Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

এ তো আগের সেই টাইগার উডস!

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ এপ্রিল, ২০১৯, ৭:০১ পিএম

২০১৭ সালে ছিলেন র‌্যাঙ্কিংয়ের ১১৯৯তম অবস্থানে! গলফের জীবন্ত কিংবদন্তি হারাতেই বসেছিলেন ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু তিনি যে টাইগার উডস! এ জন্যেই কিনা প্রায় ১১ বছর পর আবারো গলফের মেজর জিতে ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে আমেরিকান এই গলফার। রোববার অগুস্টা ন্যাশনালে পঞ্চম মাস্টার্স শিরোপা জিতে নেন তিনি। তার এই প্রত্যবর্তনকে ক্রীড়া জগতের অন্যতম সেরা প্রত্যবর্তন বলে মনে করছেন অনেকে।
পারের চেয়ে ১৩টি শট কম খেলে অগাস্টায় জয় পান টাইগার উডস। এক শট কম খেলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্ধ¦ী আমেরিকার জাস্টিন জনসন, জান্ডার শুফেলি ও ব্রুকস কেপকার চেয়ে। এবারই প্রথমবারের মতো উডস পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ান। অগাস্টা ন্যাশনালে এটি উডসের ষষ্ঠ জয়। শেষবার ২০০৮ সালে ইউএস ওপেন জিতেছিলেন এই গলফার। ক্যারিয়ারে এটি তার ১৫তম শিরোপা। তবে মাস্টার্স হিসেব করলে শেষবার জেতেন ২০০৫ সালে। সামগ্রিক হিসেবে নিকৌলসের মেজরের চেয়ে তিনটি মেজর পিছিয়ে আছেন উডস।
নানান উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে উডসের ক্যারিয়ার। পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য জীবনে ভাঙ্গনের প্রভাব তার ক্যারিয়ারে পড়েছে। মূলত গলফ কোর্সের বাইরের জীবন নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাকে। এছাড়া চারবার পিঠের অস্ত্রোপচার করান তিনি। এর মাঝে ২০১৭ সালে গ্রেফতার হন অসংলগ্ন অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে। র‌্যাঙ্কিংয়ে এমন পতনের পর অনেকে ভেবেছিলেন, টাইগার উডসের ক্যারিয়ারই হয়ত শেষ।
কিন্তু সবকিছুকে পেছনে পেলে আবরও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী এই গলফার। বলা হচ্ছে ক্রিড়াঙ্গনে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে নাটকীয় ঘুরে দাড়ানোর নজির। নিজের সন্তানদের জন্য এটি স্বরনীয় ঘটনা হয়ে থাকবে বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশে উডস, ‘আমরা নতুন কিছু স্মৃতি তৈরী করছি তাদের (সন্তানদের) জন্য এবং এটি খুবই স্পেশাল।’ তিনি বলেন, ‘ আরো একটি সুযোগ দেয়ার জন্য আমি ভাগ্যবান এবং এমন কিছু করতে আমি ভালোবাসি। কিছু সমস্যার কারণে কয়েক বছর আমি মারাত্মক অনিশ্চয়তায় ছিলাম।’ হাল না ছাড়ার মানষিকার প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, ‘শরীরটা আগের মত নেই কিন্তু এখনো ভালো হাত যুগল তো রয়েছে।’
উডসের এমন কীর্তি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে ক্রীড়াপ্রেমীদের। ২৩টি টেনিস গ্র্যান্ডস্ল্যামজয়ী আমেরিকান টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি সত্যিই কেঁদে ফেলেছি টাইগার উডসকে দেখার পর, এই শ্রেষ্ঠত্বে কোনো ভাগ নেই।’ টেনিসের সাবেক এক নম্বর তারকো ক্রিস এভার্ট বলেন, ‘টাইগার প্রমাণ করেছে যে মানুষ যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারে, খেলায়, জীবনে।’
বাস্কেটবল তারকা স্টিফেন কারি বলেন, খেলায় এটাই সেরা ঘুরে দাঁড়ানো। এছাড়া কোবে ব্রায়ান্ট, ম্যাজিক জনসনদের মতো বাস্কেটবল তারকারাও টাইগার উডসকে নিয়ে স্তুতি প্রকাশ করেন। রিয়াল মাদ্রিদ ও ওয়েলশ ফুটবল তারকা গ্যারেথ বেল এই জয়কে ‘অবিশ্বাস্য’ আখ্যা দেন। কিংবদন্তী ক্রিকেটার ইয়ান বোথাম বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ি একটি পারফরম্যান্স করলেন উডস। ১৫ নম্বরটি এসেছে, আরো আসবে।’
শুধু ক্রীড়াজগৎ না, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও টাইগার উডসকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা উডসের অধ্যাবসায় ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। আর দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘খুব চাপে থেকে এই খেলা খেললেন উডস, দারুণভাবে ফিরে এসেছেন উডস।’
বিবিসির স্পোর্ট উপস্থাপক গ্যারি লিনেকার মনে করেন, ২০১৬ সালে লেস্টার সিটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জেতার পর উডসের মেজর জয়ই ক্রীড়া জগতে সবচেয়ে বড় ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যানও উডসের প্রশংসা করে টুইট করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন