Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আশুলিয়ায় অটোরিক্সা থেকে টোকেন নম্বর দিয়ে চাঁদা আদায়

সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:২৭ পিএম

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় টোকেন নম্বর দিয়ে অটোরিক্সা ও মাহেন্দ্র থেকে যুবলীগ নেতা কবির সরকার ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নরসিংহপুর থেকে কাসেমপুর এলাকা পর্যন্ত চলাচলরত বিভিন্ন অটোরিক্সা থেকে প্রতিদিন ১শত টাকা করে চাঁদায় আদায় করা হয়। এমনকি তাদের হাত থেকে বাদ যায়নি লেগুনা, মিনিবাস ও মাহেন্দ্র। এসব গাড়ী থেকেও প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুলিয়ার নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে কাসেমপুর পর্যন্ত ওই সড়কে দুইশতাধিক অটোরিক্সা চলাচল করে। প্রতিদিন এসব রিক্সা থেকে ৫০ টাকা ও মাসে ১শত টাকা করে চাঁদা আদায় করে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির সরকারের লোকজন। এমনকি আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল মহাসড়কে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে চলাচলরত দেড় শতাধিক মিনিবাস ও লেগুনাকে থেকেও প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় চালকদের।
এছাড়াও কাশেমপুর সড়ক দিয়ে চলাচল করে প্রায় অধর্শত মাহেন্দ্র। প্রতিদিন এসব মাহেন্দ্র থেকেও ১শ’ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এসব মাহেন্দ্র থেকে টাকা আদায়ের দায়িত্বে থাকা লাইন ম্যান বাবু। প্রতিটি মাহেন্দ্র থেকে ১শ’ টাকা করে আদায় করার পর দিন শেষে ওই টাকা স্থানীয় যুবলীগ নেতা আপেলের হাতে তুলে দেন তিনি। এছাড়াও প্রতি মাসে প্রতিটি মাহেন্দ্র থেকে জমা বাবদ ১২শ’ টাকা ও ভর্তির (সড়কে মাহেন্দ্র চালানোর অনুমতি) জন্য ৫হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও জানাগেছে।
আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন লেগুনা ও মিনিবাস থেকে জিপি বাবদ নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা আদায় করছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা বেলায়েত, রাসেল ও সোহেল।
এতে করে ওই এলাকার অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র, মিনিবাস ও লেগুনা থেকে মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাদা আদায় করা হচ্ছে।
লেগুনা চালক হান্নান বলেন, তিনি বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত লেগুনা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ এই এলাকায় লেগুনা চালিয়ে আসছেন। নরসংিহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে প্রতিদিন ৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। যুবলীগ নেতার লোক সোহেল এই টাকা আদায় করেন বলে তিনি জানান।
অটোরিক্সা চালক কবির ও মুকছেদ অভিযোগ করে বলেন, মাথা ঘাম পায়ে ফেলে অনেক কষ্টে অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। প্রতিদিন অটোরিক্সা চালিয়ে যে আয় হয় তাতে করে জমার টাকা দিয়ে সংসার চালাতে অনেক হিমশীম খেতে হয়। অথচ যুবলীগ নেতার লোকজন প্রতিদিন ৫০টাকা ও প্রতিমাসে ১শ’ টাকা করে জোরপূর্বক চাঁদা নিচ্ছেন।
একই অভিযোগ করে মনির ও জামান বলেন, যুবলীগ নেতার লোকজনকে টাকা দিলে তারা অটোরিক্সায় একটি টোকেন নম্বর লিখে দেয়। ওই টোকেন না থাকলে কেউ নরসিংহপুর-কাসেমপুর সড়কে অটো চালাতে পারে না। এছাড়াও টাকা না দিলে তাদের অটোরিক্সা আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
একাধিক অটোরিক্সা বলেন, যুবলীগ নেতার লোকজন স্থানীয় প্রভাবশালী। তাদেরকে নিয়মিত চাঁদা না দিলে অটোরিক্সা চালানোই বন্ধ করে দেয়। আর তাদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তো এলাকায় থাকা দায় হয়ে পরবে।
তবে এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আশুলিয়া


আরও
আরও পড়ুন