Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

ড. আল্লামা জসিম উদ্দীন নদভীর ইন্তেকালে ইসলামী উম্মাহ একটি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হারিয়েছে- কক্সবাজারে স্মরণসভায় বক্তারা

কক্সবাজার থেকে বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৯, ৭:৩৯ পিএম

ড. আল্লামা জসিম উদ্দীন নদভী বিদগ্ধ ইসলাম শিক্ষাবিদ ও উদার মনের মানুষ ছিলেন। অল্প সময়েই নিজের অবস্থান নিজেই তৈরী করেছিলেন। তিনি দারস-তাদরিসের পাশাপাশি দাওয়াত ও লিখনি দিয়ে মানুষকে হেদায়েতের পথে সর্বদা উদ্বুদ্ধ করেছেন। দেশের উন্নয়ন ও ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনের ছুটে চলেছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তার মৃত্যুতে বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়ার সহকারী পরিচালক আল্লামা ড. জসিম উদ্দীন নদভীর স্মরণসভার মুখ্য আলোচক চট্টগ্রাম বিশ্বিবদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মুফতি হুমায়ূন কবির খালভী এসব কথা বলেছেন।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট আরবী সাহিত্যিক আল্লামা ড. জসিম উদ্দিন ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধর আলেমেদ্বীন, আদর্শ শিক্ষক, একনিষ্ঠ সমাজহিতৈষী। আজীবন ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতির বিকাশধারায় নিবিষ্ট থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গিয়েছেন। ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সরব ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে ইসলামী অঙ্গনে একটি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হারিয়ে গেল।

কক্সবাজার জেলা হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব।
ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের সঞ্চালনায় শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকালে শহরের কলাতলী একটি আবাসিক হোটেলের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা সহ-সভাপতি, জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা ও কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান শামসুল হক শারেক, অর্থ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মুবিনুল হক, শহর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সায়েম হোসেন চৌধুরী, কক্সবাজার শহর নেজামে ইসলাম পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সাইফী, সাবেক ছাত্রনেতা মাওলানা মুহাম্মদ মুসা।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ইসলামিক স্কলার্স এর সদস্য ড. জসিম উদ্দিন নদভী স্বপরিবারে ওমরাহ পালন অবস্থায় ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের মক্কায় ইন্তেকাল করেন। অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত স্থান জান্নাতুল মোয়াল্লায় জসিম উদ্দীন নদভীকে চিরসমাহিত করা হয়। তিনি মহেশখালীর মাতারবাড়ীর বাসিন্দা।
গবেষক ও খ্যাতিমান মুসলিম ব্যক্তিত্ব ড. জসিম উদ্দিন নদভীর মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। সাংসারিক জীবনে মরহুম নদভীর স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলে ছিল। বড় মেয়ে জামাতাসহ সৌদি আরবে থাকেন।
মাতারবাড়ী রাজঘাট এলাকার মতো একটি অজপাড়া থেকে গিয়ে ১৯৯০ সালে ভারতের বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লক্ষ্ণৌ হতে দুই বছর মেয়াদি আরবী ভাষা সাহিত্যে কৃতিত্বের সাথে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে ‘নদভী’ উপাধি লাভ করেন।
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ‘কুল্লিয়াতুশ শরীয়াহ’তে ১৯৯৭ সালে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রী সমাপ্ত করেন। মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছুদিন পড়াশোনা করে ডিগ্রি নেন তিনি।
২০০৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ হতে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৭ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার পিএইচডির বিষয় ছিল ‘একবিংশ শতাব্দীতে ইসলামী দাওয়াতের পন্থা ও মাধ্যম’।
লিখক, গবেষক ড. জসিম আরবি সাহিত্যের শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সাহিত্য সংস্থা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-হকের সহ-সম্পাদক ছিলেন।
বাংলাদেশের বরেণ্য আলেমদের মাঝে তিনি একজন উদ্যমী ও স্বাপ্নিক মানুষ ছিলেন। আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তার মতো খ্যাতিমান ও চিন্তাশীল আলেমকে হারিয়ে মুসলিম উম্মাহ একজন নিষ্ঠাবান ও কর্মোচ্ছল ব্যক্তিকে হারালো।
মরহুম ড. জসিম উদ্দিন নদভী জামেয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক (অধ্যক্ষ) ও উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার আল্লামা সুলতান যওক নদভী-এর জামাতা। তিনি জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি গিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ