Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

তারেক রহমানের কোন অবৈধ অর্থ নেই- রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৪২ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোন অবৈধ অর্থ নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও তাদের আন্দোলনের ফসল’রা বারো বছর ধরে তন্নতন্ন করে খুঁজে তারেক রহমান এর অবৈধ সম্পদের কোন সন্ধান পায়নি। অথচ ঢালাওভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কত যে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে অপপ্রচার করেছে সেটির ইয়ত্তা নেই। এখন দুদক-কে দিয়ে আরেকটি কুৎসা রটনার নতুন অধ্যায় শুরু করলো। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে আইনসিদ্ধ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আদালতের হস্তক্ষেপের কোন এখতিয়ার নেই। সুতরাং বাংলাদেশে যে অপরাজনীতি চলছে, এটা তারই প্রতিফলন। জিয়া পরিবারের প্রতি সরকারের প্রতিহিংসার প্রতিফলন এটি।
শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের নামে যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে থাকা তিনটি হিসাব জব্দের নির্দেশের আদেশ করিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সরকারের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত একটি আদেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে৷ মিথ্যা সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে আটকে রাখা হয়েছে অন্যায়ভাবে। এখন বিএনপি-কে চাপে ফেলতে এই সরকার দুদক-কে দিয়ে একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা আবেদনের মাধ্যমে আদালতকে দিয়ে আদেশ করিয়েছে। এটি একটি আষাঢ়ে গল্প। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, তারেক রহমানের কোন অবৈধ অর্থ নেই। সেখানে তাঁর যা অর্থ আছে তা ইনল্যান্ড রেভিন্যুতে ট্যাক্সপেইড অর্থ। সেদেশে আইনের শাসন রয়েছে, সুতরাং সেখানে আনডিসক্লোজড মানি ট্র্যানজেকশন হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যেভাবে সুসংগঠিত হচ্ছে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সরকার ভীত হয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাল্পনিক মিথ্যা অভিযোগ সামনে এনেছে। কারণ এখন সরকার যা বলে নিম্ন আদালত তাই করে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আর যদি সরকারের নির্দেশ না মেনে কোন বিচারক ন্যায় বিচার করেন তাহলে তাদেরকে দেশ ছাড়তে হয়, যার উৎকৃষ্ট প্রমাণ বিচারক মোতাহার হোসেন ও প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।
রিজভী বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিনাশ ও তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার জন্য হেন কাজ নেই যা এই জনভিত্তিহীন করছে না। একদিকে তারা তাদের অনুগত কিছু পেইড মিডিয়া দিতে প্রতিদিন জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে হাইপার প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, অন্যদিকে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও কুৎসাই সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ও তিতিবিরক্ত।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান বারবার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করেনি। সরকার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাসহ কিছু বানোয়াট মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত দেখিয়েছে বিচার ও আইনের সকল নিয়ম কানুন লংঘন করে। এইসব মামলার এফআইআর বা চার্জশীটে তারেক রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এমনকি একজন আসামীকে ৪’শ দিনের অধিক রিমান্ডে মারপিট ও অত্যাচার করে অচেতন অবস্থায় একটি জবানবন্দী জোগাড় করলেও পরে তিনি কোর্টে তা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু আজ্ঞাবহ আদালত তা প্রত্যাহার না করে তারেক রহমানকে অভিযুক্ত দেখিয়ে বিচারের নামে প্রহসন করেছে। এমনকি অন্য একজনের ফিনান্সিয়াল মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত করতে চাইলে একটি আদালত তারেক রহমানকে নির্দোষ রায় দেয়। কিন্তু সেই রায় শেখ হাসিনার নির্দেশিত রায়ের বিপক্ষে যাওয়ায় বিচারককে শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে হয়। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ষোড়শ সংশোধনীর রায় মনোপুত না হওয়ায় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে তাকে অপমান অপদস্থ করে অস্ত্রের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন। এরপর বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার নামে যে দলীয় প্রভাবের বলয় তৈরী করা হয়েছে তা স্পষ্ট। সরকারের হুকুমের বাইরে গিয়ে কোনো বিচারকের ন্যায়বিচার করার সাহস এবং সুযোগ নেই।
সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছি, জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।’এবার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানায়। এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র- সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার-সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবার চেয়েছে, তাদের সেবা করার জন্য মানুষ ভোট দিয়েছে।’ অথচ প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যে গোরস্থানের লাশও খিলখিল করে হেসে উঠবে। মিডনাইট সরকারের লোকদেরও এখন লজ্জা শরম নেই। তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করতে লজ্জাবোধ হয়না। একাদশ সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত ও বিতর্কিত নির্বাচন। যে নির্বাচনে ভোটারদের দরকার পড়েনি। দরকার পড়েছে চতুস্পদী প্রাণীর। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন মিলে আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখে, ভোটের দিন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজ দুরে রাখা হয়েছিল সাধারণ ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়ার জন্য। সে নির্বাচনের দৃশ্য দেশি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কিভাবে ফোলাও করে প্রচারিত হয়েছে তা নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীনদের জানা থাকলেও এখন সেটি চেপে গিয়ে মুখস্থ মিথ্যা কথা বলছেন। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ তামাম গণতান্ত্রিক বিশ্বে সে নির্বাচন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সে মিডনাইট ভোটের নির্বাচনের প্রশংসা করা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।
রিজভী বলেন,আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বাড়লে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণকে কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি কেন ? গত নির্বাচনে কেন বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে গায়েবী মামলা দেয়া হয়েছিল ? কেন ধানের শীষের প্রার্থীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল ? আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন মিলে ব্যালটবাক্স ভর্তি করলো কেন ? একতরফা উপজেলা নির্বাচনে এখন ভোটাররা ভোট দিতে যায় না কেন ? প্রধানমন্ত্রী এর জবাব জনগণকে দিবেন কি ?



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ