Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ক্ষমতাসীনরা নুসরাত হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে----ড. মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ক্ষমতাসীনরা (আওয়ামী লীগ) নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, নুসরাতের হত্যাকারীরা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী। আওয়ামীলীগ নেতার কারনেই এই হত্যাকান্ডের স্বপক্ষে সভা সমাবেশ হয়েছে ফেনীর সোনাগাজীতে। আমার বিশ্বাস, সে (প্রিন্সিপাল সিরাজ উদদৌলা) যদি আওয়ামী লীগ না করতো তাহলে ধর্ষকের পক্ষে মিছিল করার মতো নৃশংস কাজ তারা করতে পারতো না। সিরাজ (সিরাজ উদদৌলা) ওলামালীগ নেতা। এজন্য আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা বিভিন্ন কথা বলে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এখন মাদরাসা শিক্ষার উপর কটাক্ষ করছে। দোষ ব্যক্তির কোন নির্দিষ্ট শিক্ষা ব্যবস্থার না। গতকাল (সোমবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আদর্শ নাগরিক আন্দোলন’-এর তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

খন্দকার মোশাররফ বলেন, যে হত্যাকান্ড সারাদেশকে নাড়া দিয়েছে, সেই অপরাধীরা আওয়ামী লীগের বলে বহিষ্কৃত হয়, গ্রেফতার হয় না। এই ধর্ষকের পক্ষে কারা মিছিল করেছে? এই আওয়ামী লীগ। যেখানে আইনের শাসন নেই সেখানে গণতন্ত্র থাকতে পারে না। বর্তমানে দেশে আইনের শাসন নেই, তাই গণতন্ত্রও নেই। সরকার দুবারই গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র না থাকলে দেশে কী হয়, তা আমরা দেখছি। বাংলাদেশকে ধ্বংস করার সব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। কোথাও স্বস্তি নেই। দেশে এখন জনগণের অধিকার, জনমতের অধিকার, লেখার অধিকার, বলার অধিকার নেই। আমাদের এখন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, বাংলাদেশ এখন কোন পথে যাচ্ছে!
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ১৪ টি ব্যাংকের মূলধন এখন তিন জন আওয়ামী নেতার হাতে। বিচারকরা স্বধীনভাবে বিচার করতে পারেন না। তারেক রহমানকে খালাস দেওয়া বিচারককে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছিলো। বিচার ব্যবস্থাও এক জন ব্যক্তির ইচ্ছার অনিচ্ছায় পরিচালিত হচ্ছে। সাক্ষী প্রমাণ ছাড়াই খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়েছে উচ্চ আদালত। এ ধরনের মামলায় জামিন হয়। কিন্তু বিভিন্ন মারপ্যাচে ১৩ মাস তিনি অন্যায়ভাবে কারাগারে। দেশে যে আইনের শাষন নাই এটিই তার উদাহরণ। এজন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন এবং অন্যায় অবিচার মুক্ত গণতন্ত্রের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে সকলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুমুদর রহমান মান্না বলেন, নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি কে? আওয়ামী লীগ নেতার কারনেই নুসরাত মারা গেছে। নুসরাতের জন্য চোখ ভিজে যায়। কিন্তু সরকার অশ্রুর মূল্য দেয়না। যারা ক্ষমতায় আছে তারা আগের বিভিন্ন ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ তারা আমাদের সরকার নয়। তারা নির্বাচিত নয়। তাদের মানবো না।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমূখ। ###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ