Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

রহমতগঞ্জের সামনেও অসহায় মোহামেডান!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ৮:৫৯ পিএম

ঘরোয়া ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শুরু থেকেই অনুজ্জ্বল ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে না পারলেও স্বগৌরবেই তারা কাটিয়েছে বিপিএলের দশটি আসর। তবে একাদশ আসরে এসে যেন যাচ্ছে-তাই সাদাকালোরা। ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছে তারা। এবারের লিগে অংশ নেয়া ১৩ দলের মধ্যে প্রায় তলানীতে ঠাঁই হয়েছে মোহামেডানের। চলতি লিগে হারতে হারতে ক্লান্ত মোহামেডান এবার অসহায় পুরান ঢাকার দল জায়ান্ট কিলার খ্যাত রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডসসোসাইটির সামনেও। শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ ২-১ গোলে হারায় মোহামেডানকে। বিজয়ী দলের হয়ে স্থানীয় মিডফিল্ডার ফয়সাল ও কঙ্গোর ফরোয়ার্ড সিও জোনাপিও একটি করে গোল করেন। মোহামেডানের হয়ে এক গোল শোধ দেন মিডফিল্ডার সোহাগ। এই জয়ে রহমতগঞ্জ ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নবমস্থানেই রইলো। সমান ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট পাওয়া মোহামেডানের অবস্থান ১১তমস্থানে।

এবারের লিগে প্রায় তিনমাস আগে প্রথম জয়ের মুখ দেখেছিল মোহামেডান। ২০ জানুয়ারি নিজেদের প্রথম ম্যাচে টিম বিজেএমসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে সূচনা করলেও আর জয় পায়নি তারা। হার অথবা ড্র’ই এখন মোহামেডানের সঙ্গি। তাই বর্তমানে সাদাকালো শিবিরে রাজ্যের হতাশা। গ্যালারি থেকে সমর্থকদের অশ্রাব্য ভাষার গালিগালাজ হজম করা। এরপর ধীরে ধীরে ফুটবলারদের মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়া। এ দৃশ্য এখন নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে। শুরুর মেজাজ তারা ধরে রাখতে পারেন না ম্যাচের শেষ দিকে। তাই প্রতিটি ম্যাচে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হচ্ছে মোহামেডানকে।

শুক্রবারও ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে মোহামেডান। মাত্র চার মিনিটে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে সিও জোনাপিও’র লংপাসে বল পান রহমতগঞ্জের ফয়সাল আহমেদ। বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার মুহুর্তে তাকে বাধা দিতে ব্যর্থ হন মোহামেডানের দু’ডিফেন্ডার খোকন মিয়া ও আতিকুর। প্র্রতিপক্ষ গোলরক্ষক পোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসায় অরক্ষীত পোস্টে বল ঠেলে দলকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার ফয়সাল (১-০)। মিনিট সাতেক পর অবশ্য অসাধারণ এক শটে সেই গোল শোধ দেন মোহামেডানের হাবিবুর রহমান সোহাগ। কর্ণার থেকে বল পেয়ে বক্সে হেড দেন কিংসলে চিগোজি। রহমতগঞ্জের ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে বলের গতিপথ বদলে যায়। বক্সের মাথায় দাড়িয়ে থাকা মিডফিল্ডার সোহাগ বাঁ পায়ের চমৎকার ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন (১-১)। এবার এগিয়ে যাওযার সুযোগ আসে মোহামেডানের। ৫৬ মিনিটে জটলার মধ্য থেকে ছোট বক্সে বল নিয়ে এগিয়ে যান মোহামেডানের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এনকোচা কিংসলে। তাকে নিজেদের বক্সে ফাউল করেন রহমতগঞ্জের ড্যামিয়েন চিগোজি। রেফারি ড্যামিয়েনকে হলুদ কার্ড এবং সাদাকালোদের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি দেন। কিন্তু গোলের সহজতম সুযোগটিও হাতছাড়া করে ঐতিহ্যবাহীরা। এনকোচার ডান পায়ের শট সাইডবার ঘেষে চলে যায় মাঠের বাইরে। হতাশ হয়ে পড়ে সাদাকালো শিবির। ৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ডান পায়ের বাকানো শট নেন রহমতগঞ্জের সোহেল রানা। পোস্টের খুব কাছে দাড়িয়ে থাকা সিও জোনাপিও চমৎকার হেডে গোল করে ব্যবধান বাড়ান (২-১)। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফেরা হয়নি মোহামেডানের। লিগে এটি অষ্টম হার মোহামেডানের।

এদিন গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ০-২ গোলে হেরেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে দেনিস বলকাশভ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন (১-০)। মিনিট চারেক পর ব্যবধান দ্বিগুন করেন জাভেদ খান (২-০)। শেষে এই ব্যবধানেই জয় নিযে মাঠ ছাড়ে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। এই জয়ে ১২ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থস্থানে সাইফ। সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠস্থানে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিপিএল

২৯ জুলাই, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন