Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

ধর্ষণ মামলায় বিভিন্ন স্থানে আটক ৩

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত তিনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী । আটককৃতদের মধ্যে চট্টগ্রামে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ১, পাবনায় প্রধান আসামি ও বালিয়াকান্দিতে একজন। ইনকিলাবের ব্যুরো ও জেলা সংবাদদাতারা এসব খবর দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, তিন মাস আগে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ধর্ষকের একজন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিল। আরেকজন গ্রেফতারের পর কারাগারে আছেন। গত বুধবার রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদি গ্রাম থেকে অভিযুক্ত দুই ধর্ষকের সহযোগী মো. শাহাবুদ্দিনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
কোতোয়ালী থানার ওসি জানান, গ্রেফতার শাহাবুদ্দিন ধর্ষক নয়। তবে ধর্ষিতা মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টার সঙ্গে সেও যুক্ত ছিল। এ সময় শাহাবুদ্দিন পালিয়ে যেতে পারলেও তিনমাসের মধ্যে আমরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। গত ২৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর জামালখানে পিডিবি আবাসিক কোয়ার্টারের সামনে থেকে নবম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে জোর করে প্রাইভেট কারে তুলে নেয় চালকসহ দুই যুবক। এরপর গাড়িটি নির্জন সার্সন রোডে নিয়ে গিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে দু’জন পালাক্রমে গাড়ির ভেতরে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণের অভিনয় করে তারা। পরে আবার সেই ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে।
পরদিন (২৮ জানুয়ারি) তারা আবারও মেয়েটিকে দেখা করার কথা বলে। এরপর মেয়েটি ও তার ভাই বিষয়টি কোতোয়ালী থানায় জানান। পরে পুলিশ ধর্ষকদের ধরার জন্য ফাঁদ পাতে। ওইদিন সন্ধ্যায় ফের মেয়েটিকে নগরীর দিদার মার্কেট এলাকায় আরেকটি প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়া হয়। গাড়িটি লালদিঘীর পাড় এলাকায় যাবার পর পুলিশ সেটির গতিরোধ করলে গাড়ি ফেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে দুই ধর্ষকের একজন শ্যামল দেকে নগরীর দেওয়ান বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরেক ধর্ষক মো. শাহাবুদ্দিনকে রাতে নগরীর ফিরিঙ্গি বাজারের মেরিনার্স রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় শাহাবুদ্দিন।
পাবনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, পাবনার আমিনপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সিএনজি অটোরিকশা চালক জহুরুল ইসলামকে (২৬) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব সদস্যরা। গত বুধবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। ঐ দিন সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের র‌্যাব-১২ সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
তিনি বলেন, গত ১৪ এপ্রিল পাবনার বেড়া উপজেলার দীঘলকান্দি থেকে এক স্কুল ছাত্রী কাশিনাথপুর যাওয়ার জন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠে। অটোরিকশা চালক জহুরুল ইসলাম ও তার বন্ধু আল-আমিন ওই স্কুল ছাত্রীকে কাশিনাথপুর না নামিয়ে পাবনার সাঁথিয়া থানাধীন একটি নির্জন বাবলা বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে আমিনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা তদন্ত শুরু করেন।
রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী (১২) কে ধর্ষণ করার অভিযোগে মামলার আসামী ইউনুছ মিয়া আদালতে আতœসমর্পণ করেছে। গত বুধবার সে রাজবাড়ী আদালতে আতœসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল রাতে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শ্রীরাম বেতেঙ্গা গ্রামের মৃত আফজাল মিয়ার ৩ পুত্র সন্তানের জনক ছেলে ইউনুস মিয়া ওরফে ইল্লোছ মিয়া (৫৫) কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ওই ছাত্রীর বাবা জানান, গত ২ এপ্রিল বিকালে ইউনুস মিয়া ওরফে ইল্লোছ মিয়া (৫৫) তার মেয়েকে বরজের মধ্যে গেলে জোরপূর্বক মেয়েটির জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে ধর্ষণ করে। সে চিৎকার করলে ইল্লোছ মিয়া তার হাতে থাকা কাচি দিয়ে মেয়েকে ভয় দেখায়। বালিয়াকান্দি থানার একেএম আজমল হুদা জানান, ওই মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ধর্ষিতা ছাত্রীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই বদিয়ার রহমানের তৎপরতার কারণে আসামি ইউনুছ আলী গত বুধবার রাজবাড়ী আদালতে আতœসমর্পন করেছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ মামলা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ