Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

মৎস্য খাতে ২২ প্রকল্পে অনিয়মে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

 কাজে ধীরগতি, নিম্নমানের কাজ, যথাসময়ে করতে না পারাসহ মৎস্য খাতের চলমান ২২টি প্রকল্পে নানা অনিয়মে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মৎস্য উপখাতের ২২টি চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি সংশ্লিষ্টদের কাজ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি চুক্তি অনুযায়ী কাজে ব্যর্থ ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল দেয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে পরপর তিনবার সময় দেয়ার পরও যেসব ঠিকাদার কাজ করতে পারেনি তাদের কালো তালিকাভুক্ত করতে প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান, চলমান ২২টি প্রকল্প কাজের পর্যালোচনা সভায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। এসব প্রকল্প কাজে কোনটিতে মান বজায় রেখে কাজ হয়নি, কোনটিতে সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেনি কিন্তু অগ্রিম বিল নেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ তো করতেই পারেনি এমনকি বারবার সময় বাড়িয়ে নিয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদাররা।
মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, শর্তানুযায়ী ঠিকাদারদের নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্তিতে ব্যর্থতা, বর্ধিত সময় দেয়ার পরও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ আদায় করতে না পারা এবং প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের জন্য প্রকল্প পরিচালকরাও কোনো অংশে কম দায়ী নন। তাদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। এজন্য প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প পরিচালকদের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্বল ও গৎ বাঁধা চুক্তির কারণে প্রায়ই লিজ দেয়া সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়। এভাবে আর হতে দেয়া যাবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয় যখন প্রকল্পের বাড়তি অর্থ বরাদ্দের জন্য মরিয়া, তখন আমাদের মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যাওয়াটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মৎস্য উপখাতের ২২টি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৪১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার মধ্যে ৯ মাসে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা। বিগত অর্থবছরে ২৬টি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৪০৭ কোটি ৩ লাখ টাকার মধ্যে একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৭৮ লাখ টাকা। ২২টি প্রকল্পের মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর ১৪টি, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ৫টি, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ২টি ও ই-সেবাখাতে একটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন।
মন্ত্রণালয়ের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপখাতের মোট ৪৫টি প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরে মোট বরাদ্দ আছে ৭৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। উভয়খাতে এই ৯ মাসে ব্যয় হয়েছে মোট ৩৫১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ সময়ে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৫৩ ভাগ। কিন্তু ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ৪৮টি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৮২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার মধ্যে একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৪০০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

 



 

Show all comments
  • ash ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ৮:২৩ এএম says : 0
    ETA AKHON BANGALDESH E KONO BEPAR E NOY ! BANGLADESHER PROTITA PORKOLPOE VEJAL R TORTOL ER CHEAO SLOW GOTITE CHOLTE THAKE !! KINTU TAKAR KHOROCH TA BISHER SHERA !! WORLDER POROTITA DESHE PROTI TA $ ER HISHAB RAKHA HOY BA NEWA HOY , KINTU BANGLADESH E OTA KONO BEPARE NOY
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ