Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

রাজধানী থেকে ১৬ প্রতারক গ্রেফতার চাকরির নামে প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে চক্রের ১৬ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। গত সোমবার রাতে মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।
তিনি বলেন, চক্রটি গত ৮ বছর ধরে প্রতারণার মাধ্যমে দেড়শ’র বেশি চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। তারা ধরা না পরতে পাঁচটি ধাপে সু²ভাবে এ প্রতারণা করতো।
আটকরা হলোÑ লিঙ্কন ওরফে মাসুদ ওরফে প্রশান্ত কুমার সাহা (৪৩), হাছান জিয়া (৪৪), সাকির আলী ওরফে শাকিল (৩৬), জান্নাতুল ফেরদাউস ওরফে রাসেল (৩৩), সেলিম সরদার (৪৩), শেখ জাকির হোসেন (৪০), আব্দুল কাদের শরীফ (৩৩), হুমায়ুন কবির (৫০), খলিলুর রহমান (৪২), ইসমাইল হোসেন (৩৬), রাকিবুল ইসলাম ওরফে স¤্রাট (২৫), আবুল হোসেন ওরফে সায়মুন (২৮), কেরামত হোসেন ওরফে সজিব (৩৮), রুবেল বিশ্বাস (৩৩), কামরুজ্জামান (৪০), সাইফুল ইসলাম (২৬)।
তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নিয়োগপত্র, চাকরিপ্রার্থীদের সিভি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ঊর্ধ্বতন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার ব্যবহৃত ভুয়া সিল জব্দ করা হয়।
চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রের প্রতিটি সদস্য নিখুঁত ও দক্ষতার সঙ্গে পাঁচটি ধাপে এ প্রতারণা করে আসছিল। র‌্যাব জানায়, তারা প্রথমতÑ প্রোমোটার বা চাকরিপ্রার্থী সংগ্রাহক টিমের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের টার্গেট করতো। এরপর সেনাবাহিনী, রেলওয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংক, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দিয়ে কাগজপত্রসহ ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতো।
এরপর চাকরি প্রত্যাশীদের রাজধানীর অভিজাত এলাকার হোটেলে ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তের কথা জানাতো। চাকরিপ্রত্যাশীরা শর্তে রাজি হলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করতো।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বস্ততা তৈরির জন্য প্রতারক চক্রটি ভাইবা টিমের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর চাকরির ক্ষেত্রে সেনানিবাসের আশপাশের এলাকায় ভাইবার ব্যবস্থার করতো। একইভাবে ভূমি অফিস, রেলওয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে সচিবালয়ের আশপাশে সুবিধাজনক স্থানে ভুয়া মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করতো। মেডিকেল টিমের সদস্যরা চাকরির পূর্ববর্তী মেডিকেল সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতো। এভাবে যোগদানের ৩/৪ দিন আগে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদানের অজুহাতে চুক্তি অনুযায়ী বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।
র‌্যাব জানায়, সবশেষে ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিতে যোগদান করতে গেলে ভুক্তভোগীরা জানতে পারতেন নিয়োগপত্রটি ভুয়া। তখন তারা ওই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল নম্বর বন্ধ পেতেন এবং প্রতারকদের আগের অফিসে গিয়ে সেটিও বন্ধ পেতে। র‌্যাব জানায়, চক্রটি গত ৮ বছরে ১৫০-১৬০ জন প্রার্থীর কাছ এভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাজধানী


আরও
আরও পড়ুন