Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

গতি ফিরেছে ভূমি মন্ত্রণালয়ে

সরকারের ১০০ দিন

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০২ এএম

সরকারের মেয়াদের প্রথম ১০০ দিনে ৫৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে যে কয়টি মন্ত্রণালয়ে কাজের গতি বেড়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় তার অন্যতম। এই স্বল্প সময়ে স্বল্প মেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করায় মানুষ সুফল পেতেও শুরু করেছে। জমির ই-মিউটেশন কার্যক্রম যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়াও ভূমি অফিসকে দুর্নীতি মুক্ত করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। ভূমি অফিস দালাল মুক্ত, ভূমি রাজস্ব প্রশাসনে নামজারী, জমাভাগ ও জমা একত্রীকরণ এবং রেকর্ড সংশোধন, সরকারি খাস জমি ও অকৃষি জমি ব্যবস্থাপনা, সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সর্বোপরি ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু মন্ত্রণালয়ের গতি বৃদ্ধি করেছে। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভুমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে মেয়াদের প্রথম দেড় বছর ‘স্বল্প মেয়াদী’, পরবর্তী দেড় বছর ‘মধ্যম মেয়াদী’ এবং শেষ দুই বছরকে ‘দীর্ঘ মেয়াদী’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার পুরো পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার ডেলাইন ঘোষণা দিয়ে কাজ করছেন। এতে ভোগান্তি কিছুটা কমছে। ভুক্তোভোগীদের অভিমত এক সময়ের দুর্নীতির আখড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের সারাদেশের অফিসগুলোতে আগের চেয়ে কিছুটা হলেও দুর্নীতি নিম্নমুখি।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’গড়তে ইশতেহারে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার দৃঢ়প্রত্যয় করে সরকার। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের মূল বিষয় ছিল তারুণ্য এবং গ্রামের উন্নয়ন। ইসতেহারে ২১ দফা অঙ্গীকার করে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতির সামনে তারুণ্য এবং গ্রামের উন্নয়ন তুলে ধরা হয়।
সারাদেশের ভূমি অফিস দালাল মুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে ভূমি রাজস্ব প্রশাসনে নামজারী, জমাভাগ ও জমা একত্রীকরণ এবং রেকর্ড সংশোধন, সরকারি খাস জমি ও অকৃষি জমি ব্যবস্থাপনা, সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি তথা সর্বোপরি ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করা, ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থার তৃতীয ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৭ হাজার ৫৭৬ জন এর মধ্যে ১৭ হাজার ২০৮ জন সম্পদ বিবরণী নিয়েছেন। ৩৬৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভাগীয় মামলায় সাময়িক বরখাস্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকায় সম্পদ বিবরণী নিতে পারেনি। সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে শক্তভাবে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন।
ভূমি সেবা গ্রহীতাগণের সুবিধার্থে অভিযোগ কেন্দ্র গঠনের জন্য হটলাইন। হাতের মুঠোয় খতিয়ান এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে দেশব্যাপী আর এস খতিয়ান অনলাইনে অবমুক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রায় ৩২ হাজার জরিপ-কৃত মৌজার ১ কোটি ৪৬ লক্ষ আর এস খতিয়ানের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশব্যাপী ই-মিউটেশন কার্যক্রম পুরোদমে চালু হচ্ছে। গত ১০ই এপ্রিল সারা দেশে ভূমি সপ্তাহ এবং ভূমি উন্নয়ন কর মেলা চালু করেছেন। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা রিফ্রেশার্স কোর্সে’র বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৩ এবং ৩৪ ব্যাচের ৩৫ জন এসিল্যান্ডদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভা ও দিক নির্দেশনায় বিভিন্ন কর্মকান্ডের স্থবিরতা কাটিয়ে গতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করা। গতানুগতিক কাজের বাইরে এসে বিভিন্ন বিভাগের কাজকে মনিটর করা, অকারণে বা ক্ষুদ্র বিপত্তি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা কাজকে গতিশীল করে সম্পন্ন করা।
জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৫৩ তম সভায়, ১৪২৬-১৪৩১ বাংলা সন মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পে ইজারার জন্য চুয়াডাঙ্গায় ৪টি, রাজশাহীতে ১টি, ঝিনাইদহতে ৫টি, কিশোরগঞ্জে ১১টি, সুনামগঞ্জে ৩১টি, রংপুরে ২টি, জামালপুরে ৩টি, মেহেরপুরে ৩টি, খুলনাতে ৪টি এবং বরগুনাতে ১টি সহ মোট ৬৫টি জলমহাল ইজারা প্রদান করা হয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, আমি ফুল মন্ত্রী হওয়ার পরে ৯০ দিনের প্রাথমিক কর্মসূচী ঘোষণা করেছি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ-এতো দ্রুত সময়ে কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ তার একটি প্রমাণ।সে টা আমি করেছি। এখন নিয়মিত মনিটরিং করার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ভূমি অফিস দুর্নীতিমুক্ত করা। ভূমি অফিস দালাল মুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে ভূমি রাজস্ব প্রশাসনে নামজারী, জমাভাগ ও জমা একত্রীকরণ এবং রেকর্ড সংশোধন, সরকারি খাস জমি ও অকৃষি জমি ব্যবস্থাপনা, সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি তথা সর্বোপরি ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করেছি। তিনি বলেন, পুরো পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার ডেলাইন’ করেছি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ- এতো দ্রুত সময়ে কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ তার একটি প্রমাণ। সে টা আমি করেছি। এখন নিয়মিত মনিটরিং করার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ভূমি অফিস দুর্নীতিমুক্ত করা।



 

Show all comments
  • উজ্জ্বল হাসাঈন বিন দেলোয়ার ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:০৪ এএম says : 0
    অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোকেও এভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • শান্তা আক্তার ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:০৭ এএম says : 0
    অনেক দিন পরে একটা ভালো খবর শুনলাম। শুনে খুব ভালো লাগলো।
    Total Reply(0) Reply
  • Khaled Hossain ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:১৮ এএম says : 0
    সারাদেশের ভূমি অফিস দালাল মুক্ত করতে হবে। তাহলেই মানুষের ভোগান্তি কমবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Faisal Farhan ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:১৭ এএম says : 0
    ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
    Total Reply(0) Reply
  • Imam Hossain ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:১৯ এএম says : 0
    একটা সময় ভুমি অফিস ছিলো অনিয়মের আখড়া। যাক এখন অনেকটা উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যতে দুর হবে সকল অনিয়ম সেটাই প্রত্যাশ করছি।
    Total Reply(0) Reply
  • Harun Khan ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:২০ এএম says : 0
    thanks to the Daily Inqilab and the reporter for this news
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ ইয়ানবী ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:৪৮ এএম says : 0
    নিঃসন্দেহে ভূমি অফিসের কার্যক্রমে আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা এসেছে। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে আরো উন্নতি হত যদি রাজস্ব প্রশাসনের শূণ্য পদগুলি পুরন, পদোন্নতি ও নিয়োগবিধি সংশোধন পূর্বক দ্রুত বাস্তবায়ন এবং তহশিলদার ও সহকারী তহশিলদারদের সরকার প্রদত্ত ১১ ও ১২ গ্রেডে বেতন প্রদান করা হত।। সর্বোপরি জনগণকে ভূমি আইন ও বিধি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আজিজুর রহমান ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:২৪ এএম says : 0
    প্রথমে পুলকিত হলেও চাঁদপুরের শাহরাস্তির পারভেজ ভাইয়ের অনুভূতি পড়ে বিমর্ষ হলাম।তবে আমি আশাবাদী অচিরেই আমরা সুফল পাব। আমাদেরকে আগে বুঝতে হবে আমরা প্রজাতন্ত্রের মালিক।কর্মচারী থেকে কাজ আদায় করা মালিকের প্রথম কর্তব্য। সুতরাং আমদের অধিকারের ব্যাপারে আমাদেরকে আগে সচেতন হতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • parvez ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:২৮ এএম says : 0
    প্রিয় প্রতিবেদক, সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে গ্রামে গঞ্জের কোন অফিসে যান, বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে লিখুন। আমি ১৪/৪/২০১৯ তারিখে অনলাইনে ঢাকা থেকে নামজারির (আমার জমি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলাতে) দরখাস্ত করি। গ্রহণ যে করা হয়েছে, সে মর্মে মেসেজও পাই। ঘটনা চক্রে ১৬/৪/১৯ এ দেশে যাই। ভাবলাম, একটু খোঁজ নিয়ে দেখি। ব্যাপারটি এত সহজ করা হয়েছে ! ভেবে পুলকিত হচ্ছিলাম। কিন্তু AC land অফিসে যে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ ( !!!!! ?????) এই কাজের দায়িত্বে , তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, "১৪ তারিখ সরকারী ছুটির দিন । সব বন্ধ থাকে। ঐদিন কিভাবে দরখাস্ত করা সম্ভব ?" online submission এর ক্ষেত্রে যে শুক্রু- শনি- ছুটি বলে কিছু নেই, উহা যে দিবা রাত্রির যে কোন সময়ে করা যায়, সেটা বুঝাতে আমাকে বেশ বেগ পেতে হল। যাহোক, acceptance message দেখানোর পর তিনি বললেন, " আপনাকে সব কাগজ পত্রের হার্ড কপি সহ বাস্তবে দরখাস্ত করতে হবে। ( ও সব scanned copy - তে কোন কাজ হবে না । ও গুলো শুধু আমাদের server - এ জমা রাখার জন্য । কারণ ১২ বছর পর সরকার সকল নামজারির কাগজ পুড়িয়ে ফেলবে। তখন দরকারে ওখান থেকে বের করতে হবে) । আর নামজারির কাগজ হাতে পেতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৫ বার ( ভুমি - তহসীল অফিস মিলিয়ে ) হাজিরা দিতে হবে ।" ......... এই যদি হয় নিয়ম, জনগণ তা মানতে বাধ্য। কিন্তু কথাগুলো খোলাসা করে www.land.gov.bd তে বলে দেয়া হোক। তাহলে আমরা অন্ততঃ ভুমি অফিসে গিয়ে বেকুব বনব না।
    Total Reply(0) Reply
  • Rube ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ৮:২১ পিএম says : 0
    আমার মনে হয় গতি এখনো ফিরেনি গামের দালালরা অবৈধভাবে বাড়ীওজমি দখল করে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে গাম হচ্ছে শিকড়। দয়া করে শিকড় বাঁচান। দালালরা এভাবেই সহজ সরল মানুষের শান্তি নষ্ট করছে।৫ বা ৩০ দিনের মধ্যে তো জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করা যায় কিন্তু সহজ সরল মানুষ ত নিয়ে যায় দালালদের কাছে তারা উল্টা বুঝিয়ে দেয়। বাহুর শক্তি ওটাকার শক্তিশালী লোকদের জমি পাইয়ে দেয়। কি হবে এই গতি বাড়িয়ে
    Total Reply(0) Reply
  • কিরণ ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:২৮ এএম says : 0
    দালাল মুক্ত করার জন্য জনগনকে সচেতন করা বেশি প্রয়োজন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন