Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

দক্ষিণাঞ্চলের নদী বন্দরে ২নং সতর্ক সংকেত জারি

অনধিক ৬৫ ফুটের সব যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ

প্রকাশের সময় : ২৫ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বরিশাল ব্যুরো ঃ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বিদায়ের ৪৮ঘন্টার মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে তাপমাত্রার পারদ পুনরায় ৩৪ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে গেলেও গতকাল দুপুরে একদফা মৃদু কালবৈশাখীর তা-বে জনজীবন আবারো অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। এসময় বজ্রপাতে বরিশাল মহানগরীর সিকদার পাড়া এলাকায় এক স্কুল ছাত্র মারা যায়। 

গতকাল দুপুরে সর্বোচ্চ ৩৮কিলোমিটার বেগের বাতাসের সাথে ৩০মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে বরিশাল মহানগরীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলেই বিদ্যুৎ সরবারহ বিপর্যস্ত হয়ে পরে। তবে আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখেই বিদ্যুৎ বিভাগ আগাম সতর্কতা হিসেবে সরবারহ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। সন্ধার আগে আর নগরীর বেশীরভাগ এলাকাতেই সে বিদ্যুৎ ফেরেনি। সন্ধায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্তই বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকা যুড়ে মেঘর মাঝারী গর্জনের সাথে হালকা বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বেসরকারি ইউএস এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট বরিশাল বিমান বন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বিমান বাংলাদেশেরও একটি ফ্লাইট বরিশাল বিমানবন্দরে প্রায় দেড় ঘন্টা আটকে ছিল।
এদিকে, বরিশাল মহানগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তাওসিক সিকদার (১২)। গতকাল দুপুরের বিকট শব্দের বজ্রপাতে মারা যায়। নগরীর নবগ্রাম রোডের সিকদারপাড়া এলাকায় মনির সিকদারের ছেলে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বাসার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে মারাত্মকভাবে ঝলসে যাবার পরে স্বজনেরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তবে দুপর ৩টার পরে ঘন্টাকাল ব্যপী কাল বৈশাখীর তা-বে তাপমাত্রার পারদ এক লাফে ১০ডিগ্রী সেলসিয়াস হৃাস পেয়ে ২৪ডিগী সেলসিয়াসে স্থির হয়। অপরদিকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সকটি নদী বন্দরে ২নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। ফলে অনধিক ৬৫ফুট দৈর্ঘের সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযানের চলাচল পুনরায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গা সহ দেশের কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গতকাল বেলা বাড়ার সাথেই রোদের তীব্রতার সাথে ভ্যপসা গরমে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনে চরম অস্বস্তি নেমে আসে। একপর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৪ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যাবার কিছুক্ষণের মধ্যেই আকষ্মিকভাবে উত্তর-পূর্ব দিগন্ত কালো মেঘে ছেয়ে যায়। সাড়ে ৩টার মধ্যেই মৃদু তীব্রতার কালবৈশাখীতে তাপমাত্রার পারদ ১০ডিগী সেলসিয়াস হৃাস পেলেও মাঝারী বর্ষণে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তিও নেমে আসে সবার মাঝে। তবে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে স্বস্তির সাথে বিড়ম্বনাও বাড়ে কিছুটা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ