Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:২৩ এএম

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন ১৭ এপ্রিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।

পরে এ বৈদ্যনাথতলাকেই মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্ররূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।

ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় ঘোষণাপত্রে।

এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। মুজিবনগর সরকারের শপথের এদিন ১২ জন আনসার সদস্য বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পর ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতারে ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। এ ভাষণের মধ্য দিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারে- বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে।

আর ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরদিন দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা এবং সংবাদমাধ্যমে শপথ গ্রহণের সংবাদ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় এবং দেশের সব জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।

সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সোয়া ১০টায় গার্ড অব অনার, সাড়ে ১০টায় মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবসের জনসভা।

এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটি ২০১৯-এর আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেবেন সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় সংসদ সদস্য, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা।



 

Show all comments
  • ম নাছিরউদ্দীন শাহ ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১১:৪২ এএম says : 0
    বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্হপতি। সোনার বাংলার রুপকার। দেশ জাতির পদ চলার আদশ্য। বিশ্বের বরন্য জাতীয় নেতা শহীদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ মুজিব নগর দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি। মহান বীর শহীদের দেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে তাহার শ্রেষ্ঠ সন্তান বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা বিশ্ব সমাজে মানবতার মা নামে সম্মানিত। দেশ রত্ন মমতাময়ী মা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনাকে মুজিব নগরের দিবসে। শত শহস্র সালাম ও অভিনন্দন। বঙ্গবন্ধুরর স্বপ্নের সোনার বাংলার গড়ার পথে আপনি এগিয়ে য়াও মা জননী। লক্ষ কোটি কোটি সাধারণ মানুষ আপনার সাথে আছেন। আপনার হারাবার কিছুই নেই। আমরা আটার কোটি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার দোয়া আছে। আল্লাহ আপনার সহায়।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন