Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

রামগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী কর্মকর্তা অপহরণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯, ৬:০৯ পিএম

জেলার রামগঞ্জ উপজেলার হাফানিয়া গ্রাম থেকে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ী থেকে তুলে নেয়ার ৪ঘন্টা পর রাত ৮টায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় উদ্ধার পেয়েছেন গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী হিসাব রক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম বাবু।

মঙ্গলবার রাতে ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বশির আহম্মেদ মানিকের বাড়ী থেকে সরকারী এ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন নজরুল ইসলাম বাবুর মা মায়া বেগম ও নিকটাত্মীয়রা।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৃষ্ট বিষয় নিয়ে তিনটি পক্ষ রামগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বশির আহম্মেদ মানিকসহ ৪জনের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

একই ঘটনায় আজ বুধবার আবুল কাশেম ও নুরজাহান বেগম নামের আরো দুইজন দুইটি অভিযোগ দায়ের করেন রামগঞ্জ থানায়।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেম ও তার ভাইয়ের সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

বিরোধ নিরসনে আবুল কাসেম ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একতরফা বিবাদীপক্ষে অবস্থান নেয়ার সুযোগে বিরোধকৃত সম্পত্তিতে প্রতিপক্ষ স্থাপনা নির্মান শুরু করলে একই বাড়ীর প্রতিবেশী সরকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম প্রতিবাদ করেন।
এ ঘটনায় চেয়ারম্যান ক্ষীপ্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুলকে মোবাইলে হুমকি-ধমকি প্রদান করেন।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় দেবনগর গ্রামের মাসুদ, নূর হোসেন, রিশাদসহ ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে নজরুল ইসলাম বাবুর বাড়িতে গিয়ে তাকে বেদম মারধর করে অস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্ব সিএনজিতে তুলে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেও প্রচন্ড মারধর করে চেয়ারম্যানের লোকজন।
হসপিটালে চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে সন্ত্রাসী আমাকে পিটিয়ে নগদ টাকা এবং একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়।
পুলিশ আসার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে আমার নিকটাত্মীয়রা চেয়ারম্যানের বাড়ী থেকে আমাকে উদ্ধার করে হসপিটালে ভর্তি করেন।
এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা বশির আহমেদ মানিক বলেন, হাফানিয়া গ্রামের আবুল কাসেম সোলনামা দিয়ে প্রতিপক্ষকে বসতঘর তোলার সুযোগ দেয়। কিন্তু নজরুল ইসলাম মন্ত্রানালয়ের স্টাফ হয়ে এলাকাতে অবস্থান করে অনাধিকার চর্চা করে। তাকে আমার বাড়িতে ডেকে আনতে দলীয় লোকজন তার বাড়ীতে গেলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তুলে আনা বা মারধরের ঘটনা সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার এসআই কাউছার জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি নজরুল ইসলামকে বাবুকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়া জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। অপহরনের বিষয়টি সত্য নয়। তদন্ত চলছে, অভিযোগগুলোর তদন্ত করছেন রামগঞ্জ থানার এস আই কাউসারুজ্জামান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অভিযোগ


আরও
আরও পড়ুন