Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

মির্জাপুরে ভুল তথ্যে সংবাদ প্রকাশ, প্রশাসনে তোলপাড়

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ৮:৪৩ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভুল তথ্য দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বুধবার ‘মির্জাপুর নয়াপাড়া প্রা.স্কুল, শ্রেণীকক্ষ সংকটে মাঠে পাঠদান’ শিরোনামে উপজেলার ভাওড়া নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যা সম্পর্কিত ওই সচিত্র সংবাদটি প্রকাশিত হয়।
খবরটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের নজরে আসলে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে বুধবার সকালে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মালেক ও উপজেলা শিক্ষা আলমগীর হোসেন বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান। তবে তাঁরা প্রকাশিত খবরের কোন সত্যতা পাননি বলে জানান।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৬৮ সালে ১ একর ৮৭ শতাংশ জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। একটি একতলা পাকা ভবনে তিনটি শ্রেণীকক্ষ ও একটি টিনশেড ঘর রয়েছে। পাঁচজন শিক্ষকের জন্য পাকা ভবনটিতে রয়েছে একটি অফিস কক্ষ। বিদ্যালয়টিতে দুই শিফটে পাঠদান হয়। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির এবং দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান হয়। সরকারের ১ঃ৪০ অনুপাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের যে নিয়ম রয়েছে সে অনুযায়ী বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষের কোন সংকট নেই বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
জানা গেছে, দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষার্থীদের ক্লাস দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে স্কুলে আসে। তাদের মধ্যে অনেক বিদ্যালয়ের ভবনের পাশে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেয়। আবার অনেকে হোমওয়ার্ক করে। শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্ক করার সময় ছবি তুলে কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেন। ওই ছবি দেখে একটি জাতীয় দৈনিকের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিবেদক প্রতিবেদনটি লেখেন। যা বুধবার প্রকাশিত হয়।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস চলছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুসফিকা, সূর্য্য মন্ডল, রুদ্র মন্ডল, সায়মা ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত ও সীমার সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, গাছ তলায় তাদের কোন ক্লাস হয় না। নিয়মিত পাকা ভবনেই তাদের ক্লাস হয়ে থাকে। তবে সাড়ে বারোটার আগে আসলে গাছ তলায় বসে তারা অনেক সময় হোমওয়ার্ক কওে থাকে বলে জানায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ মিয়া বলেন, ওই প্রতিবেদনে তার বক্তব্য প্রকাশ করা হলেও কোন সাংবাদিক তার সঙ্গে কথা বলেননি। পত্রিকাটিতে কিভাবে মনগড়া ওই প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে তাতে তিনি বিস্মিত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মালেক বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় সারাদেশে শিক্ষাখাতে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মির্জাপুরও তার বাইরে নয়। কিন্ত দেশের একটি দায়িত্বশীল জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কিভাবে এরকম একটি মনগড়া সংবাদ প্রকাশ হলো তা বোধগম্য নয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জাপুর


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ