Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

দেশে রাজনৈতিক সামাজিক সঙ্কট বিরাজ করছে

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সহিষ্ণুতা, সহাবস্থান ও সমন্বয় বাংলার ধর্মীয় সামাজিক সংস্কৃতির মুখ্য উপাদান। আগত সকল ধর্মকেই বাংলা নিজের আর্যপূর্ব মানসিকতা দিয়ে সিক্ত করেছিল। আর সেই মানসিকতায় প্রাধান্য লাভ করেছিল মানবতা, উদারতা ও সাম্যভাবনা।
গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ধর্মীয় বহুত্ববাদ : প্রাক-ঔপনিবেশিক বাংলায়’ শীর্ষক বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো ড. আবদুল মমিন চৌধুরী। জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের আয়োজিত ‘গুণীজন বক্তৃতামালা’র দ্বিতীয় পর্বের এটি ছিল প্রথম বক্তৃতা। অর্থনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদ ড. আকবর আলি খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আহরার আহমদ।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান বলেছেন, ধর্মীয় বহুত্ববাদ গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিরোধী মনোভাবকে অবশ্যই সহ্য করতে হবে। দেশে এখন রাজনৈতিক সামাজিক সঙ্কট বিরাজ করছে। সে প্রেক্ষাপতে এটা এখন অনেক প্রয়োজন। সহনশীলতা প্রয়োজন। একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ শাসন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী মতবাদকে সহ্য করার বহুত্ববাদ অনেক কারণে আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতাবাধে বিশ্বাস করে। আমরা দেশে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ প্রতিষ্টা করতে চাই। ধর্মীয় নিরপেক্ষতাবাদের জন্য সবার আগে প্রয়োজন ধর্মীয় বহুত্ববাধ। এ বহুত্ববাদ আমাদের শিক্ষা দেয় সমাজে সকলকে সহনশীল হতে হবে। যারা আমাদের সাথে মতের সাথে যারা একমত নয়, আমদের তাদেরকে সহ্য করতে হবে।
দীর্ঘ বক্তৃতায় আবদুল মমিন চৌধুরী বলেন, উপমহাদেশে ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও সমন্বয়ের ইতিহাস অনেক পুরনো। আর্যদের আগমনের ফলে স্থানীয় এবং বহিরাগত সংস্কৃতির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং তার ফলে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে আর্য এবং অনার্য উভয়ের ধর্মে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এখান থেকেই বাংলার ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কৃতিতে ‘সমন্বয়’ প্রক্রিয়া বিশেষ স্থান অধিকার করে নেয়। এই ‘সমন্বয়’ই কালক্রমে পরিণত হয় বাংলার ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কৃতির বিশেষ ঐতিহ্যে।
তিনি আরো বলেন, বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে বাংলা গড়ে তুলেছিল নিজের মতো করে। ফলে, বৈদিক ধর্মে অনুপ্রবেশ ঘটেছিল বহু লৌকিক দেব-দেবীর। বৌদ্ধ ধর্মের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের। বাংলার সংস্কৃতিতে যে উদার সাম্য-ভাবনা আর মানবতার আদর্শ প্রাচীন যুগে সৃষ্টি হয়েছিল, তা ইসলামের প্রতি বাংলার মানুষের আকর্ষণের একটি বিশেষ কারণ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলার শাসকরাও ছিলেন ধর্মীয় উদারতা ও বহুত্ববাদের পৃষ্ঠপোষক। অধুনা আবিষ্কৃত বৈন্যগুপ্তের তা¤্রশাসনে দেখা যায়, শৈব রাজাগণ ব্রাহ্মণ্য-বিরোধী আজীবিকদের ভূমিদান করেছিল। বাংলার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল শাসকরা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বী সুলতানরা হিন্দু ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। এমনকি ব্রাহ্মণদের বিরোধিতা সত্তে¡ও চৈতন্যকে নব্য-বৈষ্ণববাদ প্রচারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন সুলতান আলাউদ্দীন হুসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯ সা.অব্দ)।
বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ায় ইতিহাসের রাজনৈতিক অপব্যবহার সম্পর্কে বক্তা বলেন, বর্তমানে শুধু বাংলাদেশ নয়; বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াতেই একটা প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে যে, অতীতকে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা চলছে বিভিন্ন ধ্যান-ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে। রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য বর্তমানের ধ্যানধারণা অতীতের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ