Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

পঞ্চগড়ে ইট ভাটার ধোঁয়ায় কয়েকশ’ বিঘা জমির ফসলাদি গাছপালা পুড়ে গেছে

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২২ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:১৬ পিএম

পঞ্চগড়ে দুইটি ইট ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় কয়েকশ’ বিঘা জমির ফসল পুড়ে গেছে। এছাড়া গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধ শতাধিক কৃষকের কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছে এসব কৃষক।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামের কে এস বি এবং বোদা উপজেলার মাড়েয়ার কমলাপুকুরীতে কে আর বি নামে একটি ইট ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় ফসলের ক্ষেত ছাড়াও আম, কাঠাল ও জলপাই গাছসহ পুড়ে গেছে বাঁশ ঝাড়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো ধান, বাদাম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য ক্ষেত ক্ষামার পুড়ে গেছে। ধোয়া বন্ধ হলেও বিষাক্ত রাসায়নিকের বিক্রিয়ায় এখনও নতুন ফসলের ক্ষেতসহ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৯ তারিখ রাতে কেএসবি ভাটায় ইট তৈরির কার্যক্রম এ বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল। বন্ধ করার সময় হঠাৎ ভাটার চিমনি দিয়ে বিষাক্ত এবং দুর্গন্ধযুক্ত ধোয়া বের হতে থাকে। রাতে ক্ষয়ক্ষতি বোঝা না গেলেও সকালে কৃষকরা দেখতে পান তাদের ক্ষেত খামার এবং রাস্তায় লাগনো গাছপালার পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে তারা লক্ষ্য করেন ফসলের ক্ষেতও পুড়ে যাচ্ছে। গাছপালার পাতা ও ফল ঝড়ে পড়ছে। এই বিষাক্ত ধোয়ায় শিমুল তলি, নয়নপাড়াসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নয়নপাড়া গ্রামের বাসন্তি রানী (৩৮) জানান, তার বাড়ির চারপাশের আম কাঁঠাল গাছের পাতা কুকড়ে গেছে। ফলগুলো ঝড়ে পড়েছে।
ফনিভূষণ চন্দ্র রায় (৫০) জানান, তার ২ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। জমি বন্ধক নিয়ে ২০ হাজার টাকা খরচ করে বোরে ধানের আবাদ করেছেন।
তিনি আরও বলেন,‘আমি শ্রমিক। কষ্ট করে টাকা জমিয়ে এই জমিটুকু বন্ধক নিয়ে বোরো ধান করেছি। আমার পুঁজি শেষ। আমি পথে বসে যাবো।’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
দন্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৪০ জন কৃষকের প্রায় দেড়শ’ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাটা মালিকের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া চলছে কেএসবি ভাটা। বন্ধের সময় বিষাক্ত ধোয়া নির্গমন হতে পারে এ সমন্ধে কোন ধারনা নেই কর্তৃপক্ষের। ভাটার মালিক জুয়েল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
কেএসবি ভাটার ম্যানেজার শামসুল হক জানান, তারা ২২ বছর ধরে ইট তৈরি করছেন। এরকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এবারই প্রথম।
সংক্রামক রাসায়নিক এই গ্যাস যাতে অন্য ফসলের ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে পুড়ে যাওয়া ফসলে পানি এবং ছত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম ইকবাল জানান, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার পাশাপাশি যাতে আর ক্ষতি না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের কমলা পুখুরীর জনবসতিপূর্ন গ্রামের আবাদী জমিতে গড়ে ওঠা কেঅরবি নামক ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় ওই এলাকার কয়েকশ জমির ফসল সহ কাঠাল গাছ,বাশ ঝাড় পুড়ে গেছে। ওই গ্রামের ইসমাইল, আঃ জলিল এর বাদাম ক্ষেত, ইউকিলিপটাস গাছ জ্বলে গেছে। মারুফ হোসেন, মমিনুর রহমান, সবুর মাষ্টারের জমির ফসলের একই অবস্থা। তবে ভাটার মালিক করিম জানান, তারা ফসলে স্প্রে করে দিচ্ছেন। ওই ভাটার ম্যানেজার জানান, ভাটার মিস্ত্রীর ভুলের কারনে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে যতটুকুন ক্ষতি হয়েছে, তা চেয়ে বেশি আর হবে না। এ ঘটনায় ভাটাটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দূষণ

৩০ এপ্রিল, ২০১৯
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ