Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

প্রধানমন্ত্রীর ব্রুনাই সফরে ৭টি সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রæনাই দারুসসালামের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়া মু’ইজ্জাদিন ওয়াদ্দৌলাহ’র আমন্ত্রণে আগামী রোববার ব্রæনাই যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনের এ সফরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ব্রæনাই সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- কৃষি খাতে বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সংস্কৃতি এবং শিল্প, যুব এবং ক্রীড়া, মৎস্যখাত, পশুসম্পদ খাত ও জ্বালানী ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক। এছাড়াও, সফরে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্ট বহনকারীদের পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতির লক্ষ্যে কূটনৈতিক পত্র বিনিময় হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদ সম্মেলনে জানান, সফরে প্রধানমন্ত্রী ব্রæনাই-এর রাজপরিবারের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়, দেশটির সুলতানের সাথে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ও তার (শেখ হাসিনা) সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ব্রæনাই সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের আয়োজনে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী এই সফরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
তিনি আরও জানান, সফরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ, মৎস ও প্রাণি সম্পদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীগণসহ উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দৃঢ়তর করার পাশাপাশি জ্বালানী, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, খাদ্য, বিমান যোগাযোগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পর্যটন ও কারিগরি সহায়তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা স¤প্রসারণে বিশেষ অবদান রাখবে। রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ব্রæনাই ও আসিয়ান সদস্য দেশসমূহের কার্যকর সমর্থন আদায়ে এ সফর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও এ সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সংগঠন আসিয়ানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
ড. মোমেন বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং দু’দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উম্মোচিত করছে। ব্রæনাই ‘ভিশন ২০৩৫’-এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন কর্মসুচি বাস্তবায়নে বন্ধুরাষ্ট্রসমূহের সাথে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্য সেবা, জ্বালানী ইত্যাদি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী। জ্বালানী সম্পদে সমৃদ্ধ উচ্চ আয়ের দেশ ব্রæনাই-এর সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা স্থাপনের মধ্যে দিয়ে দু’দেশই ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারে।
তিনি জানান, ব্রæনাই ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে ব্রæনাই-এ বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন পুনঃস্থাপনের পর হতে দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত: বিগত এক দশকে ব্রæনাই- এর সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ