Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

হামলা সম্পর্কে আগেই হঁশিয়ারি দেয়া হয়েছিল

নিউ ইয়র্ক টাইমস | প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

গোপন নিরাপত্তা মেমোতে সবই ছিল। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং একজন সন্দেহভাজনের মধ্যরাতে তার স্ত্রীর সাথে দেখা করতে আসার সময় পর্যন্ত। গত রোববারের ভয়াবহ আত্মঘাতী সিরিজ বোমা হামলার আগের দিনগুলোতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্বল্প পরিচিত উগ্রপন্থী সংগঠন ন্যাশনাল তওহিদ জামাতের (এনটিজে) একটি গোপন সেলের দিকে তীক্ষ্ন নজর রাখছিল। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এখন বলছেন যে তারাই এ হামলা করেছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গত ১১ এপ্রিল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য দেয় যে এনটিজে ক্যাথলিক গির্জাগুলোর উপর হামলার পরিকল্পনা করছে। এর এক সপ্তাহ আগে ভারত এ গ্রুপের হামলার ব্যাপারে তাদের হুঁশিয়ারি দেয়। আর শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা কর্মকর্তরা জানুয়ারিতে জানতেন যে দেশের উগ্রপন্থীরা অস্ত্রশস্ত্র ও বোমা জড়ো করছে।
তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী ২৪ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে। তারা বলে, গ্রুপটি কোথা থেকে কাজ করছে তারা জানে ও তাদের নিরাপদ আস্তানাগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কেন বোমা হামলার আগে ব্যবস্থা নিতে পারল না এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা গোয়েন্দাদের তথ্যগুলো সম্পর্কে জানতে পারলেন না? এসব এক বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে ও শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। তাদের ভেতরকার দলাদলিই এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পরদিন গত সোমবার কয়েকজন মন্ত্রী হামলার পূর্বেকার হুঁশিয়ারি মতে ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সমালোচনা করেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করেন। বিচারমন্ত্রী রউফ হাকিম বলেন, যা ঘটেছে তার জন্য আমরা লজ্জিত। যদি ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নাম জানা গিয়ে থাকে তাহলে তাদের গ্রেফতার করা হল না কেন? তিনি এটাকে গোয়েন্দা বিভাগের মারাত্মক ব্যর্থতা বলে আখ্যায়িত করেন।
কয়েকজন মন্ত্রী জাতীয় পুলিশ প্রধানকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সিনিয়র উপদেষ্টা শিরাল লাকথিলাকা কোনো নিরাপত্তা ঘাটতির কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে এনটিজের হামলার হঁশিয়ারি শুধু ভিআইপি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
শ্রীলঙ্কার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতও ৪ এপ্রিল এনটিজে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছিল। ভারত গোটা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে আল কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের কোনো তৎপরতা মনিটর করে।
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কয়েক মাসের দ্ব›েদ্বর প্রেক্ষিতে গত বছর রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। মনে হয়, প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্রিফিং বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই প্রধামন্ত্রী আসন্ন হামলা সম্পর্কে জানতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কায় আগে কোনো বৌদ্ধ-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষু জঙ্গি হয়ে ওঠে। তারা তাদের অনুসারীদের মুসলমান লোকজন, মসজিদ ও কসাইখানাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাতে প্ররোচিত করে। এ সময় সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করে বৌদ্ধ জনতাকে দায়মুক্তি দেয়। ২০১৪ সালে বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গায় ৩ জন নিহত ও বহু আহত হয়। এর জবাবে কিছু মুসলিম উগ্রপন্থী গ্রুপে যোগ দেয়। ২০১৫ সালে এনটিজে গ্রুপ আত্মপ্রকাশ করে।
গত ১১ এপ্রিলে নিরাপত্তা মেমো অনুযায়ী এনটিজে নেতা মোহাম্মদ জাহারান কয়েকদিন থেকেই নজরদারিতে ছিলেন। শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার গ্রুপ কিংবা মিত্র গ্রুপকে গত বছরের ডিসেম্বরে বৌদ্ধ মুর্তির উপর হামলা চালানোর মত গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী করেন। এই হামলার তদন্ত করতে গিয়ে উত্তরপশ্চিম শ্রীলঙ্কার এক খামারে পুলিশ ১শ’ কেজি বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, তার, রাইফেল, বুলেট, শুকনো খাবার ও ধর্র্মীয় প্রচারপত্র পায়। কর্মকর্তারা তখন থেকে বলে আসছিলেন যে এগুলো এনটিজের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, এনটিজে নিজে থেকে এ বোমা হামলা চালিয়েছে বলে মন হয় না।
লন্ডনে সন্ত্রাস বিরোধী গবেষণা গ্রুপ ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক ডায়লগ- এ শ্রীলঙ্কার সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ অমরনাথ অমরসিংহম বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও ও হামলার ধরন দেখে আমার সন্দেহ যে বাইরের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এ হামলা করা হয়েছে। স্থানীয় উগ্রপন্থী গ্রুপগুলোর গির্জা ও পর্যটকদের উপর হামলা চালানোর কোনো কারণ নেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রীলঙ্কা


আরও
আরও পড়ুন