Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ঢাবি ক্যাম্পাসে ইস্ট-ওয়েস্টের ছাত্রী ইভটিজিংয়ের শিকার

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার সময় এক চেয়ারম্যান কর্তৃক অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট-ওয়েস্টের দুই ছাত্রী। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে গণধোলাই দেয় শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম (৪৭)। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা ছুটির দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আড্ডা দিতে এসে ইভটিজিংয়ের শিকার হন, কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে ওই ইভটিজারকে কেন মারধর করা হলো সে কথা বলে ইভটিজারকে ছেড়ে দিয়ে উল্টো ছাত্রীদের পুলিশের কাছে তুলে দেয় এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। অভিযোগকারীরা হলেন- ফারিহা মাহমুদ রুমী, নাফিয়া সাদেকা মম এবং নাইম মাহমুদ রুমী। তারা তিনজনই একই ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে নাইম চতুর্থ বর্ষ ও বাকি দুইজন ৩য় বর্ষে পড়েন।
অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২ জন ছাত্রীসহ ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সির ৩ শিক্ষার্থী ছুটির দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরতে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে লক্ষ করে অনেকক্ষণ যাবত গোপন অঙ্গ নাড়তে থাকেন। পরে তাদের মধ্যে ফারিহা বিষয়টি বুঝতে পারলে তার পাশের বান্ধবীকে বিষয়টি বলেন। পরে তারা তিনজন বসা থেকে দাঁড়ালে তাজুল আস্তে আস্তে টিএসসি গেটের দিকে হাঁটতে থাকেন। এরপর তাজুলকে থামাতে ওই তিন শিক্ষার্থী টিএসসির গেটম্যান কিরণকে ইশারা দিলে সে দৌড় দিলে টিএসসির সামনে তাকে ধরা হয়। সেখানে এ তিনজন শিক্ষার্থী অভিযুক্ত তাজুল ইসলামকে মারধর করেন।
পরে তাজুল ইসলাম তার এলাকার পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমন নামে ছাত্রলীগের এক সাবেক সহ-সভাপতিকে জানান। এর কিছুক্ষণ পর সুমন কিছু লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এর আগেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাজুল ইসলাম এবং ওই শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। পরে রিয়াজ উদ্দিন সুমনও ওই দুই ছাত্রীর থেকে ঘটনাটি শুনেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা সবাইকে থানায় নিয়ে যেতে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের বলেন। এরপর প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিয়ে যান। সেখানে তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেয়া হলেও সুমন অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যানকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম বলেন, আমি আমার এলাকার এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে দেখা করে টিএসসিতে আসি। টিএসসিতে দাঁড়িয়ে প্যান্টের পকেটে হাত রেখে ফোনে কথা বলতেছি। কথা শেষে টিএসসির বাইরের দিকে এগোলে তারা পেছন থেকে আমাকে ডেকে মারধর করেন। তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা সত্য নয়। ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমন বলেন, ওই লোক আমার এলাকার। তিনি একজন চেয়ারম্যান, সম্মানিত ব্যক্তি। তার নামে তিন শিক্ষার্থী যে অভিযোগ করেছে তা সত্য-মিথ্যা কতটুকু জানি না। তারা তাকে মারধর করে খুবই খারাপ করেছে। এ জন্যই তাদের পুলিশে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিকেলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, একজন ছাত্রসহ দু’জন ছাত্রীকে থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে আমি এখনও থানার বাইরে থাকায় কী অভিযোগে সোপর্দ করা হয়েছে তা জানি না।
সন্ধ্যা ৭টায় শাহবাগ থানা থেকে ছাড়া পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাফিয়া সাদেকা মম বলেন, আমরা ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার পরও আমাদের উল্টো পুলিশের কাছে দেয়া হলো কিন্তু লোকটিকে ছেড়ে দেয়া হয়। রাত হয়ে যাচ্ছে বাসায় ফিরতে দেরি হবে তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ না করে চলে আসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. গোলাম রব্বানী এ বিষয়ে ইনকিলাবকে বলেন, টিএসসিতে যে ঘটনা ঘটেছে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের। তাই আমরা বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে পুলিশের হাতে তুলে দেই। পরে পুলিশ তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংস করে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ