Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

‘উপকূলে প্যারাবন রক্ষা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিশ্চিত করতে হবে’

বিশেষ সংবাদদাতা কক্সবাজার | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ৬:১৯ পিএম

সাগর উপকূলে প্যারাবন রক্ষা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে উপকূল নামে কোন এলাকাই থাকবেনা। বিলীন হয়ে যাবে সাগরে।কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি হ্রাসের জন্য বাজেট বৃদ্ধি আবশ্যক শীর্ষক প্রাক-বাজেট সেমিনারে বক্তারা এমন মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কোস্ট ট্রাস্ট পরিচালিত জলবায়ু অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা অর্জন কৌশল প্রকল্পের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক।
চকরিয়া জলবায়ু ফোরামের সভাপতি এখলাছুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মকবুল আহমেদ।

প্রধান অতিথি আশেক উল্লাহ রফিক এম পি বলেন, আমি কক্সবাজার জেলার অনেকগুলি দ্বীপের এমপি এবং প্রতিনিধি; আমাকে প্রতিনিয়ত দ্বীপের ও দ্বীপের মানুষের সুরক্ষার কথা ভাবতে হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশে মাটির বেড়িবাঁধ নেই, সবাই কংক্রিটের বাঁধ দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধ তৈরি করে। বাংলাদেশে সরকারকেও টেকসই বেড়িবাঁধ করার জন্য কংক্রিটের বেড়িবাঁধ তৈরির পথে যেতে হবে।

এমপি আশেক উল্লাহ বলেন, এই সরকারের আমলে কোনো এমপি, কোনো নেতার নেতৃত্বে প্যারাবন দখল হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই প্যারাবন রক্ষা করতে হবে এবং প্যারাবন বৃদ্ধি করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা সদরে এবং বিভিন্ন উপজেলায় খাবার পানির সংকট প্রসঙ্গে সেমিনারের প্রধান অতিথি বলেন, প্রধানমন্ত্রি দেশের সকল মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে সরকারী-বেসরকারী সকলকে নিজনিজ বাড়িতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার প্লান করতে হবে এবং তাতে অন্তত ছয় মাস আমরা বিশুদ্ধ বৃষ্টির পানি ব্যবহার করতে পারবো। তা যদি করতে পারি তা হলে আমরা ছয় মাস আন্ডার গ্রাউন্ড পানি তোলা থেকে বিরত থাকতে পারবো।
এমপি আশেক উল্লাহ রফিক কুতুবদিয়া দ্বীপের বেড়িবাঁধ নির্মানের স্থবিরতা প্রসঙ্গে বলেন, যাদের বেড়িবাঁধ নির্মানের অভিজ্ঞতা নেই এবং পুঁজি নেই তারাই বেড়িবাঁধ নির্মানের সাব-টিকাদার হিসেবে কাজ করছেন। তাই কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি দেখতে পাওয়া যায় না।
সেমনিারের সভাপতি এখলাছুল কবির বলেন, যে সিগারেট পান করলে মৃত্যু ডেকে আনে সেই সিগারেটের তামাক চকরিয়কে ঢেকে ফেলেছে। সেই সিগারেটের চুল্লীর জন্য চকরিয়া এলাকার গাছ কেটে পাহাড় উজাড় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার যেখানে ইটের ভাটায় লাকড়ির বদলে বিকল্প জ্বালানীর কথা বলছে সেক্ষেত্রে সিগারেটের চুলা চকরিয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি পরিবেশের স্বার্থে তামাক চাষ বন্ধ করার দাবি জানান।
উপস্থাপিত প্রবন্ধে কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মকবুল আহমেদ বলেন, বৃটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় এবং কোস্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলায় ‘জলবায়ু অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা অর্জন কৌশল’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের উদ্যোগে টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে চারটি জলবায়ু ফোরাম এবং জেলা জলবায়ু ফোরাম গঠন করা হয়েছে।
সেমিনারে আরো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন- কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান আকম শাহরিয়ার চৌধুরী, মহেশখালী রেঞ্জ অফিসার শামসুল হক, সিপিসি টিম লিড়ার মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক পিটিআই সুপার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, খুরুশকুলের সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রহিম, এক্সপাউরুলের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল, ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার মুহম্মদ আলী জিন্নাত, কক্সবাজার আদালতের সিনিয়র আইনজীবী রমিজ আহমদ, মহেশখালীর কালারমারছড়ার সাবেক চেয়ারম্যান কবি রুহুল কাদের বাবুল, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী, বাংলাশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন যুগ্মসম্পাদক জিএএম আশেকউল্লাহ, হাসান কুতুবী, কামাল উদ্দিন রহমান পেয়ারু, আহমদ গিয়াস ও মো: ইলিয়াছ মিয়া প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সেমিনার


আরও
আরও পড়ুন