Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

প্রশ্ন : তাবলীগ ও আল-কুরআন পরস্পর সহযোগী নির্দেশ দেয় কিনা?

উত্তর দিচ্ছেন মুফতী মো : আবদুল্লাহ্ | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

 উত্তর : পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনের নিন্মোক্ত আয়াতগুলোর প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করলে, আমরা দা‘ওয়াত ও তাবলীগের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আরও অধিক উপলব্ধি করতে পারবো। উদাহরণত:

(১) আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহ্ও পর বিশ্বাস রাখবে।(০৩:১১০)
(২) তিনি আরও ইরশাদ করেন,“তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকতে হবে,যারা ভালো কাজের দিকে আহবান করবেএবং সৎকর্মের নির্দেশ দিবে ও অসৎকর্মে নিষেধ করবে; আর এরাই সফলকাম”।(০৩:১০৪ )
(৩) মহান আল্লাহ আরও বলেন,“ওই ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম, যে (মানুষকে) আল্লাহ্র দিকে আহবান করে,নেক আমল করে এবং বলে, ‘আমি তো অনুগতদের অন্তভর্‚ক্ত’।”(৪১:৩৩)
(৪) তিনি আরও বলেন, “আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ উপদেশ মু’মিনদের উপকারে আসে।”(৫১:৫৫)
(৫) তিনি আরও বলেন, “আর আপনি আপনার পরিবার-পরিজনকে নামাযের আদেশ দিন এবং তাতে নিজেও অবিচল থাকুন-।”(২০:১৩২)
-উপরিউক্ত সবগুলো আয়াত থেকেই আল্লাহ্র দিকে আহবান করা, কল্যাণের দিকে ডাকা, সৎকাজে আদেশদান, অসৎকাজে নিষেধ করা, নামাযের নির্দেশদান ইত্যাদি যা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে-এসবই প্রকারান্তরে ‘দা‘ওয়াত ও তাবলীগ’-এর অন্তর্গত।
অসৎকাজে নিষেধও ফরয: গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, কুরআন ও হাদীসের প্রায় সর্বত্রই ‘সৎকাজের আদেশের পাশাপাশি অসৎকাজে নিষেধের নির্দেশ সমান্তরালে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং ‘অসৎকাজে নিষেধ’ বাদ দিয়ে কেবল সৎকাজে আদেশদানের তাবলীগ করলেই উক্ত পারিবারিক, সামাজিক,রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ফরয দায়িত্ব পালিত হয়েছে বলে গন্য হবে না। দুটি দায়িত্বই পাশাপাশি চালিয়ে যেতে হবে। অবশ্য অসৎকাজে নিষেধ-এর তাবলীগ কালীন, এই-( “আপনি মানুষকে আপনার প্রতিপালকের পথে প্রজ্ঞা-কৌশলের মাধ্যমে এবং উত্তম উপদেশ দ্বারা আহবান করুন”(১৬:১২৫)-আয়াতখানার আলোকে ন¤্রভাবে,দয়াদ্র হয়ে,সংশ্লিষ্টদের কল্যাণ চিন্তায়, কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে তাবলীগ করতে হবে। সুতরাং এমন চিন্তা ও বক্তব্য যে,- “অসৎকাজে নিষেধ করতে গেলে হিংসা, হঠকারিতা ও অসন্তোষ জন্ম নিতে পারে; তাই কেবল সৎকাজে আদেশদানের মধ্যেই তাবলীগকে সীমীত রাখতে হবে”- এমন ধারণা আদৌ সঠিক নয়।(প্রাগুক্ত:৫১৩পৃ.)
অসৎকাজে নিষেধ-তাবলীগ-এর দ্বিবিধ পদ্ধতি: ওপরে বলা হয়েছে যে, যেসব লোকজন আপনার দায়িত্বে ও অধীনস্থে রয়েছে, যেমন স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও চাকুরে প্রমুখ। এদের পাপ,অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার জন্য যথাসাধ্য,সম্ভাব্য সব উপায়ে চেষ্টা চালানো ফরয। কিন্তু যারা আপনার অধীনস্থ নয়, তাদের পাপ-অপরাধ থেকে ফেরানো সকলের পক্ষে ফরয নয়; তা বরং ফরযে কিফায়া। তেমন লোকদের অসৎকাজে নিষেধের তাবলীগ করার দু’টি পদ্ধতি রয়েছে: (১) বিশেষ সম্বোধন, ও (২) ব্যাপক সম্বোধন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উত্তর


আরও
আরও পড়ুন