Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

প্রথম বিস্ফোরণে বাঁচলেও দ্বিতীয়টিতে প্রাণ গেল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:১০ এএম, ২৪ এপ্রিল, ২০১৯

দুই কিশোর-কিশোরী ভাই-বোন শ্রীলঙ্কায় এক বোমা বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিস্ফোরণেই মারা যান তারা। যেন পরের বিস্ফোরণে মৃত্যুর জন্যেই তারা প্রথমটি থেকে বেঁচে যান।
ড্যানিয়েল লিনসের বয়স ১৯। তার ছোট বোন অ্যামেলির সবে ১৫। কলম্বো থেকে বাড়ি ফেরার ফ্লাইট ধরার আগে বাবা ম্যাথিওয়ের সঙ্গে সাংগ্রী-লা হোটেলেই ছিলেন। এই হোটেলে বোমা হামলার পর তারা কোনোভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় ছিলেন তারা। কিন্তু দ্বিতীয় বিস্ফোরণেই প্রাণ হারায় এই ভাই-বোন।
তারা দু’জন লাশের বিশাল মিছিলে সামিল হয়েছেন। সেখানে মোট ৬ জন ব্রিটিশের প্রাণ গেছে। দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ছুটি কাটাতে এসে এমন ঘটনায় বিধ্বস্ত বাবা মিলসে। তার বয়স ৬১। আমেরিকায় সিটি ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। হৃদয় ছেড়া অনুভ‚তি নিয়ে ব্রিটেনে স্ত্রী এবং অন্য দুই পুত্রের কাছে ফিরে গেছেন তিনি। তার অন্য দুই পুত্রের একজনের বয়স ১২ এবং অন্যজনের ২১।
টাইমসকে এই পিতা জানান, আপনি এ ঘটনার বর্ণনা দিতে পারবেন না। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করছিল। আমি বাচ্চাদের সাথে ছিলাম। বিস্ফোরণের পর আমি জানতাম না তাদের কী অবস্থা হয়েছে। পুরো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। আমার মনে ভয় ছিল আবারো বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আমি ওদের নিয়ে দৌড় দেই। আরেকটা বিস্ফোরণ ঘটে। আমরা লিফটের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তারা দু’জনই পড়ে গেছে। তাদের তুলতে পারিনি। ছেলেটার অবস্থা মেয়েটার চেয়ে খারাপ দেখলাম। আমি তাদের তোলার চেষ্টা করি। এক নারী বললেন, তিনি আমার মেয়েটিকে নেবেন। আমি ছেলেটাকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকলাম। একটা অ্যাম্বুলেন্স পেয়ে যাই। তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। আমার মনে হয়েছিল মেয়েটার অবস্থা কিছুটা হলেও ভালো। কিন্তু তারা দু’জনই চলে গেলো।
তিনি সংবাদপত্রকে আরো বলেন, ড্যানিয়েল ওয়েস্টমিনিস্টার কিংসওয়ে কলেজের শিক্ষার্থী। এই শরতেই তার ম্যানচেস্টার কিংবা লেসিস্টার ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছে ছিল। ইথিওপিয়ার অনাথদের এবং মঙ্গোলিয়ার নোমাডদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেকে কাজের ইচ্ছেও ছিল তার। আর অ্যামেলি ছিল গোডোলফিন এবং লেটিমার স্কুলের শিক্ষার্থী। তারা দু’জনই ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট ছিল। ঘুরে-বেড়াতে ভালোবাসত। সম্প্রতি ভিয়েতনাম ভ্রমণ করে আসে অ্যামেলি। ইস্টারের ছুটির শেষ দিনটাই কাটাচ্ছিলেন তারা। এরপরই বাড়ি ফিরতেন। প্রথম বিস্ফোরণের সময় তারা নাস্তা করছিলেন।
ব্রিটেনের বসবাসরত আরেক ভাই জানান, দ্বিতীয় বিস্ফোরণের সময় তারা দু’জন জ্ঞান হারায়। সেই জ্ঞান আর ফেরেনি। এ ঘটনায় আমার বাবা একেবারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি এখন আমাদের নিয়ে মানসিকভাবে শক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। লিনসে নিজেও আহত হয়েছেন। তার মুখে কাটাছেঁড়া রয়েছে। যে বিস্ফোরণে দুই সন্তান মারা গেলো, সেই একই বিস্ফোরণে লিনসে বেঁচে গেছেন। এটা বেশ অদ্ভূত বিষয় বলেই মনে করছেন তার স্বজনরা। তবুও তো ফিরেছেন। সূত্র : ডেইলি মেইল।



 

Show all comments
  • Jổý Măllíčk ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
    may god bless them
    Total Reply(0) Reply
  • Arifun Nahar ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
    Manus ki manuser jibon kere nite pare? Agulo janower
    Total Reply(0) Reply
  • Smaranika Chakma Chaitra ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
    মানুষ হিংস্র জানোয়ার থেকে ও খারাপ।
    Total Reply(0) Reply
  • Ratna Chowdhoury ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
    মানুষের মতো হিংস্র প্রাণী কোন পশু হতে পারে না।
    Total Reply(0) Reply
  • MisHkat RoHan ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 1
    ভারত যতদিন বাংলাদেশের বন্ধু ততদিন এ দেশ শংকামুক্ত নয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Shaek Sane ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 1
    শ্রীলংকার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো বলেছেন, "হামলাকারীদের আমি মুসলিমই বলবো না। এদেশের সাধারণ মুসলিমরা অত্যন্ত সজ্জন এবং অন্য সব সম্প্রদায়ের সাথে তারা সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করেন।"
    Total Reply(0) Reply
  • রবিউল আলম গাজী বাপ্পি ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
    ধর্মীয় জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ কিভাবে পৃথিবী থেকে নির্মূল করতে হয় তা শেখ হাসিনার কাজ থেকে বিশ্বনেতাদের শিখা উচিৎ।
    Total Reply(0) Reply
  • Fatin Estiuck Efty ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১:৩৬ এএম says : 0
    সন্ত্রাসীরা কোন ধর্মের না। কোন ধর্মই সন্ত্রাসকে সাই দেয় না। তাই কেউ না বুঝে মন্তব্য করবেন না। যারা অন্যায় ভাবে মানুষ হত্যা করে তাদের সবার ঘৃণা করা, উচিত। কিন্তু তার জন্য সেই দায়ী, তার পরিবার বা সম্প্রদায় দায়ী নয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Rafiqul Islam ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৮:৩৮ পিএম says : 0
    Oh Allah please give punishment who are inbolved with attaked done in srilanka.I couldnot take the pain in my heart of sufferings of my brother died in srilanka attack.Please Allah give punishment the terrors involved with srilanka attack please Allah please.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রীলঙ্কা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ