Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

পবিত্র শবে বরাত পালিত

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রোববার দিবাগত রাতে মুসলমানদের সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে। এ রজনীতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদ, খানকা, বাসা-বাড়িতে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমান কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়, আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত, মিলাদ-মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ নফল রোজাও পালন করেছেন। এ রজনীতে মুসল্লিগণের ঠাঁই হয়নি মসজিদ, কবরস্থান মাজার, দরবার এবং রাজপথ ও সড়কে। এমনকি ফজরের নামাজের সময়েও মসজিদে মসজিদে এবং দরবার ও খানকায় নামাজের জামাতে ঠাঁই হয়নি মুসল্লিদের। মহাখালীস্থ মসজিদে গাউসুল আজমে ফজর নামাযের জামাতে অংশ নেয়া মুসল্লিদের ঠাঁই হয়নি মসজিদের ভেতরে। বিপুল মুসল্লি ও মহিলা মুসল্লি নির্ধারিত পৃথক পৃথক স্থানের বাইরের অঙ্গণে এবং পথের উপর অবস্থান নিয়ে জামাতে অংশ নিয়েছে। রাজধানীর বাইরে প্রায় সারাদেশেই ছিল রাত জেগে মুসল্লিদের এবাদত বন্দেগী।
মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, মহাখালিস্থ মসজিদুল গাউছুল আযম কমপ্লেক্সসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলে শামিল হয়েছেন। প্রায় সারারাতই রাজধানীর রাজপথ সড়ক অলিগলি ছিলো মুসল্লিদের পদভারে প্রকম্পিত। শবে বরাত উপলক্ষে সকল অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গতকাল সোমবার ছিলো সরকারি ছুটি। প্রিন্ট মিডিয়ায় রোববার ছিলো ছুটির দিন। এ জন্য গতকাল সোমবার কোনো পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি।
অনেকে রাতব্যাপী এবাদত, বন্দেগী, জিকির ছাড়াও এই পবিত্র রাতে মৃত বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করেছেন। পীর আউলিয়া মাজার-দরগাহ জিয়ারতের জন্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মুসল্লিরা মসজিদ ও কবরাস্থানের সামনে অবস্থান নেয়া গরীব মিসকিনদের টাকা-পয়সা দান করেন। মুসলমানদের বিশ্বাস, মহিমান্বিত এ রাতে মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের ভাগ্য অর্থাৎ তার নতুন বছরের ‘রিজিক’ নির্ধারণ করে থাকেন। এই রাতে আল্লাহ পাক বান্দার দিকে বিশেষ রহমতের নজরে তাকান। ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ্, না’ত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ রাতের আয়োজন শেষ হয়। এ বিশেষ দিন উপলক্ষে বিভিন্ন কনফেকশনারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আকারের এবং আকৃতির বনরুটি তেরী করে বিক্রি করেছে। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে এবারও পটকাবাজির জ্বালাতন ছিল না। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের সংবাদদাতারা জানান :
আইয়ুব আলী, চট্টগ্রাম থেকে: যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে। মহিমান্বিত রজনী শবে বরাত উপলক্ষে রোববার রাতে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের মসজিদ, দরগাহ, খানকাগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে। মুসল্লিদের অনেকে এশার আজানের আগেই চলে আসেন মসজিদে, ফজরের নামাজ শেষে বাসায় ফেরেন। বাড়তি মুসল্লিদের চাপ এড়াতে অনেক মসজিদের ছাদে, পাশের সড়কে, বারান্দায় শামিয়ানা টাঙিয়ে নামাজ আদায়ের জন্য জায়গা করা হয়। রাতভর নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। রাতে ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি পিতা-মাতার কবর জেয়ারত এবং পীর-আউলিয়াদের মাজার জেয়ারত করেন। বড় বড় মসজিদগুলোর সামনে বসে আতর, টুপি, সুরমা, জায়নামাজ, তসবিহ ও ধর্মীয় বই-পুস্তকের ভাসমান দোকান।
নগরীর জমিয়তুল ফালাহ, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, অলিখাঁ জামে মসজিদ, বহদ্দারহাট জামে মসজিদ, মুরাদপুর মসজিদে বেলাল, সিজিএস কলোনী জামে মসজিদ, জাম্বুরি ময়দান জামে মসজিদ, লালদীঘি জামে মসজিদ, শাহসুফি হযরত আমানত খান (রহ.) দরগাহ মসজিদস, গরীবুল্লাহ শাহ দরগাহ মসজিদ, হযরত মিসকিন শাহ দরগাহ মসজিদ, আলমগীর খানকা শরীফ, বায়েজিদ বোস্তামী জামে মসজিদ, পাঠানটুলী-চট্টেশ্বরাই গায়েবী মসজিদ, বদর শাহ মসজিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, আনোয়রা শাহ মোহছেন আউলিয়া মাজারসহ নগরী ও জেলার প্রতিটি মসজিদে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
শবে বরাত উপলক্ষে বড় বড় মসজিদগুলোতে করা হয় আলোকসজ্জা। ধর্মপ্রাণ মানুষ শবে বরাতে রোজা রাখেন। অনেকে এ উপলক্ষে তিনদিন নফল রোজা রাখেন। বিভিন্ন মসজিদে শবে বরাতের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল ব্যুরো : যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার সাথে বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পবিত্র লাইলাতুল বরাত-শবেবরাত পালিত হয়েছে। শবেবরাতের রাতে প্রতিটি মসজিদে ছিল মসুল্লীদের ভীড়। রাতভর মসজিদে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীগণ নামাজ, জিকির, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদসহ বিভিন্ন এবাদত বন্দেগীতে অতিবাহত করেন। শবে বরাত উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মুসুল্লীদের উপস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে।
বরিশালে জামে এবাদল্লাহ মসজিদে মহানগরীর সর্ববৃহৎ এশা জামাতে বিপুল সংখ্যক মুসুল্লী অংশ নেন। এশা নামাজ শেষে এখানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও মিলাদ মাহফিলেও বিপুল সংখ্যক মসুল্লীয়ান শরিক হন। শবে বরাত উপলক্ষে নিকটজনের রুহের মাগফিরাত কামনায় বরিশালের কেন্দ্রীয় মুসলিম গোরস্থানে রাতভর কবর জিয়ারত করেন।
এদিকে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে হাজার-হাজার জাকেরান ও আশেকান রাতভর এবাদত বন্দেগীতে অংশ নেন। রবিবার মাগরিব নামাজ থেকেই এ দরবার শরিফে শবে বরাতের এবাদত বন্দেগী শুরু হয়। সমবেত জাকেরান ও আশেকানবৃন্দ ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় ছাড়াও রাতভর নফল নামাজ আদায়, জিকির, পবিত্র কোরআন তোলাওয়াত, মোরাকাবা-মোশাহেদা এবং ফাতেহা শরিফ ও খতম শরিফ আদায় করেন।
পাবনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার : পাবনায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে। পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কাচারী মসজিদ, আরিফপুর জামে মসজিদ, গরিবুল্লাহ জামে মসজিদ, চাপা বিবি জামে মসজিদ, খলিফা পট্টি জামে মসজিদ, আল হেলাল মসজিদ, খাদিজাতুল কুবরা(রা) জামে মসজিদ, শালগাড়িয়া ঈদগাহ মসজিদ, শিবরামপুর নতুন বাঁশ বাজার জামে মসজিদসহ শহরের সকল মসজিদে মাগরিবের নামাজ থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ভীড় বাড়তে থাকে । বাদ মাগরিব শবে বরাতের ফজিলত নিয়ে ইমামগণ আলোচনা করেন। পরে দেশও জাতির এবং মুসলিশ উম্মাহ’র শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এশার নামাজের পর মুসল্লীরা নফল ইবাদত-বন্দেগী করেন। এ ছাড়াও অনেকে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাড়িতে ইবাদত-বন্দেগী করেন।
এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান থেকে: রাউজানের ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকায় বিভিন্ন মসজিদ খানকা দরবারে যথাযোগ্য মর্যদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে। সারারাত নামাজ কোরআন তেলোয়াত জিকির মিলাদ মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি মুসল্লিরা অতিবাহিত করেন। ডাবুয়া আমির চৌধুরী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত শবে বরাতের মাহফিলে তকরির পেশ করেন ঐ মসজিদের খতিব মাওলানা এম বেলাল উদ্দিন।
এছাড়া উত্তরসর্তা দরগাহ বাজার হযরত আবদুল কাদের জিলানী (ও) আস্তানা পাক,হযরত এয়াছিন শাহ (রহ),হযরত আবদুল গফুর মাস্টার শাহ্ (রহ),হযরত এজাবত উল্লাহ শাহ (রহ),হযরত গফুর আলী বোস্তামী (রহ),হযরত মুছা শাহ (রহ),হযরত ছুফি নুরুল হক শাহ (রহ),হযরত আকবর শাহ (রহ), হযরত আলী হোসেন ফকির শাহ (রহ),বটপুকুরিয়া হযরত নজির আহমদ শাহ (রহ),হযরত সৈয়দ আশরাফ শাহ,আবু শাহ,আব্দুল আজিজ শাহ,আবদুল জব্বার শাহ (রহ),হযরত হারেছ শাহ (রহ),হযরত চাঁদ শাহ (রহ),হযরত মুহাম্মদ শাহ কেবলায়ে আলম (রহ),হযরত বাহারুল্লাহ শাহ (রহ),হযরত রহিম উল্লাহ,কলিম উল্লাহ শাহ (রহ) সহ প্রতিটি মাজারে শত শত মুসল্লিগন জিয়ারতে শামিল হন। উত্তর সর্তা দরগাহ জামে মসজিদ,গাউছে পাকের আস্তানা,মাদ্রাসাসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে গত এক সাপ্তাহ আগে থেকে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সজ্জিত করা হয়। দরগাহ বাজার জামে মসজিদে তকরির ও আখেরী মোনাজাত করেন মসজিদের খতিব ও চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া মহিলা মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক আলহাজ্ব আল্লামা সেলিম উদ্দিন রেজভী (ম,জি,আ)। এছাড়া গর্জনীয়া দরবারে আখেরী মোনাজাত করেন গর্জনীয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল আল্লামা আহসান হাবীব (ম.জি.আ)।
বাগেরহাট জেলা সংবাদদাতা : মুসল্লিদের ভিড়ে অনেক মসজিদে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। রাতভর মুসল্লিরা নফল নামায,কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির, আসকার ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে সৌভাগ্যের এই রজনী পালন করছেন। এই পবিত্র রাতে মুসলমানরা বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করেছেন।
মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া খায়ের অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে অনেক মসজিদে মিলাদের পর তাবারক বিতরণ করা হয়।
এদিকে রোববার দিনগত রাতভর ঐতিহাসকি ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলী (রহ) এর মাজার ও মসজিদে ভক্তদের উপচে পড়া ভীড় ছিল। মাজারে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের পক্ষ থেকে সকল ভক্তদের জন্য তবারক বিতরণ করা হয়।
গাবতলী (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা: গাবতলী সোনারায়ের পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে পবিত্র শব-ই-বরাত উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ, মতিয়ার রহমান মতি, ডা. আশরাফুল ইসলাম রাজু, জালাল উদ্দিন, মর্জিনা বেগম, শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, জাহানারা বেগম, মনিকা বেগম, মমতাজ বেগম, আকতার বানুসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সকল শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমূখ। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাও. একরামুল হক।



 

Show all comments
  • Foysal Ahmed ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১১:০৮ এএম says : 0
    alhamdulilla..
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন