Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৯ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

দরকষাকষির দৃষ্টান্ত আ.লীগের, বিএনপির নয়

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অগণতান্ত্রিক সরকারের সাথে দরকষাকষি ও দেন-দরবারের ঐতিহ্য আওয়ামী লীগের আছে, বিএনপি’র নয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন-খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দরকষাকষি বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বলেছেন-৩০ এপ্রিলের মধ্যে জানা যাবে বিএনপি থাকবে কি থাকবে না। তিনি আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হিসেবেই জনগণের নিকট প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তিনি কখনোই কোন অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি, কোন স্বৈরাচারের কাছেই আত্মসমর্পণ করেননি। দরকষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে সেটি আওয়ামী নেতারা নিজেরাই জানেন, আর না জানলে আপনাদের নেত্রীকে জিজ্ঞেস করুন। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এরশাদের নির্বাচনে যে যাবে সে জাতীয় বেঈমান হবে বলে আপনার (আওয়ামী লীগ) নেত্রী দরকষাকষি করে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জাতীয় বেঈমানের মুকুট তিনি নিজেই নিজের মাথায় পরে ক্ষমতার হালুয়া-মোরব্বার ভাগ পেয়েছিলেন। কিভাবে একটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করে ক্ষমতায় এসেছিলেন সেটিও নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। মনে রাখতে হবে- অগণতান্ত্রিক সরকারের সাথে দরকষাকষি ও দেন-দরবারের ঐতিহ্য আওয়ামী লীগের, বিএনপি’র নয়।
খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা ইতিহাসে কলঙ্কজনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়া আজ শেখ হাসিনার কারাগারে বন্দী। দেশের প্রতিটি মানুষ জানে এবং বিশ্বাস করে খালেদা জিয়া নির্দোষ। দেশ থেকে আইনের শাসনকে সমাহিত করে পুলিশী শাসন কায়েম করা হয়েছে। আর এই অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির আশা-ভরসার প্রতীক বেগম জিয়াকে আটকে রেখে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যাবে না।
বর্তমানে সমাজে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ইতিহাসে সর্বকালের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বাসের যাত্রী, গৃহবধু, মা-বোনসহ সমাজে এখন আর কেউ নিরাপদ নয়। ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের কারনে বর্তমানে সামাজিক ভায়োলেন্স এতো তীব্র হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে ‘সোশ্যাল ফ্রেব্রিক’ ভেঙ্গে গেছে। রাজনীতিকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে নির্বাসনে। এই বিভৎস সামাজিক নৈরাজ্য ভোটারবিহীন সরকার, মধ্যরাতের সরকার, একদলীয় সরকার ও জবাবদিহিহীন সরকারের সর্বব্যাপী গুম-খুন-গুপ্তহত্যা-নির্বিচারের মামলা ও গ্রেফতারের কারণেই বিস্তার লাভ করেছে। কারণ সমাজবিরোধীরা সরকারী দলের আনুকূল্যে মানুষের সহায়-সম্পত্তি দখলের ধারাবাহিকতায় নারীদেরকেও দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নীরব, অথবা এদের মদদদাতা হিসেবে কাজ করছে, অথবা নিজেরাই অপকর্মে মেতে উঠেছে।
গোটা রাষ্ট্রকাঠামোই এখন ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিন নৈরাজ্যের এই কাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে হেডলাইন হয়ে। আর এজন্য দায়ী অবৈধ মিডনাইট সরকার।
বর্তমানে সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ধর্ষণ-নারী নির্যাতন-খুন-দখল ও গুমের উৎসবে মেতে উঠেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, এইসব অপকর্ম করে নির্বিঘ্ন রাখার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জোর করে বন্দী রেখে বিনা চিকিৎসায় প্রাণনাশের চেষ্টা চলছে। তাঁকে পিজি হাসপাতালে রাখা হলেও উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। শেখ হাসিনার নির্দেশ মতোই তাকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াসহ আটক সকল বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শাহিদা রফিক, নাজমুল হক নান্নু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমূখ। #



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ