Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

উগ্রবাদী ওয়াহাবি গোষ্ঠীর জড়িত থাকার ইঙ্গিত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় এখনও কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ উগ্রবাদি গ্রুপগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছে। এক কর্মকর্তার দাবি, তারা ১০ দিন আগেই ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াতের হুমকির ব্যাপারে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলো। এই গ্রুপটি উগ্রবাদী ওয়াহাবি বলে জানা গেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, হুমকির তথ্য থাকার পরেও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। হামলার পর তাওহীদ জামায়াতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে তদন্ত কার্যক্রম। এ গোষ্ঠী খুব পরিচিত না হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ায় তারা জঙ্গিবাদী মতাদর্শ বহন করে। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুরের অভিযোগ থাকলেও সন্ত্রাসী হামলার কোনো প্রমাণ নেই। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রেমেসিংহে বলেন, ১০ দিন আগের হুমকির ব্যাপারে তিনি অবগত ছিলেন না। এটা গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা।
প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, সকালে যেসব হামলা হয়েছে, তা চালিয়েছে আত্মঘাতী হামলাকারীরা। কলম্বোর ডেইলি মিরর পত্রিকায় বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি চালিয়েছিল একটি চরমপন্থী গ্রুপ। তদন্তকারীদের সাথে কথা বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে, দুই ব্যক্তি ২০ এপ্রিল শানগ্রি-লা হোটেলের একটি কক্ষে ওঠে। ক্লোস সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সন্দেহভাজনেরা হোটেলের ক্যাফেটেরিয়া ও করিডোরে বিস্ফোরণ ঘটায়। তদন্তকারীরা ওই কক্ষে প্রবেশ করে উগ্রবাদীদের ব্যবহৃত সামগ্রীর সন্ধান পায় বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হামলাকারীরা স্থানীয় না টুরিস্ট ভিসায় আসা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী দলের তার খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। অনুসন্ধান অভিযানে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডেমাতাগোগার বোমা হামলার পর হামলাকারীদের সাথে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এরপর কাছের একটি বাড়ি থেকে দুজনকে আটক করা হয়।
ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন মন্ত্রী মানো গেনেশান টুইটে জানিয়েছেন যে, তার মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ কলম্বোর সন্দেহভাজন বোমা হামলা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিল। কিন্তু তার মন্ত্রণালয় এর পর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা তিনি জানাননি।
গত জানুয়ারিতে সানডে টাইমস অব শ্রীলঙ্কা দেশের বিভিন্ন অংশে ইসলামি চরমপন্থীদের তৎপরতা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এতে বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের কথাও বলা হয়েছিল। এতে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নয়, জাতীয় নিরাপত্তা হামলার হুমকির মুখে বলে বলা হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কায় ইসলামি চরমপন্থীরা হামলা করতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করেছিলেন যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সুনামহানির জন্য এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
গত বছর ও ২০১৪ সালের মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে মুসলিমরা আশঙ্কা করতেন, ইসলামি জঙ্গি গ্রুপগুলো শ্রীলঙ্কায় তৎপর রয়েছে, এমন খবরে মুসলিমবিরোধী গ্রুপগুলোর কাছে সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায় অরক্ষিত হয়ে পড়বে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন হামলাগুলোর সঙ্গে অমুসলিম উপাদানও জড়িত থাকতে পারে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল এবং মুসলিম ক্ষোভ চাঙ্গা করতে চায়। তারা আরো বলছেন, রোববারের হামলাটি প্রমাণ করছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে অনেক আপস করা হয়েছে এবং তেমন সতর্কতামূলক পন্থা গ্রহণ করা হয়নি।
গৃহযুদ্ধ অবসানের পর বদু বালা সেনা (বিবিএস) ও রাবন বালাকেয়ার মতো বৌদ্ধ উগ্রবাদী কয়েকটি গ্রুপের উত্থান ঘটে। তবে এসব গ্রুপ খ্রিস্টানদের ওপর দুই-একটি হামলা চালালেও তাদের প্রধান টার্গেট ছিল দেশের ১০ ভাগ মুসলিম সম্প্রদায়। শ্রীলঙ্কার মুসলিমেরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি মুসলিমদের সাথে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করছে, এমন গুঞ্জনে বিশ্বাসী হয়ে উঠছিল বৌদ্ধ গ্রুপগুলো। তবে গত কয়েক বছরে প্রকাশ পাচ্ছিল যে, শ্রীলঙ্কার মুসলিমেরা সিরিয়ার চরমপন্থী ইসলামি গ্রুপগুলোর সাথে যোগ দিচ্ছে। সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রীলঙ্কা

২৭ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ