Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

গ্রীষ্মের শুরুতেই হাঁসফাঁস

হাসপাতালগুলোয় শিশু রোগীর চাপ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বৈশাখেই প্রথম সপ্তাহেই গ্রীষ্মের শুরুতে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের হাঁস-ফাঁস শুরু হয়ে গেছে। তীব্র দাবদাহে রাজধানী ঢাকায় মানুষ রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের ঠান্ডা পানি পান করে পিঁপাসা মেটানোর চেষ্টা করছে। রাজধানী ঢাকার সর্বত্রই এই চিত্র চোখে পড়ছে।
গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের অসুখ দেখা দিচ্ছে। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এসব শিশুর মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি। এছাড়া নিউমোনিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক শিশু। রাজধানী ঢাকার আইসিডিডিআরবিতে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তির চাপ বেড়ে গেছে।
বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই ডায়রিয়া রোগীর আকস্মিক চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর’বি) ও ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ দেশের অন্য হাসপাতালগুলো। এর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল সোমবার রেকর্ডসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছে আইসিডিডিআরবিতে। ওইদিন হাসপাতালটিতে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯১৮। এর আগের দুদিন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৯৫ ও ৮০৩। গত তিনদিনেও গড়ে প্রায় ৯০০ রোগী ভর্তি হয়েছে। আকস্মিক রোগীর চাপ বাড়ায় আইসিডিডিআর’বিতে টাঙানো হয়েছে অস্থায়ী তাঁবু। এখানে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর মধ্যে ৩০ শতাংশই শিশু।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই চিত্র রাজধানী ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালসহ দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শুধু শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে দেড় শতাধিক শিশু রোগী। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, জ্বর, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত নানা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছে তারা। রাজশাহী, রংপুর, বগুড়ায়ও একই চিত্র। গরমে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
চিকিৎসকরা জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শরীরে ঘাম শুকিয়ে গিয়ে সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আবার ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে গরমে বাইরের দূষিত পানি পান ও নষ্ট খাবার খাওয়াসহ নানা কারণে। গরমে ডায়রিয়ার ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া গরমে খাবারও দ্রæত নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাসি খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়। এ কারণে গরমে শিশুরা যাতে বিশুদ্ধ পানি পান করে, সতেজ খাবার খায় ও প্রতিবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেয়া এসব বিষয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
খুলনা শিশু হাসপাতালে গত দুই সপ্তাহে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ২৬০ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে শুধু ডায়রিয়াতেই আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১৫০। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে তিন শতাধিক শিশু। একই অবস্থা নগরীর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগেও। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ শিশু এখানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স ছয় মাস থেকে দেড় বছরের মধ্যে। খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। গরমে বুকে ঘাম বসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
তবে কিছুটা ভিন্ন চিত্র উত্তরবঙ্গের জেলা দিনাজপুর, লালমনির হাট, নিলফামারী ও ঠাকুরগাঁওয়ের। এখানে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কম। জেলাগুলোয় শিশু রোগীদের মধ্যে মূলত সর্দি-কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি বলে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা।
জানতে চাইলে সতর্কতামূলক পরামর্শ দিতে গিয়ে আইসিডিডিআরবি’র প্রধান অধ্যাপক ডা. আজহারুল ইসলাম খান বলেন, শিশুদের শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এজন্য পানি ফুটিয়ে খেতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাসপাতালগুলোয় ১ হাজার ২৭৩ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি ছিল। সব মিলিয়ে গত ৭ দিনে এ সংখ্যা ৩ হাজার ৫৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন