Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

নয় মাস টেরই পাননি ক্লারা

নারীরা গর্ভবতী হওয়ার কথা না জেনেই সন্তান জন্ম দিচ্ছেন

ভাইস | প্রকাশের সময় : ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

২০১৬ সালে ২২ বছর বয়সে ক্লারার রহস্যময় গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে। গর্ভপাত হতে পারে বলে সে ভয় পাচ্ছিল। আর তখন সবে মাত্র সময় নয় মাস অতিক্রম করেছে। কারণ তার মনে পড়ে ওই সময় আগে কোনো একজনের সাথে শেষবার বিছানায় গিয়েছিল।
ক্লারা জানায়, নতুন চাকরি পেয়ে অফিসে যাবার প্রথম দিন সকালেই সে পিরিয়ডকালীন সময়ের মত মারাত্মক ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে। তার মা তাকে পেইন কিলার খেতে বলেন। এ জন্য অফিস কামাই করা দরকার নেই বলেও তিনি তাকে বলেন।
কিন্তু অফিসে যাওয়ার পর ক্লারার ব্যথা আরো প্রচন্ড হওয়ায় সে আগেভাগেই বাড়িতে চলে আসে। তার মা অফিসে চলে গিয়েছিলেন। তাই সে একাই ছিল বাড়িতে। ব্যথার জন্য রক্তক্ষরণ হতে থাকায় সে টয়লেটে যায়।
ক্লারা জানায়, আমি টয়লেটের ওপর বসেছিলাম। যেই উঠে দাঁড়িয়েছি তখনি জরায়ু কাত হয়ে মেয়েটি বের হয়ে আসে। কিন্তু সে টয়লেটের মধ্যে পড়ার আগেই আমি তাকে ধরে ফেলি। ক্লারা বলে, শিশুর দুই হাত আমি পায়ের মধ্যে ধরে রেখেছিলাম।
এ অবস্থায় সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে এক প্রতিবেশী সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। ক্লারা বলে, প্রতিবেশী এলে তাকে বলি যে আমার গর্ভপাত হয়েছে, আমার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। তিনি অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। ক্লারা বলে, চারজন প্যারামেডিকস এসে পৌঁছেন। তারা পৌঁছেই আমার ছোট্ট বাথরুমটিতে হাজির হন।
বাড়িতে আসা চারজনের মধ্যে তাদের মতে একজন ছিলেন মাতৃস্নেহ প্রবণ। আমি পাগলিনীর মত চিৎকার করছিলাম। তিনি আমাকে ধরে রাখেন। ব্যাপক রক্তপাত হয়েছিল। সব জায়গায় রক্ত ছড়িয়ে গিয়েছিল। অবস্থা এমন হয়েছিল যে টয়লেটটি পরিষ্কার করার জন্য কারো সাহায্য দরকার ছিল আমার। মা বাড়িতে এসে এ অবস্থা দেখলে আবার কি ঘটে কে জানে! ভাগ্য ভালো যে একজন প্যারামেডিক্স যতটা পারলেন, রক্ত ধুয়ে ফেললেন। এরপর হাসপাতালে নেয়া হয় ক্লারাকে।
এ গোটা সময়টাতে ক্লারার দেহেও গর্ভবতী হওয়ার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তার শারীরিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। সে বলে, আমি তখন এখনকার চেয়ে সিøম ছিলাম। পিরিয়ডের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটার আভাস মেলেনি। কারণ সে ৬ মাস ধরে কম্বিনেশন পিল খাচ্ছিল।
সে সময় একটানা পাঁচ মাস তার পিরিয়ড হয়নি। ক্লারা বলে, সামান্য কিছু রক্তপাত হত। তবে পূর্ণ পিরিয়ডের মত নয়। আমি অতটা গভীর ভাবে না ভেবে মনে করতাম পিরিয়ড তো ঠিক আছে। অতএব সব ঠিক আছে। ক্লারার মেয়ে এমেলিয়ার বয়স এখন তিন বছর।
ক্লারার কাহিনী যখন ডেইলি মেইল- এ প্রথম প্রকাশিত হল, তখন তার প্রতি ঘৃণামূলক নানা মন্তব্য দেখা যায়। পেটে বাচ্চা আসার ব্যাপারটি বুঝতে না পারার জন্য তাকে নির্বোধ বলা হয়। সে বলে, আসলেই এ ব্যাপারে আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই যা হয়েছিল তাই বলেছিলাম।
ক্লারা বলেন, আমি এর ফলাফল সম্পর্কে বা যিনি এ নিয়ে লিখবেন তিনি কিভাবে লিখবেন তা ভাবিনি। তাই আমি প্রচুর কটুকাটব্য শুনেছি। আমি ঠিক সময়েই মা হয়েছি। এমেলিয়া আসার আগে আমি ছিলাম এক ভাসমান মানুষ। আমার কোনো লক্ষ্য ছিল না। আমি এখন অবাক।
তুমি এখন কি করবে? ক্লারাকে এ প্রশ্ন করার পর জবাবে সে বলে, আমার ল’ ডিগ্রি আছে। কিন্তু কাজে লাগাইনি। এখন লাগাব। (নিবন্ধকার নানা বাহ ‘ভাইস’-এর প্রতিবেদক।)



 

Show all comments
  • Nasir ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:২৪ এএম says : 0
    ata o ki somovob ???????/
    Total Reply(0) Reply
  • Kabir ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:২৩ এএম says : 0
    বিষয়টি আসলেই আশ্চার্যের
    Total Reply(0) Reply
  • Laboni ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:২৩ এএম says : 0
    খবরটি পড়ে আসলেই আমি রীতিমত অবাক হলাম
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন