয়ে পড়া সে ক্ষেত্রটি হলো গণতন্ত্র। অর্থনীতিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে, আমরা যেভাবে এগিয়েছি, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আমারো যেন ততটাই পিছিয়েছি।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ বক্তৃতার অমর বাণীটি আমরা প্রায়ই শুনে থাকে। তবে, তা আংশিক। তারা গণতন্ত্র বলতে ‘অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’-এর কথা বলে থাকেন। কিন্তু আব্রাহাম লিংকনের বক্তৃতার ওই অংশটির পূর্ণ বাক্যটি বলেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, শ্যাল নট প্যারিশ্ড ফ্রম আর্থ’। এর বাংলা তরজমা দাঁড়ায়, ‘জনগণের সরকার, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার ও জনগণের জন্য যে সরকার, তা কখনোই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে না।’ তার মানে এই নয় যে, ওই ধরনের একটি সরকার যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবে। লক্ষণীয় হলো, আব্রাহাম লিংকন সরকারের কথা বলেছেন, কোনো দলের কথা নয়। দল আর সরকার এক নয়। একটি সরকার যখন ক্ষমতাসীন হয়, তখন তার দৃষ্টিভঙ্গী দলীয় না হয়ে জনগণমুখী হওয়াই বাঞ্ছনীয়। দুঃখজনক হলো, আমাদের দেশের সরকারগুলো তাদের আচরণ দ্বারা এ সত্যটি তুলে ধরতে পারেনি যে, তারা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্যই নির্বাচিত। ফলে গনতন্ত্রের যে মূলমন্ত্র তা যেন তারা বিস্মৃত হয়ে থাকে। আর এ বিস্মৃতি-বিভ্রম তাদেরকে সত্যদর্শন থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর সে কারণেই তাদের কাজকর্ম, চিন্তাভাবনা, আচরণ দলীয় থেকে যায়, সার্বজনীন হয়ে উঠে না। ইতিহাসের পাতায় ইতিবাচকভাবে স্থান করে নেয়ার জন্য যে ধরনের কাজ করা দরকার তা তারা করে না। ফলে ইতিহাসে তাদের স্থান হয় নেতিবাচকভাবেই। আবার এটাও ঠিক যে, ক্ষমতাসীনরা কখনোই ভাবে না যে, তারাও একদিন ক্ষমতাহীন হতে পারেন। তাদের সৃষ্ট প্রতিক‚ল পরিস্থিতিতে অন্যরা আজ যেমন হিমশিম খাচ্ছে, কাল তেমন পরিস্থিতিতে তাদেরও পড়তে হতে পারে। আর সেজন্যই জ্ঞানীরা বলেছেন, একটি জানালা অন্তত খোলা রাখতে। কিন্তু আমরা দেখেছি, কীভাবে ক্ষমতাশালীরা সব জানালা বন্ধ করে দিয়ে গোটা ঘরকেই অন্ধকার করে রাখেন। আর তাতে সুবিধা হয় সুযোগ সন্ধানী তস্করদের, যা গণতন্ত্রের জন্য মোটেই সুখকর নয়। বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশার কথা বলেছেন, সে প্রত্যাশা এদেশের প্রতিটি মানুষের। কিন্তু তাদের সে প্রত্যাশা কবে পূরণ হবে, বোধকরি একমাত্র ভবিতব্যই তা বলতে পারে।
লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গণতন্ত্র

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন