Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

‘ক্রান্তিকাল’ অতিক্রম করছে বিশ্ব

আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব

হাসান সোহেল, জাতিসংঘের সদর দপ্তর (নিউ ইয়র্ক) থেকে : | প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম | আপডেট : ১২:১৪ এএম, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯

বিশ্বের কমবেশি সব দেশই আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। দিন দিন কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বাড়ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক শ্রমবাজার এক অস্থির সময় পার করছে। এমন বাস্তবতাকে এক ‘সঙ্কটময় মুহূর্ত’ বা ‘ক্রান্তিকাল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সভায়। বাণিজ্য যুদ্ধ, অসম প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিনই হবে বলে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইকোসকের সভায় নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় উঠে এসেছে।
সভায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে আবহাওয়া পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। এজন্য তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশ এর বিরূপ প্রভাবের শিকার যা এর উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ করছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত সোমবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের কান্ট্রি স্টেটমেন্ট প্রদানকালে এসব কথা বলেন।
সভায় আ হ ম মুস্তফা কামাল আরো বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন এবং এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে হবে। এই ফোরামের সভায় শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, উন্নয়নশীল সব দেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মুস্তফা কামাল। এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর পক্ষ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এসব দেশের টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে নীতিগত বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করে সহযোগিতার পদক্ষেপগুলো অবারিত রাখতে হবে। ‘টেকসই উত্তরণ’ অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথাও ওই ফোরামে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, “এলডিসি থেকে উত্তরণ আমাদের জাতীয় আকাক্সক্ষার একটি। বাংলাদেশ দ্রুততার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ গ্রহণ করেছি এবং এই রূপকল্পদ্বয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি”। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সমসত্ত্বাকে নষ্ট করছে। বাংলাদেশ একটি সমজাতীয় সত্ত্বার দেশ। রোহিঙ্গারা আমাদের সমসত্ত্বার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের ক্ষতি করছে।
ইকোসকের সভায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থোনিয়ো গুতারেস বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন আমাদের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছে। শ্রমবাজার অস্থির হয়ে উঠছে। কর্মসংস্থানের বদলে মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে। এসব কারণে এসডিজি বাস্তবায়ন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। বৈশ্বিক এসব চ্যালেঞ্জ একক নয়; সবাইকে একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। গুতারেস বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অনেক টাকা দরকার। বিশ্বের অনেক দেশ আছে; যেসব দেশে রাজস্ব আদায়ের হার খুবই কম। রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। সারা বিশ্বে যেভাবে বৈষম্য বাড়ছে, তাতে সোমবারের সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশপাশি কর্মসংস্থানের শ্লথগতি নিয়েও আলোচনায় উঠে আসে। এসডিজি বাস্তবায়নে বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি শালীন চাকরি তৈরির ওপর জোর দেন অনেকে। পাশাপাশি তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর তাগিদ দেয়া হয়।
সোমবারের সভায় গত এক দশকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের বৃত্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন প্রবৃদ্ধি আট শতাংশ অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার ৩১ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষের অভিন্ন লক্ষ্য হলো ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করা, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। জাতিসংঘ মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতি, সদস্য দেশগুলো থেকে আগত মন্ত্রিসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর কর্মকতারা, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিগণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, সিভিল সোসাইটি ও ব্যবসায়ী সেক্টরের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রতিনিধিগণ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৪র্থ এফএফডি’র এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভার বিরতিতে ইউএনডিপির প্রশাসক আসিম স্টেইনার এবং গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড এর নির্বাহী পরিচালক ইয়ানিক গ্লেমারকে এর সাথে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ইকোসকের এফএফডি ফোরামের ফলোআপ টেকসই উন্নয়ন লক্ষসমূহ বাস্তবায়নে একটি বৈশ্বিক আন্তঃসরকারি প্রক্রিয়া। ইকোসকের এই ৪র্থ উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন ফোরাম ১৫ এপ্রিল শুরু হয়েছে যা আগামী ১৮ এপ্রিল শেষ হবে।
#



 

Show all comments
  • Mohi Uddin ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:৩৮ এএম says : 0
    আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দরকার সমন্বিত উদ্যোগ।
    Total Reply(0) Reply
  • Khaled Hossain ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:৪১ এএম says : 0
    পাহাড়ে গাছ পাথর সংরক্ষন করতে হবে! যে লোট পাট চলছে পাহাড়ে উপকুলে কোন গাছ তাকবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Raju Ahammed ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:৪৪ এএম says : 0
    অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাহেব একদম ঠিক কথা বলেছেন
    Total Reply(0) Reply
  • সালাউদ্দিন ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:৪৪ এএম says : 0
    জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে প্রতিটি দেশকে সচেতন হতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • জাবেদ ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:৪৫ এএম says : 0
    অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাহেবকে আমার কাছে যথেস্ট যোগ্য মানুষ মনে হচ্ছে
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন