Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ভারতে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

গুলি কাঁদানে গ্যাস সড়ক অবরোধ আক্রান্ত প্রার্থী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

একশ’ আসনও পাবে না বিজেপি : মমতা


পশ্চিমবঙ্গের একটি কেন্দ্রে পুলিশের গুলি বর্ষণ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও জনতার সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে গতকাল ভারতে লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিসহ ১২টি রাজ্যের ৯৫টি আসনে। একই সঙ্গে বিধানসভা ভোট হয় ওড়িশার ৩৫টি এবং তামিলনাডুর ১৮টি আসনে। উল্লেখ্য গতকাল ১২টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ১৩টি রাজ্যের ৯৭টি আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিধিভঙ্গের অভিযোগে তামিলনাড়– এক আসনে ভোট গ্রহণ বাতিল এবং ত্রিপুরার এক আসনে ভেট গ্রহণ পিছিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে গতকাল যেসব রাজ্যে ভোট গ্রহণ করা হয় সেগুলো হলঃ আসাম, বিহার, চন্ডিগড়, জম্মু ও কাশ্মীর, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, ওড়িশা, তামিলনাড়–, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরি। এদিকে বিধিভঙ্গের অভিযোগে তামিলনাড়ুর ভেলোরে ভোট গ্রহণ বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে ত্রিপুরায় ভোট পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৩ এপ্রিলে।
পশ্চিমবঙ্গে গতকাল তিনটি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলেঃ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। খবরে বলা হয়, গতকাল দ্বিতীয় দফার ভোটে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের চোপড়া। সকালে চোপড়ার একটি বুথের সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গ্রামবাসীরা দফায় দফায় অবরোধ করে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক। বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল। পুলিশ গিয়ে সেই অবরোধ তুলে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শূন্যে গুলি চালায় পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। কয়েক রাউন্ড লাঠিচার্জও করা হয়। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। আক্রান্ত হয় সংবাদমাধ্যম। মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় একটি বেসরকারি সংবাদ চ্যানেলের সাংবাদিকের। ইসলামপুরে আক্রান্ত হন সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম। ভোট পরিদর্শনে যাওয়ার পর তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হয়।
একশ’ আসনও পাবে না বিজেপি : মমতা
গোটা দেশে একশোর বেশি আসন পাবে না বিজেপি। গত বুধবার এ ভবিষ্যদ্বাণী করেন তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুর্শিদাবাদের কান্দির জনসভায় তাঁর ঘোষণা, ‘দেশে একশ’ আসনও জুটবে না বিজেপির। দেশে যে নতুন সরকার গঠন হবে, মনে রাখবেন তার নেতৃত্ব দেবে তৃণমূল।’
মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরে মমতা বলেছিলেন, ‘দিল্লিতে সরকার গড়বে বাংলা এবং উত্তরপ্রদেশ।’ এ দিন জঙ্গিপুরের বড়শিমুল মাঠের সভায় তিনি বলেন, ‘শুনে রাখুন, বিজেপির ফেরার স্বপ্ন শেষ। সরকার গড়ার ২৭২ আসন আসবে কোথা থেকে? কংগ্রেসও এককভাবে সরকার গড়তে পারবে না। সরকার গড়তে আঞ্চলিক দলগুলিই ভরসা। যার নেতৃত্ব দেবে তৃণমূল।’ তার দাবি, অন্ধ্র তেলেঙ্গানা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, রাজস্থান, কর্নাটক কোথাও ভাল ফল করবে না বিজেপি।
এদিন ফের কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন মমতা। ফিরিয়ে আনেন কংগ্রেস-আরএসএস যোগের অভিযোগ। জঙ্গিপুরে দাঁড়িয়েই কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, ‘জঙ্গিপুরের বনেদি মানুষ বিজেপির কাছে মাথা নত করবেন না। দেশে পায়ের তলায় মাটি সরেছে তাদের, তাই বাংলায় উঁকিঝুঁকি মারছে। কোথাও সিপিএমকে সমর্থন করছে, কোথাও কংগ্রেসকে। মনে রাখবেন জঙ্গিপুরে আরএসএস কংগ্রেসকে সমর্থন করছে।’ কান্দির মোহনবাগান মাঠে তাঁর আক্রমণের তীর এদিনও ছিল কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর দিকে। অধীরের বিজেপি-যোগের সমর্থনে মমতার দাবি, ‘কই বিজেপির বিরুদ্ধে তো তাকে সরব হতে দেখলাম না! অভিযোগ তো তার বিরুদ্ধেও কম নেই। কিন্তু বিজেপি তো সিবিআই-ইডি পাঠাল না!’
এর পরেই বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘তামাশা চলছে মোদিবাবুদের। অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডু, জগনদের (জগন মোহন রেড্ডি), তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিনদের, কর্নাটকে কুমারস্বামীদের হয়রান করছে। কাল (মঙ্গলবার) তো স্ট্যালিনের বোনের বাড়িতে আয়কর রেইড করেছে! অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে কত অত্যাচার করেছে। মায়াবতী, অখিলশকে অত্যাচার করেছে। লালুপ্রসাদকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমন সব দেশের নেতা তৈরি হয়েছে, সকাল থেকে উঠলে মনে হচ্ছে, কখন গব্বর সিং চলে আসবে।’
বক্তৃতার শেষ পর্বে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যই বলব, তৃণমূল তৈরি হওয়ার পরে অনেক বার তো মুর্শিদাবাদ এলাম, অথচ আমাদের প্রতীকে চারটি মাত্র আসন জিতেছিলাম বিধানসভায়। লোকসভায় কোনো আসন পেলাম না। এবার পাব তো?’
এ সময় উল্লাসে ফেটে পড়ে জঙ্গিপুরের মাঠ। মমতা বলেন, ‘ভাল লাগল শুনে। ধন্যবাদ।’
ক্রমশ বেঁটে হয়ে যাচ্ছে ভারতীয়রা : সমীক্ষা
এদিকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় ক্রমশ বেঁটে হয়ে যাচ্ছে ভারতীয়রা। স¤প্রতি একটি সমীক্ষায় এই তথ্য সামনে এসেছে। গত শতাব্দীর তুলনায় ভারতীয় পুরুষ ও মহিলাদের উচ্চতা বাড়লেও তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম হারে বাড়ছে। ফলে অন্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় আরও বেঁটে হয়ে যাচ্ছে ভারতের মানুষ।
২০০টি দেশের ১৮ বছরের ছেলে-মেয়েদের গড় উচ্চতা হিসেব করে দেখা যাচ্ছে যে, গোটা পৃথিবীতেই মানুষের ওজন বাড়ছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ভারতে এই উচ্চতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম। যেখানে ভারতীয় মহিলাদের গড় উচ্চতা গত ১০০ বছরে ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে, সেখানে ভারতীয় পুরুষদের বেড়েছে মাত্র ৩ সেন্টিমিটার। দক্ষিণ কোরিয়ায় গত ১০০ বছরে পুরুষদের গড় উচ্চতা বেড়েছে ১৫ সেন্টিমিটার এবং মহিলাদের ২০ সেন্টিমিটার।
ভারতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টির অভাবকেই এর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। গর্ভাবস্থায় মহিলার পুষ্টি ঠিকমতো না হলে জন্মের পর সন্তানের উচ্চতা ভালো হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটির অভাবেও ক্রমশ বেঁটে হয়ে যাচ্ছে ভারতীয়রা। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক অবরোধ


আরও
আরও পড়ুন