Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০১৯, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৭ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

বিএনপির এমপিদের শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না

‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্য শপথ নেবেন না বলে দলটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নানা গুঞ্জন থাকলেও শপথ গ্রহন না করার দলের পূর্বসিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। গতকাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদারের লেখা ‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইটির প্রকাশনা উৎসব হয়। শত নাগরিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের এই ৬ জন সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন না। এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এটাও বলা আছে যে, এই সিদ্ধান্ত তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, এটা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের স্থায়ী কমিটি নিয়েছে। সুতরাং এখান থেকে ফিরে যাবার বা কেনো পরিবর্তনের প্রশ্নই উঠে না। সেজন্য আজকে এই বিষয়টা এখানে নিস্পত্তি হয়ে যাওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। কারণ এটার প্রয়োজন নাই। মওদুদ আহমদ বলেন সংসদে যাওয়ার কেনো প্রয়োজন নেই। সরকারি দল আমাদেরকে বলছেন, আসুন আপনারা আসুন। আমরা তো জানি তাদের ন্যাচারটা কি? ২০০৯ সালে তারা কি করেছিলো। আমাদের মাত্র ২৭টা আসন। তখন তারা বলেছিলো, আপনারা পার্লামেন্টে আসুন, আমরা আপনাদেরকে সম্মান দেখাবো, সব কিছু করব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন। তারপর যখন পালার্মেন্টের প্রথম সারিতে ৯টা সিট প্রথম দিনই স্পিকার বললেন যে, না এই ৯টা সিট দেয়া যাবে না, তিনটা সিট আপনারা গড় ও সংখ্যানুযায়ী। আমি তখন পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, এই সিট দিলে আপনাদের কি সরকারের পতন হবে যে যদি এখানে ৯ জন অথবা ৭ জন বসি। এই সংকীর্ণমনা দলের কাছ থেকে কোনো রকমের সহনশীলতা, কোনো রকমের রাজনৈতিক শিষ্টাচার আামাদর প্রত্যাশা করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির আইনি প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থাটি তুলে ধরে তার অন্যতম আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি এবং এখনো করছি। আইনি প্রক্রিয়া আমরা চেষ্টা করে যাবো। আদালতের যদি এখতিয়ার থাকতো এবং স্বাধীনতা থাকতো অনেক দিন আগেই বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়ে যেতো। আজকে তার জামিনটা আমরা এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারি নাই। আপনাদের বুঝতে হবে- রাজনৈতিক কারণে উনি কারাগারে আছেন তুচ্ছ ও ভিত্তিহীন মামলায় যার কোনো সারবত্তা নাই। তবে আমি বলতে চাই, তার মুক্তি আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই।
সরকারের দমনপীড়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকারের ষড়যন্ত্র ছিলো বিএনপিকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, কত কর্মীকে হত্যা করেছে, গুম করেছে যাতে বিএনপি কোনোদিন মাথাচাড়া দিতে উঠতে না পারে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আজকে আওয়ামী লীগের এই দুর্বিচার, এই নির্যাতন, এই অত্যাচারের কারনেই বিএনপি আগামী শত বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। কেনো? এই যে লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা কী ভুলে যাবে, তাদের আত্বীয়-স্বজন-ভাই-বোন-ছেলে মেয়েরা। কোটি কোটি মানুষ তারা নিরব থাকতে পারে কিন্তু বিএনপিকে একেবারে স্থায়ীভাবে মজবুত করে দিয়ে গেলো আওয়ামী লীগের এই দু:শাসন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটা জিনিস আপনাদের অনুরোধ করতে চাই, হতাশ হবেন না, হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি, যারা বলেন যে, বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে আমি কোনো দিনই তাদের সাথে একমত নই্।
তিনি বলেন, বিএনপি প্রতি সংকটের মুহুর্তে উঠে দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়িয়েছে তার জনগনকে সঙ্গে নিয়ে। কারণ বিএনপি হচ্ছে এদেশের মানুষের জনগনের দল এটা আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে। বার বার চেষ্টা হয়েছে এই দলকে ভেঙে ফেলার, বার বার চেষ্টা হয়েছে এই দলকে নিশ্চিহ্ন করার। এবারো দেশনেত্রী কারাগারে একটি মাত্র কারণে যে, বিএনপিকে নিঃশেষ করা, রাজনীতিকে ধ্বংস করা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া। আমি বলতে চাই, এটা সম্ভব হবে না, হতে পারে না। কারন বিএনপি ও দেশনেত্রীর রাজনীতি হলো এদেশের মানুষের রাজনীতি।
মির্জা ফখরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেত্রী জেলে থাকুন আর বাইরে থাকুন তিনিই আমাদের অনুপ্রেরণা, তিনিই আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন ইনশাল্লাহ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জানি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ যা আমি আপনাদের বলে বুঝাতে পারবো না। তিনি এখন হুইল চেয়ার ছাড়া হাঁটতেও পারেন না। তিনি চেয়ারে ঠিক মতো বসতে পারেন না। তাকে সাহায্য করতে হয় বিছানা থেকে উঠার জন্য। তারপরও এতোটুকু মনোবল তিনি হারাননি। এই মনোবল আমাদের মাঝে সঞ্চারিত করতে হবে, তরুণদের মাঝে সঞ্চারিত করতে হবে, যুবকদের মাঝে সঞ্চারিত করতে হবে এবং সেই সঞ্চারনের মধ্য দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে, আমাদের গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্ত করতে হবে-এটাই হোক আজকের দিনে আমাদের শপথ।
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের প্রতিহিংসার কারণে আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। একটা করুন অবস্থা, অস্বাভাবিক অবস্থায় দেশ চলছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। সেজন্য প্রথম দায়িত্ব গণতন্ত্রের মাতাকে আগে মুক্ত করা। আমি বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর আন্দোলন ছাড়া দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। সেজন্য সকল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
প্রকাশনা উৎসবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বইয়ের লেখক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ ও কবি আব্দুল হাই শিকদার উপস্থিত ছিলেন।
১৯৮১ সালে ৩০ মে এক সেনা বিদ্রোহে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি হাল ধরতে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। তার দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামী ইতিহাস এই গ্রন্থে নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ৮৬০ পৃষ্ঠার গ্রন্থের প্রকাশক বুক এভিনিউ। বইটি মূল্য ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্রন্থের সূচনাতে লেখক আবদুল হাই শিকদারের লেখা ‘খালেদা জ্যোতির্ময়ী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন কবি নাসিম আহমেদ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, কৃষিবিদ জিকে মোস্তাফিজুর রহমান, গৌতম চক্রবর্তী, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, শফিউল বারী বাবু, সেলিম রেজা হাবিব, মীর নেওয়াজ আলী, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুন রায় চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



 

Show all comments
  • abdul Basith ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:২৯ পিএম says : 0
    সরকারের লোভে পড়ে যদি শপথ গ্রহণ করেন তাহলে জাতির সাথে বেইমানি করা হবে 27 জন থেকে কিছু করতে পারেননি তো 6 জন গিয়ে কি করবেন আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করা কোনমতেই ঠিক হবে না
    Total Reply(0) Reply
  • Amir ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২৬ পিএম says : 0
    অবস্যই না, সপথ নিলে যে জনমতকে মর্যাদা দেওআ হয়!
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Kowaj Ali khan ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ৪:৫৫ এএম says : 0
    যাহারাই শফত নিয়েছে ওরা জাতীয় বেঈমান।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ